সে রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের দীর্ঘদিনের না বলা যন্ত্রণা প্রকাশ করেছিলেন খোদ দেবলীনা। জানান, ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়লেও বাইরে সবসময় ভালো থাকার অভিনয় করে গিয়েছেন। সেই চাপ একসময় ভয়াবহ আকার নেয়।

শেষ আপডেট: 5 January 2026 15:58
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: গায়িকা দেবলীনা নন্দী—যাঁর কণ্ঠের মাধুর্য আর প্রাণখোলা হাসিতে বারবার মুগ্ধ হয়েছেন শ্রোতারা—তাঁর জীবন যে এতটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেননি। মঞ্চের আলো, সাফল্য আর সোশ্যাল মিডিয়ার হাসিমুখের আড়ালে জমে উঠেছিল গভীর মানসিক চাপ। আর তার জেরেই নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন দেবলীনা। চরম মুহূর্তের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে সবটা খোলসা করেন তিনি। নাহ, এদিন ছিল না আর কোনও হাসি মুখ। ছিল না কোনও আনন্দের মুহূর্তের পোস্ট। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিনি ভালো নেই। আর তার কিছুক্ষণ পরেই খবর মেলে তিনি হাসপাতালে।
ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিজেকে শেষ করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ডাক্তারের চেষ্টায় তাঁকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। দেবলীনার বন্ধু অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে দেবলীনার অনুরাগীদের আস্বস্ত করেন। জানান বিপদমুক্ত দেবলীনা। বন্ধুর এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেনি তিনি। দেবলীনার লড়াইয়ের কথা শেয়ার করে নেন সকলের সঙ্গে। দ্য ওয়াল সায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এখন ভালো আছে দেবলীনা। পরিবারের তরফ থেকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’
সে রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের দীর্ঘদিনের না বলা যন্ত্রণা প্রকাশ করেছিলেন খোদ দেবলীনা। জানান, ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়লেও বাইরে সবসময় ভালো থাকার অভিনয় করে গিয়েছেন। সেই চাপ একসময় ভয়াবহ আকার নেয়। বর্তমানে দেবলীনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন অনুরাগী ও সহকর্মীরা।
তবে লাইভে গায়িকা জানান, বিয়ের পর পরই স্বামীর পরিবারের দিক থেকে লাগাতার মানসিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছিল তাঁকে। তাঁর অভিযোগ, একাধিক বিষয়ে তাঁকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড় করানো হয়, এমনকি সংসার ও নিজের মায়ের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
শুধু তাই নয়, দেবলীনার গানের কেরিয়ার নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরিবার ও পেশা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনের সঙ্গে যুক্ত হয় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির চাপ। লাইভে এসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন মেয়েদের ক্ষেত্রেই বারবার এই ত্যাগের প্রত্যাশা করা হয় এবং বিয়ের পর কেন মেয়েদের বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বকে অগ্রাহ্য করা হয়।
দেবলীনার মাকে নিয়ে করা ‘কুমন্তব্য’ ও ‘খারাপ আচরণ’ তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে বলেও জানান দেবলীনা। যাঁর লড়াই আর ত্যাগের জোরেই আজ তাঁর সাফল্য, সেই মাকে কোনও অবস্থাতেই ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন না—এ কথাও স্পষ্ট করেন তিনি।
আবেগঘন স্বীকারোক্তিতে দেবলীনা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের কষ্ট লুকিয়ে রেখেছিলেন। ভাল থাকার ভান করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। সেই সীমা একসময় অতিক্রম করে যায়।
এই মুহূর্তে দেবলিনার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাই সবচেয়ে বড় বিষয়। তাঁর অনুরাগীরা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।