অমিতাভ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবার মুখে এই লোকধারার ছোঁয়াযুক্ত কবিতা শুনতেন। পরে সেই কবিতার ভাব ও পংক্তি থেকেই তৈরি হয় ‘রং বরসে’—যা পরবর্তীকালে হোলির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

শেষ আপডেট: 3 March 2026 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোলির গান মানেই রঙ, আবেগ আর উচ্ছ্বাস—আর সেই তালিকায় চিরকালই শীর্ষে থাকে দু’টি অমর সুর, ‘রং বরসে’ এবং ‘হোলি খেলেন রঘুবীরা আওধ মে’। এই দুই গানের পেছনের গল্প একসময় নিজেই শোনালেন বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন। তাঁর কথায়, এই গান শুধু সিনেমার অংশ নয়, বরং “আমার বাবার উত্তরাধিকার।”
‘রং বরসে’: পর্দার গান, ঘরের স্মৃতি
১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Silsila ছবিতে ‘রং বরসে’ গানে নেচে-গেয়ে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন অমিতাভ। তবে অনেকেই জানেন না, গানের কথাগুলির শিকড় রয়েছে তাঁর বাবা, বিশিষ্ট কবি হরিবংশ রাই বচ্চন-এর লেখায়। অমিতাভ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবার মুখে এই লোকধারার ছোঁয়াযুক্ত কবিতা শুনতেন। পরে সেই কবিতার ভাব ও পংক্তি থেকেই তৈরি হয় ‘রং বরসে’—যা পরবর্তীকালে হোলির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।
গানটি কেবল পর্দায় জনপ্রিয় হয়নি, বাস্তব জীবনেও বচ্চন পরিবারের হোলি উদ্যাপনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। অমিতাভের কণ্ঠে গাওয়া এই গান আজও উৎসবের মরশুমে সর্বত্র বেজে ওঠে।
‘হোলি খেলেন রঘুবীরা’: ঐতিহ্যের আরেক অধ্যায়
২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Baghban ছবিতে ‘হোলি খেলেন রঘুবীরা আওধ মে’ গানটিও একইভাবে সাড়া ফেলেছিল। এখানেও লোকগীতির আবহ, গ্রাম্য রঙ আর পারিবারিক আবেগের মিশেল ছিল স্পষ্ট। অমিতাভের মতে, এই গানগুলোর মধ্যে দিয়ে তিনি যেন বাবার সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছেন।
তিনি স্পষ্টই বলেছিলেন, “এটা শুধু একটা গান নয়, এটা আমার বাবার লিগ্যাসি।” তাঁর কাছে হোলির সুর মানে কেবল রঙের উচ্ছ্বাস নয়—বরং পরিবার, সংস্কৃতি আর শিকড়ের সঙ্গে গভীর যোগসূত্র।
উত্তরাধিকার থেকে উৎসব
বলিউডে অসংখ্য হোলি গান তৈরি হয়েছে, কিন্তু ‘রং বরসে’ ও ‘হোলি খেলেন রঘুবীরা’ আজও আলাদা জায়গা ধরে রেখেছে। তার বড় কারণ, এই গানগুলোর ভেতরে রয়েছে ব্যক্তিগত ইতিহাস ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যের ছাপ।
অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠে সেই উত্তরাধিকার নতুন প্রাণ পেয়েছে। তাই এই গানগুলো শুধু উৎসবের প্লেলিস্ট নয়—এগুলো এক পরিবারের সাংস্কৃতিক স্মৃতি, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলেছে রঙের মতোই উজ্জ্বল হয়ে।