প্রাক্তন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার (Social Media Influencer), অভিনেতা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান সঞ্চালনার (Host) করা হর্ষা গতবছর মহাকুম্ভে (Maha Kumbh 2025) চলে আসেন একেবারে সাধ্বী রূপে।

নর্মদা নদীতে ডুব দিয়ে সন্ন্যাস ধর্ম ত্যাগ করলেন সাধ্বী হর্ষা রিছারিয়া।
শেষ আপডেট: 14 January 2026 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti) উপলক্ষে বুধবার সকালে জব্বলপুরে (Jabalpur) নর্মদা নদীতে (Narmada River) ডুব দিয়ে সন্ন্যাস ধর্ম ত্যাগ করলেন সাধ্বী হর্ষা রিছারিয়া (Sadhvi Harsha Richhariya)। প্রাক্তন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার (Social Media Influencer), অভিনেতা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান সঞ্চালনার (Host) করা হর্ষা গতবছর মহাকুম্ভে (Maha Kumbh 2025) চলে আসেন একেবারে সাধ্বী রূপে। ভাইরাল সাধ্বী অথবা মোস্ট বিউটিফুল সাধ্বী হিসেবে তাঁর মহাকুম্ভে উপস্থিতি সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে। আচার্য মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী শ্রীকৈলাসনন্দ গিরির আখড়ায় দিনরাত ভজন-কীর্তনের পাশাপাশি মিডিয়ায় কথাবার্তা ও স্বঘোষিত সাধ্বীসঙ্ঘের প্রধান হওয়া নিয়ে আখড়ার সঙ্গে তাঁর তখন থেকেই বিরোধ শুরু হয়। এদিন সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে ফের পুনর্জন্ম নিলেন হর্ষা রিছারিয়া (Harsha Richhariya)। খুব শীঘ্রই তাঁকে দেখা যাবে নতুন বেশভূষায়, পুরনো ছন্দে।
এদিন নর্মদা ঘাটে দাঁড়িয়ে হর্ষা তাঁর ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, ধর্মের পথে এসে সনাতন ধর্মের প্রচার ও প্রসারের কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, আখড়ার ভিতরের পরিবেশই অত্যন্ত কলুষিত। তাই তার থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে চান। নিজের ব্লগে নিজেকে সনাতন ধর্মের শেরনি বলে প্রচার করা হর্ষা আরও বলেন, মহাকুম্ভ থেকে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, তা তিনি শুরু করেননি। তিনি একটি চক্রান্তের শিকার। তাই তিনি আর ওই জগতে থাকতে চান না। যে কারণে তিনি হর্ষা রিছারিয়া নামে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, সেই গ্ল্যাম-দুনিয়ায় অন্তত এ রকম পরিবেশ নেই। সকলেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মা নর্মদা আমায় ডেকে নিয়েছেন। আমি এখানে প্রায় ৮ বছর পর পুণ্যস্নান সারলাম। আরজি কর আন্দোলনে হাতে মোমবাতি নিয়ে মিছিল করা হর্ষার কথায়, যেখানে প্রতিটি জাতি এগিয়ে যেতে চাইছে, সেখানে হিন্দুদের কোনও অগ্রগতি নেই। তারা তা দেখতেও চায় না। অন্যের ভাল দেখতে পারে না। এই সমাজের মনোবৃত্তি অনেক দুর্বল।
এর আগে একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তিনি বলেছেন, প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভে যে কাহিনির সূচনা হয়েছিল, এবার তা শেষ হতে চলেছে। আমি ক্রমাগত বিরোধিতার মুখে পড়েছি। একের পর এক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। আমি কিছু ভুল কাজ করিনি। আমি যা করেছি তা ধর্মের প্রদর্শিত পথে চলেছি। কিন্তু, আমাকে পদে পদে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমার মনোবল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমি তো আর সীতা নই। যাঁকে একের পর এক অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছিল। তাই আমি সাধ্বীর পথ পরিত্যাগ করতে চলেছি।