২০২৬ সালে মকর সংক্রান্তির তারিখ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি— সংক্রান্তি পালিত হবে ১৪ জানুয়ারি, না কি ১৫ জানুয়ারি? কারণ, বিভিন্ন পঞ্জিকায় সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশের সময় ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে সূর্য ধনু রাশি ত্যাগ করে মকর রাশিতে প্রবেশ করবেন।
শেষ আপডেট: 14 January 2026 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দু ধর্মে মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti) অত্যন্ত পুণ্য ও শুভ তিথি হিসেবে বিবেচিত। গঙ্গাস্নান, দান ও নানা ধর্মীয় আচার এই দিনে বিশেষ ফলদায়ক বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। তবে ২০২৬ সালে মকর সংক্রান্তির তারিখ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি— সংক্রান্তি পালিত হবে ১৪ জানুয়ারি, না কি ১৫ জানুয়ারি? কারণ, বিভিন্ন পঞ্জিকায় সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশের সময় ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে দেশের বিশিষ্ট জ্যোতিষী ও ধর্মগুরুর মতামত সামনে এসেছে।
প্রখ্যাত জ্যোতিষী ও সাধু স্বামী ইন্দুভবানন্দ তীর্থজি মহারাজ জানান, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে সূর্য ধনু রাশি ত্যাগ করে মকর রাশিতে প্রবেশ করবেন। রাত ৯টা ৩৯ মিনিটে সূর্যের রাশি পরিবর্তন হবে। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্য রাশি পরিবর্তনের পরবর্তী সময়েই মকর সংক্রান্তি পালিত হয়। শাস্ত্র মতে, রাত্রিকালে সূর্য গোচর হলে, তার পুণ্যকাল পরের দিনে গণ্য হয়। সেই কারণে স্নান ও দান–পুণ্যের মূল দিন হবে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬।
বিশিষ্ট ভাগবত কিঙ্কর পণ্ডিত হৃদেশ শাস্ত্রী জানান, ১৪ জানুয়ারিতেই সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করলেও ওই দিন ষটতিলা একাদশী থাকায় চাল দান নিষিদ্ধ। এই কারণেই প্রয়াগরাজের মাঘমেলায় উপস্থিত সকল বিদ্বান ও ধর্মগুরুদের সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে— ১৫ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তির মূল পালন দিবস।
তিনি আরও বলেন, সূর্য একবার মকর রাশিতে প্রবেশ করলে পুরো এক মাস সেখানে অবস্থান করেন। তাই খিচুড়ি দান, খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণসহ মকর সংক্রান্তি সম্পর্কিত সব ধর্মীয় কর্ম ১৫ জানুয়ারি ২০২৬-এই করা হবে।
স্বামী ইন্দুভবানন্দ মহারাজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী,
যখন সূর্য প্রদোষকাল বা মধ্যরাতে রাশি পরিবর্তন করেন, তখন সংক্রান্তির স্নান ও দান সর্বদা পরের দিন অনুষ্ঠিত হয়। শাস্ত্র মতে, যিনি মকর সংক্রান্তিতে স্নান করেন না, তিনি সাতজন্ম দারিদ্র্যের শিকার হন। এই কারণেই গঙ্গাস্নানকে এই দিনে রোগ, শোক, দুঃখ ও দুর্ভাগ্য নাশের শ্রেষ্ঠ উপায় বলা হয়েছে।
মকর সংক্রান্তির দিনে নিম্নলিখিত দান বিশেষ পুণ্যদায়ক—
বিশ্বাস করা হয়, তিলের গাভী দানে অক্ষয় সুখ ও সৌভাগ্য লাভ হয়।
পঞ্জিকা অনুযায়ী—
অতএব, যাঁরা চান, তাঁরা দুই দিনেই স্নান ও দান করতে পারেন। তবে পূর্ণ ধর্মীয় ফল লাভের জন্য ১৫ জানুয়ারিকেই প্রধান দিন হিসেবে মান্যতা দিচ্ছেন অধিকাংশ জ্যোতিষী ও ধর্মগুরু।