এই বাড়িতেই রয়েছে সেই শিব মন্দির যেখানে পুজো করার পরে ভুবনেশ্বরীদেবীর কোল আলো করে এসেছিলেন নরেন্দ্রনাথ, মায়ের আদরের বিলে।

শেষ আপডেট: 7 January 2026 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো : এই বাড়িতেই রয়েছে সেই শিব মন্দির যেখানে পুজো করার পরে ভুবনেশ্বরীদেবীর কোল আলো করে এসেছিলেন নরেন্দ্রনাথ, মায়ের আদরের বিলে। রয়েছে সেই আঁতুর ঘরও। এই বাড়িরই কোনও ঘরে ছেলের দুষ্টুমি সামাল দিতে পাগলপাড়া ভুবনেশ্বরী দেবী ছোট্ট নরেনের মাথায় জল ঢেলে বিলাপ করে বলতেন, "হায় আমি শিবের কাছে ছেলে চেয়েছিলাম, আর তিনি আস্ত একটা ভূতকে পাঠিয়েছেন।"
একটু বড় হতেই এই বাড়িরই একটি ঘরে বাবার কাছে আসা বিভিন্ন জাতের মক্কেলদের জন্য রাখা আলাদা আলাদা হুঁকোগুলিতে মুখ দিয়ে কীভাবে জাত যায় দেখতে বসেছিলেন ডানপিটে নরেন। বিশ্বসভায় ভারতকে তুলে ধরা স্বামী বিবেকানন্দের ছেলেবেলার হাজার স্মৃতি নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে তাঁর ভিটে।
স্বামীজীর (Swamiji) এই পৈত্রিক ভিটেতেই গড়ে উঠেছে একটি সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র। তৈরি হয়েছে মিউজিয়ামও। স্বামীজীর আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে এই চর্চাকেন্দ্রে চলছে গণিত প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন ভাষা প্রশিক্ষণ-সহ আরও নানা কর্মকাণ্ড। কিন্তু এখন জায়গার অভাবে প্রতিমুহূর্তে বাধা পেতে হচ্ছে বলে জানান রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দের (Ramkrishna Mission Vivekananda) পৈত্রিক আবাস ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্পাদক স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ।
তিনি জানান, শুধু জায়গা বাড়ানোই নয়, আশ্রমের পরিবেশ রক্ষা করাও খুব জরুরি। এই ভবন সংলগ্ন বাড়িগুলির মালিকদের অনেকেই তাঁদের সম্পত্তি মিশনের কাছে বিক্রি করে দিতে আগ্রহী। কিন্তু এর জন্য যে পরিমাণ টাকা লাগবে, বা পরবর্তীতে সেখানে নতুন ভবন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও একমাত্র ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা এগিয়ে এলেই তা জোগাড় করা সম্ভব। তাঁর কথায়, "বহিরাগত কেউ আশ্রম সংলগ্ন এই সম্পত্তি কিনে নিলে তা ভবিষ্যতে আশ্রমের পরিবেশ নষ্টের কারণ হতে পারে। তাই টাকার সংস্থান হলে এখনই স্বল্পমূল্যে এই সমস্ত বাড়িগুলি কিনে সেবাকাজ জারি রাখতে চাই আমরা।"