শেষমেশ এল সেই মুহূর্তের প্রতীক্ষিত ঝলক। মুক্তি পেল ZEE5-এ বাংলার নতুন ক্রাইম অরিজিনাল সিরিজ ‘গণশত্রু’-র ট্রেলার।

দেখুন ফার্স্ট লুক।
শেষ আপডেট: 18 October 2025 17:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষমেশ এল সেই মুহূর্তের প্রতীক্ষিত ঝলক। মুক্তি পেল ZEE5-এ বাংলার নতুন ক্রাইম অরিজিনাল সিরিজ ‘গণশত্রু’-র ট্রেলার। প্রকাশের পর থেকেই ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রহস্য, রক্ত, আর বাস্তবের ভিতর থেকে উঠে আসা ভয়ঙ্কর গল্প—সব মিলিয়ে যেন এক ঘন অন্ধকারের কাব্য, যেখানে আলো বলতে শুধু অপরাধের জ্বলন্ত সত্য।
ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন পাওলি দাম, রুদ্রনীল ঘোষ, আয়ুষ দাস, দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায় এবং সুব্রত দত্ত। তাঁদের প্রত্যেকেই রূপ দিয়েছেন এমন কিছু চরিত্রকে, যাদের নাম ইতিহাসে অপরাধের কালো অক্ষরে লেখা।
পাঁচটি শিহরণ-জাগানো বাস্তব জীবনের গল্পের উপর দাঁড়িয়ে তৈরি ‘গণশত্রু’—যেখানে দেখা যাবে কীভাবে সাধারণ, নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষ সমাজের অন্ধকার কোণে দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছে ভয়ঙ্কর অপরাধী হিসেবে। একদিকে টানবে বেঁচে থাকার লড়াই, অন্যদিকে লোভ, প্রতিশোধ আর ক্ষমতার মোহ—এই দ্বন্দ্বের গল্পই ‘গণশত্রু’।
এই সিরিজে পাওলি দাম হচ্ছেন ‘ত্রৈলোক্য দেবী’—ভারতের প্রথম নারী সিরিয়াল কিলার, যিনি একসময় ছিলেন এক ব্রাহ্মণ বিধবা, পরে সমাজের অবমাননা আর টাকার লোভে পরিণত হন নিষ্ঠুর খুনিতে। রুদ্রনীল ঘোষকে দেখা যাবে ‘হুব্বা শ্যামল’-এর চরিত্রে—রাজনৈতিক প্রভাবে তৈরি এক আন্ডারওয়ার্ল্ড কিংপিন হিসেবে।

<strong>‘</strong><em><strong>ত্রৈলোক্য দেবী’</strong></em>—পাওলি দাম
আয়ুষ দাস রূপ দিচ্ছেন তরুণ অথচ বিপজ্জনক অপরাধী ‘সজল বারুই’-এর। দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায় হচ্ছেন ‘চেন ম্যান’, যিনি শ্বাসরোধ করে একের পর এক নারীকে হত্যা করেছিলেন। আর সুব্রত দত্ত ফিরিয়ে আনছেন ‘রশিদ খান’-এর স্মৃতি, যাঁর নেতৃত্বে ঘটে গিয়েছিল কলকাতার ভয়ঙ্কর ১৯৯৩ সালের বউবাজার বিস্ফোরণ।
জি ফাইভ বাংলার বিজনেস হেড, রুশা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা সবসময় এমন গল্প বলতে চাই, যা সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত, কিন্তু উপস্থাপনায় সাহসী। গণশত্রু আমাদের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রজেক্ট—যেখানে সত্যি আর কল্পনার মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে বাংলার অপরাধ ইতিহাসের এক সিনেম্যাটিক দলিল। শক্তিশালী কাস্ট ও মেধাবী পরিচালকদের হাত ধরে, আমরা বিশ্বাস করি এই সিরিজ দর্শকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেবে।”
![]() <em><strong> ‘সজল বারুই’</strong></em><strong>—</strong>আয়ুষ দাস | ![]() <em><strong> ‘চেন ম্যান’</strong></em>—দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায় |
অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও ভাগ করে নিলেন তাঁদের অভিজ্ঞতা। যেমন পাওলি দামের কথায়, “ত্রৈলোক্য দেবী চরিত্রে অভিনয় করা কঠিন অথচ এক গভীর অভিজ্ঞতা। এক নারী, যিনি সমাজের অবমাননা থেকে উঠে এসে অপরাধে নিজের পরিচয় খুঁজে পান—এই বাস্তবতাকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য প্রতিটি দৃশ্য ভীষণ যত্ন নিয়ে তৈরি হয়েছে।”
রুদ্রনীল ঘোষ জানালেন, “হুব্বা শ্যামল এমন এক চরিত্র, যার জাঁকজমক ও নির্মমতা দুই-ই মুগ্ধ করে। সে অপরাধ করেও বেঁচে গিয়েছিল। ‘গণশত্রু’-র প্রতিটি এপিসোডই বাস্তবতার সঙ্গে মিশে আছে এমনভাবে যে দর্শক চরিত্রগুলিকে অনুভব করবেন।”
“সজল বারুই ছিল তরুণ, কিন্তু তীক্ষ্ণ ও বিপজ্জনক। পরিচালক শমীক রায় চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে আমি চেষ্টা করেছি তাঁর মনস্তত্ত্বের গভীরে ঢুকে এই চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে।”বললেন আয়ুষ।
![]() <em><strong>‘হুব্বা শ্যামল’</strong></em>—রুদ্রনীল ঘোষ | ![]() <em><strong> ‘রশিদ খান</strong></em>’—সুব্রত দত্ত |
দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায় বললেন, “চেন ম্যান চরিত্রটি এমন এক দিক দেখায়, যেখানে মানুষের গোপন আকাঙ্ক্ষা কেমন করে বিকৃত হয়ে হিংসায় পরিণত হয়। এই চরিত্রে অভিনয় ছিল আমার কাছে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা।”
সুব্রত দত্ত জানালেন, “রশিদ খান, যিনি কলকাতাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন এক বিস্ফোরণে—তাঁর মধ্যে লুকিয়ে ছিল এক নির্মমতার ইতিহাস। আমরা চেষ্টা করেছি বাস্তব তথ্য ও চরিত্রগুলির সত্যতা অক্ষুণ্ণ রেখে তাঁর গল্পটি পর্দায় তুলতে।”
‘গণশত্রু’-র প্রতিটি অধ্যায় পরিচালনা করেছেন ভিন্ন-ভিন্ন পরিচালক। ‘চেন ম্যান’-এর গল্পের পরিচালক অভিরূপ ঘোষ। প্রথমবার পরিচালনায় পা রাখলেন খ্যাতনামা সিনেমাটোগ্রাফার মধুরা পালিত, যিনি পরিচালনা করেছেন ‘ত্রৈলোক্য দেবী’-র এপিসোড। ‘রশিদ খান’-এর গল্পের পরিচালক সায়ন দাসগুপ্ত, ‘সজল বারুই’-এর গল্প বুনেছেন শমীক রায় চৌধুরী, আর ‘হুব্বা শ্যামল’-এর এপিসোড পরিচালনা করেছেন শ্রীমন্ত সেনগুপ্ত। বাংলা টকিজ প্রযোজিত ‘গণশত্রু’আগামী ৩১ অক্টোবর মুক্তি পেতে চলেছে জি-ফাইভ-এ।
অন্ধকারের পিছু ছুটে কখনও খোঁজা হয় আলো। গণশত্রু সেই আলো দেখাবে না—বরং দেখাবে তার বিপরীত দিক, যেখানে মানুষ নিজেই নিজের শত্রু হয়ে ওঠে। এই সিরিজ শুধু অপরাধের কাহিনি নয়, সমাজের এক বিকৃত প্রতিচ্ছবি—যা দেখার পরও মন থেকে মুছে ফেলা কঠিন।