"স্বপ্ন পূরণে কখনও দেরি হয় না"—এই কথাটা যতই বইয়ের পাতার মতো মনে হোক, এই বলিউড অভিনেতা তাঁর জীবন দিয়ে সেটাই সত্যি করে দেখিয়েছেন।

কে বলুন তো?
শেষ আপডেট: 19 June 2025 18:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "স্বপ্ন পূরণে কখনও দেরি হয় না"—এই কথাটা যতই বইয়ের পাতার মতো মনে হোক, বলিউড অভিনেতা বোমান ইরানি তাঁর জীবন দিয়ে সেটাই সত্যি করে দেখিয়েছেন। ১৪ বছরের টানা সংগ্রাম, ওয়েটারের চাকরি, নামকিন-বিস্কুট বিক্রি—সবটাই পার করে অবশেষে ৪২ বছর বয়সে সিনেমায় পা রাখেন তিনি। আজ তিনি এমন এক অভিনেতা, যাঁর পরিশ্রম, প্রতিভা ও নিষ্ঠা বলিউডে আলাদা করে স্বীকৃতি পেয়েছে।
১৯৫৯ সালের ২ ডিসেম্বর জন্ম বোমান ইরানির। জন্মের ছয় মাস আগেই বাবা প্রয়াত হন। ছোটবেলা থেকেই ডিসলেক্সিয়া-য় ভুগতেন তিনি। মা-র সঙ্গে মুম্বইয়ে তাঁদের বেকারি ও নামকিনের দোকান চালাতেন। পরে মিঠিভাই কলেজে ওয়েটারের প্রশিক্ষণ নিয়ে তাজ মহল প্যালেস হোটেলে কাজ করেন। এরপর বহু বছর তিনি পেশাদার ফটোগ্রাফার ছিলেন। স্কুল ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচের ছবি তুলে ২০–৩০ টাকায় বিক্রি করতেন। পরে তিনি হয়ে ওঠেন ইন্ডিয়ান বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার।
ছোট থেকেই অভিনয়ের প্রতি গভীর টান ছিল তাঁর। বহু বছর মঞ্চে অভিনয়ের পর, ২০০১ সালে ‘এভরিবডি সেজ আই’ম ফাইন’ সিনেমায় প্রথম বড় পর্দায় দেখা যায় তাঁকে। তবে জনপ্রিয়তা আসে ২০০৩ সালে, রাজকুমার হিরানির পরিচালনায় ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’-এ ‘ডঃ অস্থানা’-র চরিত্রে।
এরপর প্রতিটি রাজকুমার হিরানি পরিচালিত ছবিতে দেখা গেছে বোমানকে—‘লাগে রহো মুন্না ভাই’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘পিকে’, ‘সঞ্জু’ এবং ‘ডাঙ্কি’তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
ভিলেন থেকে রসিক চরিত্র—সব কিছুতেই সমান দক্ষ বোমান ইরানি। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘বীর-জারা’, ‘লক্ষ্য’, ‘বক্ত: দ্য রেস এগেইনস্ট টাইম’, ‘ম্যায়নে গান্ধী কো নেহি মারা’, ‘বিইং সাইরাস’, ‘খোসলা কা ঘোসলা’, ‘ডন’, ‘ওয়েল ডান আব্বা’, ‘জলি এলএলবি’, ‘হাউসফুল’, ‘ডন ২’, ‘ঊঁচাই’, ‘জয়েশভাই জোরদার’ প্রভৃতি।
সম্প্রতি তিনি পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন ‘দ্য মেহতা বয়েজ’ ছবির মাধ্যমে, যেখানে অভিনয় করেছেন নিজে ও অভিনাশ তিওয়ারি। দ্বিতীয় পরিচালনার ঘোষণা এখনও হয়নি। চলতি বছরে বোমান ইরানিকে দেখা যাবে ‘ডিটেকটিভ শেরদিল’, ‘তন্বী দ্য গ্রেট’ এবং ‘দ্য রাজা সাহেব’ সিনেমায়।