শাহিদের সহ-অভিনেতা থেকে টয়লেট পেপার বিক্রি—তারপর হারপিক-এর ব্র্যান্ড ফেস!

কে এই অভিনেতা?
শেষ আপডেট: 20 November 2025 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই সুযোগের অভাবে হারিয়ে যান। অভিনেতা বিশাল মালহোত্রা, যিনি ২০০৩ সালে শাহিদ কাপুর এবং অমৃতা রাওয়ের সঙ্গে কেন ঘোষ পরিচালিত 'ইশক ভিশক' ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিলেন, তিনিও একসময় বলিউড ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তবে এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা এবং ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত।
বিশাল মালহোত্রা সম্প্রতি একটি TEDx অনুষ্ঠানে এসে তাঁর অভিনয় জীবন থেকে বেরিয়ে আসার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, যখন তিনি বড় প্রযোজকদের কাছে নায়কের বন্ধু নয়, বরং আরও ভালো ভূমিকার জন্য আবেদন করতেন, তখন তাঁদের সোজা উত্তর ছিল 'না'।
তিনি হিন্দি রাশ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, একটি ভিন্ন চরিত্রের জন্য অনুরোধ করায় এক প্রভাবশালী প্রযোজক নাকি তাঁর ওপর রেগে গিয়েছিলেন। এর ফলে তাঁকে ইন্ডাস্ট্রিতে 'একঘরে' করে দেওয়া হয় এবং টানা দুই বছর তাঁর হাতে কোনও কাজ ছিল না।
বিশাল মালহোত্রা বলেন, "যখন কোনও খুব প্রভাবশালী মানুষ আপনার কাজ করার ক্ষমতাকে মেনে নিতে চান না বা বাতিল করে দেন, তখন আপনার সব শেষ হয়ে যায়। আমার হাতে তখন দুই বছর ধরে কোনো কাজ ছিল না। তাই আমি খুবই ভয় পেয়েছিলাম।"
যখন কঠিন সময় এসেছিল, তখন ছোটবেলা থেকে বাবা-মায়ের শেখানো টাকা-পয়সা সামলানোর অভ্যাসটাই তাঁকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল। অভিনয় ছেড়ে আসার পর তিনি নিজের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা খোলেন।
ব্যবসার বিষয়ে বিশাল বলেন, "আমি আমার নিজের অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি তৈরি করেছিলাম এবং অনেক বিজ্ঞাপনের ভিডিও বানাই। এরপর রিলায়েন্সের মতো ভারতের বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে কাজ শুরু করি। সেই সময় আমি টিস্যু পেপার থেকে শুরু করে টয়লেট রোল পর্যন্ত সব ধরনের কাগজের জিনিসপত্র বিক্রি করতাম।"
পরে তিনি NFT (নন-ফাঞ্জিবল টোকেন)-এর নতুন জগতে যান এবং প্রথম ভারতীয় অভিনেতা হিসেবে NFT তৈরি করে বিক্রি করেন। সেই NFT বিক্রি করে তিনি যে টাকা পান, তা দিয়ে তিনি তাঁর প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি 'ইলম' (Ilm)-এর চিত্রনাট্য লেখা, প্রযোজনা এবং পরিচালনার কাজ করেন। এই ছবিটিই হল বিশ্বের প্রথম এমন সিনেমা, যার পুরো খরচ NFT বিক্রির টাকা থেকে এসেছে।
বিশাল মালহোত্রা জানান, তাঁর জীবনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল টয়লেট ক্লিনার ব্র্যান্ড 'হারপিক'-এর মুখ হওয়া। তিনি বলেন, "হারপিক-এর বিজ্ঞাপন করার সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল, আগে মানুষ তাঁকে 'মাম্বো', 'জান্নাত ফিল্ম' বা 'ভিকি ভেতাল' চরিত্রের নামে চিনত। কিন্তু ছয় বছর ধরে হারপিক-এর বিজ্ঞাপনে তিনি নিজের নাম বিশাল মালহোত্রা বলে পরিচয় দেন। এর ফলে মানুষ তাঁকে তাঁর নিজের নামে চিনতে শুরু করে, যা তাঁকে একজন 'ব্র্যান্ড' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছে।"