‘চিরদিনই তুমি যে আমার’— টেলিভিশনের পর্দায় এই সিরিয়াল ঘিরে যতটা উত্তেজনা, তার চেয়ে কম নয় সিরিয়ালের নায়ক জিতু কমলকে কেন্দ্র করে চলতে থাকা বিতর্কের ঝড়।

নবনীতা-জিতু
শেষ আপডেট: 20 November 2025 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’— টেলিভিশনের পর্দায় এই সিরিয়াল ঘিরে যতটা উত্তেজনা, তার চেয়ে কম নয় সিরিয়ালের নায়ক জিতু কমলকে কেন্দ্র করে চলতে থাকা বিতর্কের ঝড়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নাম এখন আগুনের ফুলকি। ভক্তদের দাবি— জিতুকে সরালে তাঁরা আর চোখ রাখবেন না জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিকে। এমন উন্মাদনার মধ্যেই আচমকা নজর কাড়ল অন্য গল্প— জিতুর প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা দাসের নতুন পোস্ট।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নবনীতা শেয়ার করলেন অভিনেতা এড ওয়েস্টউইক ও এমি জ্যাকসনের এক স্নিগ্ধ মুহূর্তের ভিডিয়ো—রেড কার্পেটের আভিজাত্যঘেরা সময়ের। ক্যামেরা, আলো, পাপারাজ্জি সব কিছু পাত্তা না দিয়ে এড যখন ঠোঁটে আদুরে চুমু রাখলেন এমির, সেই অনভ্যস্ত সময়ে চমকে উঠল এমির মুখ। চুমুর পর এডের অকৃত্রিম উচ্ছ্বাসে যেন ভেসে উঠল ভালোবাসার সহজ, সত্য রূপ। সেই ভিডিয়োর উপর লেখা— “This is how I want my man to react after getting me.” বাংলায় যার মানে, “আমিও চাই আমাকে পাওয়ার পরে আমার মানুষটা ঠিক এমন প্রতিক্রিয়াই দিক।”
শুধু এই একটি লাইনেই যেন ফুটে উঠল নবনীতার অন্তরের অভিমত। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পরে কি তবে আবার নতুন জীবনের দিকে তাকাতে শুরু করেছেন তিনি? ২০১৯ সালের ৬ মে হাত ধরেছিলেন জিতু ও নবনীতা; কয়েক বছর পর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন দূরত্বই তাঁদের ভালো রাখবে। বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে কোনওদিনই মুখ খোলেননি তাঁরা। পরে হঠাৎই নবনীতার এক পোস্টে প্রকাশ্যে আসে ডিভোর্সের খবর— প্রথমে অস্বীকার করলেও শেষমেশ জানা যায়, ফাইল জমা পড়েছে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত আইনমাফিক সম্পূর্ণ হয়।

কিন্তু এখন জিতুর জীবনে চলছে তীব্র অশান্তি। বয়সে ছোট অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায় অভিযোগ তুলেছেন— জিতু নাকি তাঁকে পাঠিয়েছেন ‘অনুপযুক্ত’ মেসেজ। সেখানে রয়েছে এআই-এ বানানো চুমুর ভিডিয়ো, আর রয়েছে এমন প্রশ্নও— ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা শুনে “তুমি কি প্রেগন্যান্ট?” এখানেই শেষ নয়। যখন প্রযোজনা সংস্থা ঝামেলা মেটাতে মিটিং ডাকল, শোনা যায় জিতু নাকি মাঝপথেই বেরিয়ে যান সভাস্থল ছেড়ে। আচরণে নাকি বিস্মিত সংস্থার কর্তারাও। তাঁকে সরানোর কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জল্পনা। উপরন্তু অভিনেতা নাকি এখনও জমা দেননি এনওসি, যা ধারাবাহিক মাঝপথে ছেড়ে দিতে গেলে আবশ্যিক।
তবু বিচিত্রভাবে, এই সমস্ত কোলাহলের মধ্যেও তাঁর সমর্থকদের বিশ্বাস নড়ে যায়নি বিন্দুমাত্র। তাঁদের দাবি— জিতুকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ভুল আলোয়’ দেখানো হচ্ছে, তাঁর ভাবমূর্তি সাবধানে নষ্ট করা হচ্ছে। তাই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তাঁরা জিতুর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, প্রতিবাদে উত্তাল হচ্ছেন।