Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!

‘দৃশ্যমে’র অনু থেকে এলএসই গ্র্যাজুয়েট: বাবা-মায়ের লড়াই, আত্ম সংশয় আর এসথার অনিলের জয়যাত্রা

‘দৃশ্যম’-এর ছোট্ট অনু থেকে লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্সের গ্র্যাজুয়েট-এভাবেই বদলে গেল এসথার অনিলের জীবন। বাবা-মায়ের লড়াই, নিজের আত্মসংশয় আর পরিশ্রম পেরিয়ে সাফল্যের নতুন অধ্যায়।

‘দৃশ্যমে’র অনু থেকে এলএসই গ্র্যাজুয়েট: বাবা-মায়ের লড়াই, আত্ম সংশয় আর এসথার অনিলের জয়যাত্রা

এসথার অনিল

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 19 December 2025 11:01

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া মালয়ালম ছবি ‘দৃশ্যম’ (Drishyam) শুধু একটি থ্রিলার নয়, ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক সাংস্কৃতিক মুহূর্ত। মোহনলাল অভিনীত সেই ছবিতে ‘অনু’ চরিত্রে শিশুশিল্পী এসথার অনিল (Esther Anil) রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। বছর কেটে গিয়েছে। ক্যামেরার সামনে বড় হওয়ার পাশাপাশি নিজের জীবনের জন্যও আলাদা স্বপ্ন বুনেছেন এসথার। সেই স্বপ্নেরই এক বড় মাইলফলক—লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স (London School of Economics) থেকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন।

‘এত বড় স্বপ্ন অবাস্তব মনে হয়েছিল’

ইনস্টাগ্রামে গ্র্যাজুয়েশনের ছবি পোস্ট করে দীর্ঘ একটি নোটে এসথার ফিরে তাকিয়েছেন গোটা যাত্রার দিকে। লিখেছেন, একদিন তাঁর বাবা কারও কথা উল্লেখ করেছিলেন, যিনি এলএসই-তে পড়াশোনা করেছিলেন। সেদিনই বাবা তাঁকে আবেদন করতে বলেন। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, ‘এত বড় মাছ ধরা আমার পক্ষে অসম্ভব’। এমনকি বাবার স্বপ্নকে তিনি মনে করেছিলেন ‘অবাস্তব’। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সব বদলায়। আজ সেই বাবার মেয়েই লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্সের সামনে দাঁড়িয়ে, হাতে ডিগ্রি।

অর্থের টানাপোড়েন আর বাবা–মায়ের নিঃশর্ত ভরসা

সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশটা এসেছে অর্থনৈতিক লড়াইয়ের কথায়। এসথার জানিয়েছেন, এলএসই থেকে অফার লেটার পাওয়ার পরেও তিনি প্রথমে বাবা–মাকে কিছু বলেননি। কারণ জানতেন, এই কোর্সের খরচ বহন করা তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাঁর ভাইয়েরা তখনও স্টুডেন্ট লোনের বোঝা বইছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন বাবা–মাকে জানান, তাঁদের উত্তর ছিল অবাক করা—‘তুমি এটা কতটা চাও আমরা জানি। টাকা আসবে। তুমি যাচ্ছ।’ সেই এক বাক্যই যেন গোটা যাত্রার জ্বালানি হয়ে ওঠে। জমি–গয়না বিক্রি নয়, নীরব ত্যাগ আর অগাধ বিশ্বাসেই এগিয়েছে পরিবার।

এলএসই-তে সন্দেহের লড়াই, বদলে যাওয়া নিজস্ব পরিচয়

লন্ডনে পৌঁছে এসথারের সামনে অপেক্ষা করছিল আর এক যুদ্ধ—চরম ইমপোস্টার সিনড্রোম। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পড়াশোনা করতে গিয়ে নিজেকে বারবার প্রশ্ন করেছেন—তিনি কি আদৌ যোগ্য? ভয়, হীনমন্যতা, চাপ—সবই ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে নতুন করে গড়ে তুলেছে। এসথার লিখেছেন, এই সময়টাই তাঁকে আরও গভীরভাবে টেনে নিয়েছে তাঁর বহুদিনের আগ্রহের দিকে—নারী ও ক্ষমতার সম্পর্ক (women and power)। নিজেকে চিনতে, নিজের জায়গা খুঁজে পেতে এলএসই তাঁর কাছে শুধু এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং রূপান্তরের জায়গা।

পোস্টের শেষে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু ও অনুরাগীদের। লিখেছেন, ‘হয়তো আমি ততটা নির্বোধ নই। হয়তো আমার ভেতরেও আলো আছে। একদিন হয়তো আমিও শক্তিশালী নারীদের দলে যোগ দেব।’ কমেন্ট বক্সে শুভেচ্ছার বন্যা—নাজরিয়া নাজিম, অপরণা বালামুরলি, গৌরী জি কিশন, খাদিজা রহমান-সহ বহু তারকার অভিনন্দন।

‘দৃশ্যম’-এর অনু আজ আর শুধু অভিনেত্রী নন। পড়াশোনা, আত্মসংগ্রাম আর স্বপ্নপূরণের এই গল্প এসথার অনিলকে নতুন পরিচয়ে দাঁড় করিয়ে দিল—একজন আত্মবিশ্বাসী, সচেতন তরুণী হিসেবে।


```