‘ধুরন্ধর’-এর শুটিংয়ে অক্ষয় খান্নাকে সত্যিই চড় মেরেছিলেন সম্যা। তাও আবার সাতবার।

‘ধুরন্ধর
শেষ আপডেট: 18 December 2025 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়ার পর মাত্র ১৩ দিনেই ৪৩৭.২৫ কোটি টাকা আয় করে বক্স অফিসে রাজত্ব করছে ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar)। এই ছবির অন্যতম শক্তিশালী দিক ছিল এর অভিনয়। বিশেষ করে অক্ষয় খান্না (Akshaye Khanna) ও সম্যা টন্ডনের (Samya Tandon) রসায়ন নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। সম্প্রতি সম্যা ইনস্টাগ্রামে শুটিংয়ের কিছু বিটিএস (BTS) ছবি পোস্ট করে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
সম্যা জানান, গত বছর নভেম্বরে অমৃতসরে রহমান ডাকাতের হাভেলিতে তাঁর প্রথম শুটিং শুরু হয়েছিল। প্রথম দৃশ্যেই তাঁকে দেখা যায় অক্ষয়ের সিগারেট ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সন্তান হারানোর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উস্কানি দিতে। অক্ষয় খান্না প্রসঙ্গে সম্যা লেখেন, “অক্ষয় ম্যাজিকের মতো। আমাদের খুব একটা কথা বলার সুযোগ হয়নি, কিন্তু ক্যামেরা চালু হতেই এক অদ্ভুত সংযোগ তৈরি হত। ওঁর মতো একজন খাঁটি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করা স্বপ্নের মতো।”
সিনেমায় দেখা যায়, ছোট ছেলের মৃত্যুর পর শোকে ও রাগে পাথর হয়ে যাওয়া সম্যা তাঁর স্বামী রহমানকে (অক্ষয়) চড় মারছেন। এই দৃশ্যটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে প্রবল কৌতূহল ছিল। বিষয়টি স্পষ্ট করে সম্যা লেখেন, “হ্যাঁ, আমি অক্ষয়কে সত্যি সত্যিই চড় মেরেছিলাম। তবে সেটা একবার, সাতবার নয়! পরিচালক আদিত্য ধর চেয়েছিলেন দৃশ্যটি যেন আসল মনে হয়। আমি চেয়েছিলেন অভিনয় করে চালিয়ে দিতে, কিন্তু আদিত্যর জেদের কাছে হার মানতে হয়।” মজার বিষয় হল, এরপর সম্যার কান্নার দৃশ্যটি মাত্র একটি টেকেই ওকে হয়ে গিয়েছিল।
লিয়াকত বা পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে তৈরি রহমান ডাকাতের হাভেলির সেটটি যেভাবে সাজানো হয়েছিল, তাতে মুগ্ধ সম্যা। ঈদের একটি দৃশ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আর্ট ডিপার্টমেন্টের প্রশংসা করে বলেন, হাভেলির অন্দরসজ্জা এতই নিখুঁত ছিল যে তাঁর মনে হয়েছিল তিনি সত্যিই পাকিস্তানে সেই সময়ের মধ্যে পৌঁছে গেছেন।
কাস্টিং নিয়ে প্রচলিত ধারণা ভেঙে ফেলার জন্য পরিচালক আদিত্য ধরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সম্যা। তিনি লেখেন, “আদিত্য দেখিয়ে দিয়েছেন কাস্টিং মানে কেবল বড় নাম নয়, বরং চরিত্রের জন্য কে উপযুক্ত সেটাই আসল। ভালো বিষয়বস্তু যে সব সময় জয়ী হয়, আপনি সেটা প্রমাণ করেছেন।”
সিনেমায় অক্ষয় খান্না ও সম্যা টন্ডন ছাড়াও অভিনয় করেছেন রণবীর সিং, সঞ্জয় দত্ত, সারা অর্জুন এবং রাকেশ বেদি। সন্তান হারানোর যন্ত্রণা এবং মায়ের হাহাকার যেভাবে সম্যা পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন, তা এখন দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।