আরিয়ানের এই প্রথম ওয়েব সিরিজ যেমন দর্শকদের মন কেড়েছে, তেমনই ঈশিকার চরিত্রও তৈরি করেছে কৌতূহল।

শেষ আপডেট: 23 September 2025 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে শাহরুখ খান-পুত্র আরিয়ান খানের প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘বাস্টার্ডস অফ বলিউড’। মুক্তির পরই শুরু হয়েছে প্রবল আলোচনা। সমালোচকদের মতে, প্রথম সিজনেই আরিয়ান যেন প্রমাণ করে দিলেন—তিনি সত্যিই ‘বাপ কা বেটা’। তবে এই আলোচনার ভিড়ে আলাদা করে নজর কেড়েছেন বাংলার মেয়ে ঈশিকা দে। ‘সেক্রেড গেমস’-এ নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর সঙ্গে অভিনয় করে যে মেয়েকে একসময় ‘ভাইরালকন্যা’ বলা হতো, সেই ঈশিকাই আজ ব্যস্ত বলিউড অভিনেত্রী। বাংলা ছবিতেও রেখেছেন নিজের ছাপ। আর এবার আরিয়ান খানের পরিচালিত প্রথম সিরিজেই তিনি হয়ে উঠলেন বাড়তি আকর্ষণ।
ঈশিকার নিজের কথায়, এই সিরিজে সুযোগ পেয়েছিলেন অডিশনের মাধ্যমে। প্রথমে অবশ্য চরিত্রের বিষয়ে তাঁকে বিশেষ কিছু জানানো হয়নি। সিরিজের টিম ইচ্ছে করেই গোপন রেখেছিল সেই তথ্য। পরে গল্পের আভাস পেয়েই রাজি হন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আরিয়ান ভীষণ পারফেকশনিস্ট। ছোট চরিত্র হোক বা বড়, প্রত্যেক অভিনেতাকে সে নিজে বেছে নিয়েছে। শুটিং সেটে কাজ করতে গিয়েই বুঝলাম, ওর কাছে সবকিছু নিখুঁত হওয়া চাই।”
নিজের চরিত্র নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ঈশিকা ’দ্য ওয়াল’কে বলেন, “আমাকে দিয়েই সিজন শেষ হচ্ছে। প্রথমে আমার চরিত্রটা ছোট মনে হলেও যেহেতু সিজন শেষ হচ্ছে আমাকে দিয়ে, তাই বোঝাই যাচ্ছে পরের সিজনে চমক আছে। এর বেশি কিছু এখনই বলা যাবে না। তবে আমার কাছে এটা ভীষণ বড় প্রাপ্তি। আর আমি বাংলাকে প্রতিনিধিত্ব করি, এটা আমার মাথায় সবসময় থাকে, তাই আমার কাছে এটা আরও গর্বের।”

আরিয়ান খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঈশিকা জানালেন, ”আরিয়ান দারুণ মানুষ। আর সবচেয়ে বড় কথা হল,ওর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আরও ভাল করে বুঝতে পারলাম, শাহরুখ, মানুষ হিসেবে কত বড়। খুব ভাল বড় করেছেন ছেলেমেয়েকে, তা আরিয়ানকে দেখে বোঝা যায়। আরিয়ান খুব পরিশ্রমি, ডাউন টু আর্থ, খুব ভদ্র। কোনও শো অফ নেই, সিনিয়র, জুনিয়র আর্টিস্ট নির্বিশেষে সবার সঙ্গে একই রকম ব্যবহার করে। যেটা সত্যিই প্রশংসা করার মতো। সবাই যাতে বুঝতে পারে, সেই কারণে শুটিং ফ্লোরে হিন্দিতে কথা বলত। শাহরুখের ছেলে বলে কোনও অহংকার ছিল না। এরকমও হয়েছে, ঘরে চার-পাঁচটা চেয়ার রয়েছে, আমরা সবাই সেই ঘরে ঢুকলাম সঙ্গে আরিয়ানও। ঘরে ঢুকতেই আরিয়ার চেয়ারে বসলেন না। বসলেন মাটিতে। ওর দেখাদেখি আমরা সবাই মাটিতেই বসলাম। চেয়ারগুলো ফাঁকাই রইল। এর থেকে বোঝা যায়, ও কতটা মাটির মানুষ। আর একটা কথা বলি, আরিয়ান খুবই পারফেকশনিস্ট। প্রতিটি অভিনেতাকে তাঁদের চরিত্র সম্পর্কে নিজেই বিস্তারিত বোঝাতেন। তা ছোট হোক বা বড় অভিনেতা। সবার সঙ্গে একই রকম ব্যবহার। ছোট ছোট ব্যবহারেই প্রমাণ করে দেয়, আরিয়ান মানুষ হিসেবে কতটা ভাল।”
আরিয়ানের এই প্রথম ওয়েব সিরিজ যেমন দর্শকদের মন কেড়েছে, তেমনই ঈশিকার চরিত্রও তৈরি করেছে কৌতূহল। তাঁর দাবি, আপাতদৃষ্টিতে ছোট হলেও এতে রয়েছে বড় চমক। সিরিজ শেষ হচ্ছে তাঁর চরিত্র দিয়েই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী সিজনের জন্য দর্শকদের প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছে।

ঈশিকা দে একসময় ভাইরাল হয়েছিলেন ‘সেক্রেড গেমস’-এ নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে। আজ তিনি বলিউডের ব্যস্ত অভিনেত্রী, কাজ করেছেন বাংলা ছবিতেও। আর এবার ‘বাস্টার্ডস অফ বলিউড’-এর মাধ্যমে তাঁর অভিনয়যাত্রায় যোগ হলো নতুন পালক।
শাহরুখ-পুত্র আরিয়ানের পরিচালনার দক্ষতা আর বাংলার মেয়ে ঈশিকা দে’র অভিনয়—এই দুই মিলে নেটফ্লিক্সে দর্শক যেন পেল এক অন্যরকম স্বাদ। এখন সবারই চোখ থাকল পরের সিজনের দিকে, যেখানে হয়তো উন্মোচিত হবে ঈশিকার চরিত্রের সেই প্রতীক্ষিত চমক।