সকালের আলোয় এক অন্যরকম দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা দিল্লি শহর। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের সেই ঐতিহ্যবাহী সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে, যেন বাস্তব আর সিনেমার সীমারেখা মিলেমিশে গেল এক হয়ে।

ইমরান হাশমি ও ইয়ামি গৌতম ধর।
শেষ আপডেট: 30 October 2025 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকালের আলোয় এক অন্যরকম দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা দিল্লি শহর। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের সেই ঐতিহ্যবাহী সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে, যেন বাস্তব আর সিনেমার সীমারেখা মিলেমিশে গেল এক হয়ে। হাতে পোস্টারের ভঙ্গি, চোখে দৃঢ় বিশ্বাস — অভিনেতা ইমরান হাশমি ও ইয়ামি গৌতম ধর আজ ফের তৈরি করলেন তাঁদের নতুন ছবি ‘হক’-এর সেই আইকনিক মুহূর্ত।
সিনেমার প্রচারের এই অধ্যায় ছিল নিছক প্রমোশন নয়, বরং এক আবেগঘন প্রতীকী ফিরে দেখা। কারণ, ‘হক’-এর গল্পের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে ভারতের আইনব্যবস্থার ইতিহাসে— এক ঐতিহাসিক সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে, যা বদলে দিয়েছিল ব্যক্তিগত আইন আর ধর্মনিরপেক্ষ আইনের ভারসাম্যের চিত্র। সেই রায়ের অনুপ্রেরণাতেই জন্ম নিয়েছে ‘হক’, যেখানে ন্যায়, বিশ্বাস ও পরিচয়ের সংঘাত এক হয়ে গিয়েছে আধুনিক ভারতের হৃদস্পন্দনের সঙ্গে।
জঙ্গলী পিকচার্স প্রযোজিত এবং সুপর্ণ ভার্মা পরিচালিত এই ছবির ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে সদ্য। কয়েক মিনিটের সেই ঝলকেই যেন বোঝা যায়— এই ছবি শুধু একটি আইনি লড়াই নয়, বরং এক নৈতিক দ্বন্দ্বের গল্প, যেখানে প্রতিটি প্রশ্নই ছুঁয়ে যায় আমাদের অন্তরাত্মাকে। দর্শকের চোখে এটি হয়ে উঠতে চলেছে এমন এক সিনেমা, যা কেবল দেখা নয়— অনুভব করা যায়।
![]() | ![]() |
সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে পোস্টার পুনর্নির্মাণের মুহূর্তে ইমরান হাশমির কণ্ঠে শোনা গেল এক গভীর প্রতিধ্বনি—
“এটা শুধু ছবির দৃশ্য নয়, এটা প্রতীক। আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম সেই স্থানে, যেখানে এক রায় বদলে দিয়েছিল ভারতের ন্যায়বোধের ইতিহাস। ‘হক’ সেই বাস্তব কাহিনিগুলোরই প্রতিধ্বনি বহন করে,” বললেন ইমরান।
অন্যদিকে ইয়ামি বললেন, “ন্যায় পেতে সময় লাগে, কিন্তু ন্যায় কখনও আমাদের ছেড়ে যায় না। ‘হক’ সেই কণ্ঠস্বর, যা পরিবর্তনের ডাক দেয়। এই ছবির মাধ্যমে আমরা ফিরে দেখেছি সেই রায়, যা সমাজে সংস্কারের আগুন জ্বেলেছিল,” বললেন তিনি দৃঢ় বিশ্বাসে।
৭ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ‘হক’, সারা বিশ্বের প্রেক্ষাগৃহে। কিন্তু তার আগেই এই ছবির আত্মা যেন ছুঁয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়িগুলোকে— যেখানে একসময় উচ্চারিত হয়েছিল পরিবর্তনের সেই শব্দ—ন্যায়।
আজ যখন সমাজে প্রশ্ন জেগে ওঠে, ন্যায়বিচার কি সত্যিই সময়ের গণ্ডি মানে? তখন ইমরান-ইয়ামির ‘হক’ মনে করিয়ে দেয়— হয়তো ন্যায় দেরি করে আসে, কিন্তু সে কখনও হারায় না... সে ফিরে আসে, বারবার, একেকটি গল্পের, একেকটি ছবির রূপে।