শাহ বানো মামলার প্রেক্ষাপটে তৈরি আসন্ন ছবি ‘হক’ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। পরিচয় রাজনীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ইমরান হাশমি জানালেন, নির্মাতাদের “নিয়ত সাফ”।

ইমরান হাশমি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডে আজকাল রাজনৈতিক বা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ছবি বানানো যেন এক দু'ধারী তলোয়ারের উপর দিয়ে হাঁটা। আর যখন সেই গল্পটা হয় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক শাহ বানো মামলার মতো সংবেদনশীল, তখন তো বিতর্ক অনিবার্য। অভিনেতা ইমরান হাশমি এবং ইয়ামি গৌতম অভিনীত আসন্ন ছবি 'হক' নিয়ে ঠিক সেই প্রশ্নই উঠেছে। এই ছবি কি কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের দিকে আঙুল তুলছে? নাকি পরিচয়ের রাজনীতিতে ইন্ধন দিচ্ছে? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সব প্রশ্নের জবাব দিলেন ইমরান হাশমি।
ইমরান হাশমির মতে, দর্শকদের মনে ওঠা এই আশঙ্কা স্বাভাবিক। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্মাতাদের "নিয়ত সাফ"। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা কোনও বক্তব্য দিচ্ছি না, কোনও পক্ষ নিচ্ছি না। আমরা শুধু দেখাচ্ছি ঘটনাটা কীভাবে ঘটেছিল।"
অভিনেতা বোঝাতে চাইলেন, শিল্পীর স্বাধীনতা আছে সত্যকে নাটকীয় রূপে তুলে ধরার, কিন্তু সেখানে কাউকে বিচার করা বা কোনও সম্প্রদায়কে দায়ী করার উদ্দেশ্য নেই। তাঁর কথায়, "দর্শকরা ভাল ছবি ঠিকই চিনে নিতে পারে।" তিনি স্বীকার করেন, এমন ছবি বানানোর ঝুঁকি থাকেই। কিন্তু সেই ঝুঁকি না নিলে তো শুধু ফাঁকা মার্কেটিংই হবে!
ছবিটি কোনও সম্প্রদায়কে আলাদা করে দেখাচ্ছে কি না, এই প্রশ্নটিই তিনি প্রথমে পরিচালক সুপর্ণ এস ভার্মা-কে করেছিলেন। অভিনেতা জানালেন, শাহ বানো মামলার কেন্দ্রে একদিকে ছিলেন একজন ব্যক্তি, যিনি তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জন্য লড়ছিলেন, অন্যদিকে ছিলেন একজন নারী, যিনি নিজের মর্যাদার জন্য লড়ছিলেন। নির্মাতাদের কাছে তাই মানবিক দিকটাই ছিল প্রধান।
ইমরান হাশমি নিশ্চিত করেছেন, এই ছবি দেখে কেউ কোনও সম্প্রদায়কে কাঠগড়ায় তুলছে বলে মনে করবেন না। বরং তাঁর মতে, এটি একটি নারী-পক্ষপাতি ছবি, যা নারীর মর্যাদার কথা বলে। এই ছবিটি ৭ নভেম্বর, ২০২৫-এ মুক্তি পেতে চলেছে।