৭ই জুলাই, ভারতীয় সংগীতের এক বিখ্যাত কণ্ঠ, কৈলাসে খের পা দিলেন জীবনের আরেকটি বছরে। তাঁর ‘তেরি দিওয়ানি’, ‘সইয়া‘ কিংবা ‘আল্লাহ কে বন্দে’ গানের জন্য তিনি আজও কোটি কোটি ভক্তের প্রিয়।

কৈলাস খের
শেষ আপডেট: 7 July 2025 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭ই জুলাই, ভারতীয় সংগীতের এক বিখ্যাত কণ্ঠ, কৈলাসে খের পা দিলেন জীবনের আরেকটি বছরে। তাঁর ‘তেরি দিওয়ানি’, ‘সইয়া‘ কিংবা ‘আল্লাহ কে বন্দে’ গানের জন্য তিনি আজও কোটি কোটি ভক্তের প্রিয়। কিন্তু গানের পিছনে লুকিয়ে আছে এমন কিছু অধ্যায়, যা আজও বিতর্কের কণ্ঠস্বর হয়ে ফিরে আসে—বিশেষ করে যখন তাঁর জন্মদিনের মতো আলোচনার মুহূর্তেও আসে সামনে। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে কৈলাস খেরকে নিয়ে হওয়া সব বড় বিতর্ক, #MeToo অভিযোগ ও মামলা-মোকদ্দনমার খবরগুলোও দেখে নেওয়া যাক!
#MeToo অধ্যায়:
২০১৮ সালে যখন #MeToo ঝড় উঠেছিল ভারত জুড়ে, তখন কৈলাস খেরও পড়েন সেই ঝড়ের মুখে। গায়িকা ও সমাজকর্মী সোনা মহাপাত্র সরাসরি অভিযোগ করেন, কৈলাস একবার তাঁকে অস্বস্তিকরভাবে ছুঁতে চেয়েছিলেন এবং হোটেল রুমে আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। এর পরেই একে একে একাধিক মহিলারা সোচ্চার হন, যাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন সাংবাদিক নাতাশা হেমরাজানি। তিনি জানান, কৈলাস এক সাক্ষাৎকারের সময় তাঁদের পাশে বসে বারবার স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। যদিও এসবের কোনও আইনি মামলা দায়ের হয়নি, তবুও এই অভিযোগগুলো নাড়িয়ে দিয়েছিল কৈলাসের ভক্তকুলকে।
কৈলাসের প্রতিক্রিয়া ছিল: ‘আমি এ সব মনে করতে পারছি না। তবে যদি কাউকে অজান্তে কষ্ট দিয়ে থাকি, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
ধর্মীয় বিতর্ক: 'বাবম বাম' গান নিয়ে মামলা
২০২৪ সালে খেরের আরেকটি বিতর্কিত সামনে আসে। তাঁর গাওয়া ‘Babam Bam’ গানের মিউজিক ভিডিও নিয়ে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের মতে, ভিডিওটিতে শিবের নামে গান চললেও, তাতে কিছু ‘অশ্লীল দৃশ্য’ এবং ‘স্বল্প বসন পরিহিতা মহিলাদের নৃত্য’ দেখা যায়। লুধিয়ানার এক ব্যক্তি এ নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ২০২৫ সালের মার্চে বম্বে হাইকোর্ট সেই মামলা খারিজ করে দেয় এবং জানায়—এই গান ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ কারও ভাবাবেগে আঘাত করার জন্য নির্মিত হয়নি।
বিতর্ক | অবস্থা |
#MeToo অভিযোগ | একাধিক মৌখিক অভিযোগ, কোনও FIR না হওয়ায় মামলা হয়নি |
সাংবাদিকদের অশালীন আচরণ অভিযোগ | কোনও আইনি পদক্ষেপ হয়নি |
‘Babam Bam’ ধর্মীয় মামলা | আদালত খারিজ করে দিয়েছে |
বিতর্ক ছাড়াও...
সমালোচনা আর বিতর্কের মাঝেও কৈলাস খের আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য নাম। তাঁর ভক্তরা বিশ্বাস করেন, শিল্পীর কাজই তাঁর পরিচয়, যদিও সমাজে দায়িত্বশীলতা থাকা আবশ্যক। কৈলাসে খেরের জন্মদিনে আজ একদিকে যেমন তাঁর গানে মানুষ মুগ্ধ, তেমনই অন্যদিকে প্রশ্ন উঠে আসে—এক শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন ও আচরণ কতটা প্রভাব ফেলে তাঁর শিল্পকর্মে? কৈলাস নিজে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন কি না জানা যায় না, তবে তাঁর সুরের মায়া আজও অনেকে ভুলতে পারেননি।