এলভিশের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, "তিনি কোনও রেভ পার্টিতে যাননি। ওই রাতে যে সাপগুলি উদ্ধার করা হয়েছিল, মেডিক্যাল রিপোর্টে দেখা গেছে একটিও সাপ বিষধর নয়। তাই সাপের বিষ ব্যবহারের অভিযোগ ভুল।"

এলভিশ যাদব (গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 19 February 2026 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাপের বিষ পাচার মামলায় (Snake Venom Case) সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) কার্যত ধমক খেল ইনফ্লুয়েন্সার-ইউটিউবার এলভিশ যাদব (YouTuber Elvish Yadav)। শীর্ষ আদালত সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, 'পরিচিত-জনপ্রিয় মুখ হয়ে যদি নিরীহ প্রাণীদের নিয়ে এমন কাজ করে তাহলে সমাজে খুব খারাপ বার্তা যায়। এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।'
২০২৩ সালের নভেম্বরে এলভিশ যাদবের (Elvish Yadav) বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, একটি রেভ পার্টিতে সাপের বিষ ব্যবহার (snake venom at a rave party) করা হয়েছিল। গত বছর মার্চ মাসে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। এরপর ওই মামলার চার্জশিট (Chargesheet) ও আইনি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন 'বিগ বস ওটিটি' বিজয়ীর।
"ভিডিওর জন্য হোক কিংবা মজা, 'নির্বাক প্রাণী' সাপকে ধরে বিরক্ত করার উদ্দেশ্য কীভাবে ঠিক হতে পারে? কেউ কি চিড়িয়াখানায় গিয়ে প্রাণীদের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে? জনপ্রিয় মানুষরা যদি এমন কাজ করেন, তাহলে সেটা অন্যদের জন্য খুবই খারাপ উদাহরণ।” এই পর্যবেক্ষণের পরই বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বরের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, 'ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে সমাজকে কী শেখাচ্ছেন?'
এদিকে এলভিশের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, "তিনি কোনও রেভ পার্টিতে যাননি। ওই রাতে যে সাপগুলি উদ্ধার করা হয়েছিল, মেডিক্যাল রিপোর্টে দেখা গেছে একটিও সাপ বিষধর নয়। তাই সাপের বিষ ব্যবহারের অভিযোগ ভুল।"
অন্যদিকে সরকারি পক্ষের আইনজীবী জানান, "পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মোট ন'টি সাপ উদ্ধার করে, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল কোবরা। এছাড়া একটি বোতল পাওয়া যায়, যাতে সাপের বিষ ছিল বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে।" এনিয়ে শীর্ষ আদালত পুলিশের পক্ষের আইনজীবীর কাছে জানতে চায়, " ঠিক কীভাবে সাপের বিষ বের করা হয় এবং কীভাবে তা রেভ পার্টিতে ব্যবহার হতে পারে?"
চার্জশিটে পুলিশের দাবি, 'বিদেশি নাগরিক-সহ অনেকেই রেভ পার্টিতে ছিলেন এবং সাপের বিষ (Elvish Yadav) নেশার মতো ব্যবহার করতেন।' তবে এলভিশ যাদবের আইনজীবীর পাল্টা অভিযোগ, "তাঁর কাছ থেকে কোনও সাপ বা বিষ উদ্ধার হয়নি। এছাড়া অভিযোগকারী সেইসময় নিজেকে প্রাণীকল্যাণ দফতরের কর্মকর্তার মিথ্যে পরিচয় দিয়েছিলেন।"
তিনি এও বলেন, "এলভিশ জনপ্রিয় হওয়ায় এই মামলা নিয়ে অতিরিক্ত প্রচার হয়েছে এবং তাঁকে অন্যায়ভাবে দোষী প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে।" এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৯ মার্চ।