বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ২০ বছর পূর্ণ করলেন দেব। শুক্রবার ‘রঘু ডাকাত’ ছবির প্রচারের মঞ্চে সেই ফিল্মি জার্নির উদযাপনও হল জমজমাট পরিবেশে।

ছবি: শুভঙ্কর চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 21 September 2025 12:23
বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ২০ বছর পূর্ণ করলেন দেব। শুক্রবার ‘রঘু ডাকাত’ ছবির প্রচারের মঞ্চে সেই ফিল্মি জার্নির উদযাপনও হল জমজমাট পরিবেশে। দেবকে কুড়ি বছরের সাফল্যের শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
অনুষ্ঠানের অন্তিম মুহূর্তে ছবির গোটা টিম মঞ্চে উঠে মুক্তি দিল ‘রঘু ডাকাত’-এর ট্রেলার। ঠিক তখনই ঘোষণা হল—২৬ সেপ্টেম্বর নয়, একদিন আগেই, অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর বড়পর্দায় আসছে দেবের বহু প্রতীক্ষিত ছবি।
ট্রেলার শেষে বরাবরের মতো দর্শকদের উদ্দেশে দেব ছুঁড়ে দিলেন সেই চিরচেনা প্রশ্ন—“কেমন লাগল?” আর জানালেন, যদিও ছবি মুক্তি পাবে ২৫ সেপ্টেম্বর, কিন্তু অগ্রিম টিকিট বুকিং শুরু হয়ে যাবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই। তাই প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমাতে ভক্তদের খোলা আমন্ত্রণ দিলেন তিনি।
কিন্তু এখানেই বাঁধল গেরো। দুম করে একদিন আগে ছবি রিলিজের ঘোষণা যেন খেলার শুরু হওয়ার আগেই খেলা শেষ করার মতো অবস্থা তৈরি করল। পুজোতে টলিউডের বক্স অফিস ইতিমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্র। অনিক দত্তর ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ থেকে নন্দিতা-শিবপ্রসাদের ‘রক্তবীজ ২’, কিংবা প্রসেনজিৎ-শ্রাবন্তী অভিনীত ‘দেবী চৌধুরানী’—কোনও ছবিই এক বিন্দু জায়গা ছাড়তে রাজি নয়। যেন সকলে একসঙ্গে ঘোষণা করছে—“বিন যুদ্ধে নাহি দিব সূচগ্র মেদিনী।”
শুধু ‘রঘু ডাকাত’ নয়, সূত্রের খবর অনুযায়ী প্রত্যেকটি ছবির মুক্তির তারিখ এগিয়ে আনা হচ্ছে। প্রত্যেকেই এবার নামছে ২৫ সেপ্টেম্বরের রেসে। ফোনে ধরা হলে প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান স্পষ্ট জানালেন, “আমি ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার ছবিও ২৫ তারিখেই রিলিজ।” একই কথা শোনালেন শতদীপ সাহা, ‘দেবী চৌধুরানী’-র পরিবেশক—“প্রযোজক যদি মনে করেন, একদিন আগে ছবি মুক্তি, তবে তাই হবে।”
‘রক্তবীজ ২’-এর পরিচালক-প্রযোজক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও সাফ জানালেন—“আমাদের ছবিও মুক্তি পাচ্ছে ২৫ সেপ্টেম্বর।”
তবে প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত বদলের ফলে দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ইতিমধ্যেই শহরের রাস্তায় ঝুলছে বড় বড় ব্যানার, পাড়া-মহল্লায় টাঙানো পোস্টার। হর্ডিং-এ স্পষ্ট লেখা—২৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি। এত খরচ করে প্রচার শেষ মুহূর্তে অন্য তারিখে বদলে গেলে দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক।
টলিউড ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের কথায়—“এভাবে হুট করে ঘোষণা হয়ে গেল ছবির রিলিজ এগিয়ে আনা হবে? আগে কখনও তো এমন দেখা যায়নি। একজন চাইলেই কি নিজের মতো করে মুক্তির তারিখ পাল্টে দিতে পারেন?”
বিষয়টি নিয়ে ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট পিয়া সেনগুপ্তকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন—“এখানে আসলে প্রযোজকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তই মুখ্য। ব্যবসায়িক কারণে এমনটা হতেই পারে। ইম্পা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য রাখতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, অন্য প্রযোজকদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিলে ভাল হত।”
আজ মহালয়া। দেবীপক্ষের শুভ সূচনা। আর এই দিনেই যেন শুরু হয়ে গেল বাংলা ছবির মহাযুদ্ধের প্রথম শব্দ। এবার প্রশ্ন একটাই—পুজোয় বাংলা ছবির গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন হবে, নাকি শুধু প্রতিযোগিতার ঝড়েই হারিয়ে যাবে উৎসবের আনন্দ? তার উত্তর দেবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের বড় পর্দা।