বলিউডে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে কি ধর্মই শেষ কথা? এ আর রহমানের মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে নিজের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরলেন গায়ক শান।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 17 January 2026 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুসলিম ধর্মাবলম্বী হলে কি বলিউডে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে? বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কি হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে বেড়েছে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি? অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে এমনই একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। বিনোদুনিয়ায় যেমন এই মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। যদিও রহমানের বক্তব্য খারিজ করে বিজেপির তরফে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে শাহরুখ খান ও সলমন খানের দীর্ঘ তিন দশকের ‘খান সাম্রাজ্য’। তবুও এই বিতর্ক যে সহজে থামার নয়, তা স্পষ্ট। এবার এ আর রহমানের উত্থাপিত ‘সাম্প্রদায়িক বিভাজন তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় গায়ক শান।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান দাবি করেছিলেন, “গত আট বছরে ক্ষমতার পালাবদলের ফলে বলিউডে বহু কাজ হাতছাড়া হয়েছে। এর নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের নীতিও কাজ করে থাকতে পারে। যদিও কেউ মুখের উপর এমন কিছু বলেনি, তবে এই নিয়ে কানাঘুষো আমার কাছে এসেছে।” অস্কারজয়ী সুরকার আরও বলেন, “আন্তরিকতা দিয়েও যদি কাজ না আসে, তা হলে আমি আর কারও কাছে গিয়ে তদবির করতে পারি না। কারও অফিসে গিয়ে বসে থাকার মানসিকতাও আমার নেই।”
এই মন্তব্যের রেশ ধরেই এবার আইএএনএস-এর ক্যামেরার সামনে নিজের মত প্রকাশ করলেন শান। তাঁর বক্তব্য, “যখন কাজ না পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তখন নিজের উদাহরণ দিতে পারি। আমি বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গান গেয়েছি, তবুও মাঝেমধ্যে কাজ পাই না। তবে আমি বিষয়টাকে কখনও ব্যক্তিগতভাবে নিই না। প্রত্যেকেরই নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও মতামত থাকতে পারে।”
বলিউডে সত্যিই কি ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি চলে—এই প্রশ্নের উত্তরে শান স্পষ্টভাবে বলেন, “গানের জগতে এভাবে বিষয়গুলো কাজ করে না। এখানে শেষ কথা বলে মেরিট আর সৃজনশীলতা। যদি সত্যিই সাম্প্রদায়িক বিভাজন কাজ করত, তাহলে গত ৩০ বছরে আমাদের তিনজন সুপারস্টার, যাঁদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বলে ধরা যায়, তাঁরা এদেশে এতটা সফল হতে পারতেন না। এখানে কোনও সাম্প্রদায়িক তত্ত্ব নেই। ভালো কাজ করুন, ভাল গান তৈরি করুন। এই বিষয়গুলো নিয়ে অতিরিক্ত ভাবার দরকার নেই।”
এখানেই থামেননি শান। তিনি আরও বলেন, “প্রযোজক ও সুরকাররা সিনেমার জন্য কেমন গান চাইছেন, তার উপর ভিত্তি করেই গায়ক নির্বাচন করা হয়। তাই কারও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে। কিন্তু সেটাকে অযথা বিভাজনের রঙ দেওয়াই উচিত নয়।”