সুনীলও যেন তাঁর বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে হিন্দি ফিল্মজগতে আত্মপ্রকাশ করেন তাই চাইতেন দেব আনন্দ। বাবার ইচ্ছাকে সম্মান জানান সুনীল।

সুনীল সবকিছুই হন কিন্তু সবেতেই তিনি ফ্লপ।
শেষ আপডেট: 1 July 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা-মা দু'জনেই বলিপাড়ার লেজেন্ড ফিল্মস্টার, কিন্তু এই স্টারকিড যাতেই হাত দিয়েছেন তাই ফ্লপ হয়েছে। বাবা তাঁকে নায়ক বানিয়ে তারকাখচিত ছবি করলেও সে ছবি সাত দিনও সিনেমাহলে চলেনি। আসলে তিনি হিরো ম্যাটেরিয়াল ছিলেন না। শুধুমাত্র বিখ্যাত বাবা-মায়ের ছেলে বলেই সিনেমার হিরো বনে যান। কিন্তু দর্শকের কাছে তাঁর চাহিদা ছিল শূন্য। লুকের দিক থেকেও তিনি ভীষণ ভাবে পিছিয়ে ছিলেন। নায়কোচিত চেহারা তাঁর ছিল না। তবু মানুষ হিসেবে বাবা-মায়ের পাশে এই ছেলে সবসময় থেকেছেন। তিনি সুনীল আনন্দ ( Sunil Anand)। যাঁর বাবা লেজেন্ড দেব আনন্দ (Dev Anand) ও মা কল্পনা কার্তিক (Kalpana Kartik)।
১৯৫৬ সালের ৩০ জুন সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখে জন্ম সুনীলের। সেখানেই স্কুল এবং কলেজের পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। ওয়াশিংটনের একটি ইউনিভার্সিটি থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিয়ে পড়াশোনা করেন সুনীল। তাঁর এক বোনও আছেন দেবিনা আনন্দ।

সুনীলের দুই কাকা চেতন আনন্দ ও বিজয় আনন্দ দু'জনেই নামকরা পরিচালক। তুতোভাই কেমন আনন্দ ও শেখর কাপুরও দুই নামী পরিচালক। তাঁর এক তুতো বোন নীলু বিয়ে করেন নবীন নিশ্চলকে। আর এক বোন অরুণা বিয়ে করেন পরীক্ষিত সাহানিকে।
সুনীলও যেন তাঁর বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে হিন্দি ফিল্মজগতে আত্মপ্রকাশ করেন তাই চাইতেন দেব আনন্দ। বাবার ইচ্ছাকে সম্মান জানান সুনীল। অভিনয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এখানেই ছিল দেব আনন্দের ভুল। ছেলেকে পড়াশোনার জগতে তিনি রাখতে পারতেন। কিন্তু ফিল্মি পরিবারে ছেলেকে হিরো থেকে প্রযোজক,পরিচালক করতে চেয়েছিলেন দেব আনন্দ। সুনীল সবকিছুই হন কিন্তু সবেতেই তিনি ফ্লপ।
পড়াশোনা শেষ করে বাবার 'নবকেতন ফিল্মস' প্রযোজনা সংস্থায় যোগ দেন সুনীল। ১৯৮৪ সালে ছেলে সুনীলকে বলিউডে লঞ্চ করেন দেব আনন্দ, ‘আনন্দ অওর আনন্দ’ ছবিতে। যা সুনীলের প্রথম ছবি। এই ছবির পরিচালনা এবং প্রযোজনার দায়িত্বেও ছিলেন দেব আনন্দ। সবটাই বাবার হাতযশে হিরো হওয়া। বিপরীতে নায়িকা ছিলেন নাতাশা।
দেব আনন্দ ছাড়াও সুনীলের কেরিয়ারের প্রথম ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায় রাখী, স্মিতা পাটিল এবং রাজ বব্বরের মতো তারকাদের। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।
প্রথম ছবি ব্যর্থ হওয়ার দু’বছর পর সমীর মালকানের ‘কার থিফ’ নামে ছবিতে অভিনয় করেন সুনীল। বিপরীতে নায়িকা ছিলেন বিজয়েতা পণ্ডিত। ১৯৮৬ সালে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। কিন্তু সে ছবিও বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।
এরপরও দেব আনন্দ হাল ছাড়েননি। আবার তাঁর ছেলেকে নতুন ভাবে লঞ্চ করতে চান। এবার ভাই বিখ্যাত পরিচালক বিজয় আনন্দকে ছবি পরিচালনা করার দায়িত্ব দেন দেব। কাকা বিজয় আনন্দ পরিচালিত এবং দেব আনন্দ প্রযোজিত ‘ম্যায় তেরে লিয়ে’ ছবিতে অভিনয় করেন সুনীল। সুনীলের পাশাপাশি এই ছবিতে অভিনয় করেন রাজেন্দ্র কুমার, আশা পারেখ এবং মীনাক্ষী শেষাদ্রি। দেব আনন্দ, চেতন আনন্দের অনুরোধে এই ছবির সংগীত পরিচালনা করেন বাপ্পি লাহিড়ী। এত খরচ করা ছবি আবারও মুখ থুবড়ে পড়ে। এই ছবির ভরাডুবি সুনীল আনন্দের নায়ক জীবনে ফুলস্টপ বসিয়ে দেয়।

শেষমেশ অভিনয়ে তাঁর কোনও ভবিষ্যৎ নেই বুঝতে পেরেই প্রযোজনা এবং পরিচালনার ক্ষেত্রকেই কেরিয়ারের জন্য বেছে নেন সুনীল।
এরপর হং কংয়ে গিয়ে মার্শাল আর্টসের প্রশিক্ষণ নেন সুনীল। ২০০১ সালে পরিচালনা করেন 'মাস্টার' ছবি।
এই ছবিতে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন।
শেষ অবধি দেব আনন্দের মৃত্যুর পর বাবার 'নবকেতন ফিল্মস' এখন রয়েছে সুনীলের দায়িত্বেই।
সুনীল আনন্দ, তারকা পুত্র হয়েও ফ্লপের বন্যায় তিনি কোনওদিনই নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে পারেননি।