বিয়ের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল আনন্দ, আড়ম্বর আর নতুন শুরুর প্রতীক হয়ে, তার রেশ কাটতে না কাটতেই গল্প ঘুরে গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে। অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এবার আইনি পদক্ষেপ।

শেষ আপডেট: 23 January 2026 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল আনন্দ, আড়ম্বর আর নতুন শুরুর প্রতীক হয়ে, তার রেশ কাটতে না কাটতেই গল্প ঘুরে গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে। অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এবার আইনি পদক্ষেপ। (Hiran Chatterjee Wedding, Hiran Chatterjee, Hiran Chatterjee marriage, Hiran Chatterjee 2nd marriage, ritika giri)
সম্প্রতি বেনারসে গিয়ে হৃতিকা গিরির সঙ্গে বিয়ে করেন হিরণ। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বুধবার গভীর রাতে মেয়ের হাত ধরে আনন্দপুর থানায় হাজির হন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই দায়ের হয় অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনিন্দিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে—প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এবং আইনি বিচ্ছেদ না ঘটিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করা, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো, এবং গৃহবধূর উপর অমানবিক আচরণ।
এই মামলায় শুধু হিরণ নন, এফআইআরে নাম রয়েছে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হৃতিকা গিরিরও। অভিযোগ অনুযায়ী, এই দ্বিতীয় বিয়েতে হিরণকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছেন হৃতিকাই। অনিন্দিতার দাবি, স্বামীর নির্যাতন নতুন নয়—দীর্ঘ সময় ধরেই তিনি এই যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। তবে মেয়ের ভবিষ্যৎ, তার মানসিক স্থিতি এবং কেরিয়ারের কথা ভেবে এতদিন চুপ ছিলেন। কিন্তু বেনারসের বিয়ের ছবি সামনে আসার পর আর চুপ করে থাকা সম্ভব হয়নি বলেই থানার দ্বারস্থ হওয়া।
এই ঘটনা যেন আগের সব অভিযোগ, বক্তব্য আর পাল্টা ব্যাখ্যাকে এক সুতোয় বেঁধে দিল। কিছুদিন আগেই অনিন্দিতা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, তাঁদের ২৫ বছরের দাম্পত্যে তিনি ও তাঁর মেয়ে যে মানসিক ক্ষতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
অন্যদিকে, বিতর্কের মাঝেই হৃতিকা গিরি ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, হিরণ ইতিমধ্যেই ডিভোর্সের আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের সম্পর্ক নতুন নয়, বহু বছরের। বেনারসের বিয়েকে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন আড়ম্বরহীন, আধ্যাত্মিক এক সিদ্ধান্ত হিসেবে—আগুনকে সাক্ষী রেখে, গঙ্গার সামনে বৈদিক রীতিতে শুরু করা নতুন জীবন।
কিন্তু এখন সেই আধ্যাত্মিক বিয়ের গল্পের পাশেই জুড়ে গেল থানার এফআইআর, আইনের ধারা আর বিচারপ্রক্রিয়ার বাস্তবতা। আনন্দপুর থানার পুলিশের হাতে ওঠা এই অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল—ব্যক্তিগত সম্পর্কের সীমা কোথায় শেষ, আর আইনের দায়ই বা কোথা থেকে শুরু?