নায়ক-নায়িকার অভিনয়ের গুণ, বড় প্রোডাকশন হাউসের সাপোর্ট আর স্মার্ট পিআর – এতদিন এই তিন উপকরণই ছিল সফলতার মূল চাবিকাঠি।

বলিউডে ‘ব্লক বুকিং’ ট্রেন্ড! ছবি: প্রতীকী
শেষ আপডেট: 28 June 2025 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নায়ক-নায়িকার অভিনয়ের গুণ, বড় প্রোডাকশন হাউসের সাপোর্ট আর স্মার্ট পিআর – এতদিন এই তিন উপকরণই ছিল সফলতার মূল চাবিকাঠি। কিন্তু কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই সমীকরণ অনেকটাই বদলে গেছে। এখন শুধুই অভিনয় নয়, একটা চকচকে ‘সাকসেস ইমেজ’ তৈরি করাও জরুরি। আর সেই ইমেজ গড়ে তুলতে বলিউড হোক বা বাংলা, অনেকেই আশ্রয় নিচ্ছেন এক নতুন ‘কৌশল’— ব্লক বুকিং।
কী এই ব্লক বুকিং?
ব্লক বুকিং মানে কোনও সিনেমার প্রচুর সংখ্যক টিকিট একসঙ্গে আগেভাগেই বুক করে নেওয়া। এই বুকিং বেশিরভাগ সময় করে কর্পোরেট সংস্থা বা প্রোডাকশন হাউস নিজেরাই। অনেক সময় সেই টিকিট কর্মীদের মধ্যে বিলি হয়, আবার অনেক সময় শো-এর আগেই টিকিট বাতিল করে দেওয়া হয়। এতে বুক মাই শো-এর মতো অ্যাপে শো হাউসফুল দেখায়, অথচ হলে ঢুকেই বোঝা যায়, অর্ধেকের বেশি আসন খালি!
‘স্কাই ফোর্স’ ঘিরে শুরু বিতর্ক
এই বছরের শুরুতেই অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘স্কাই ফোর্স’ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন ট্রেড অ্যানালিস্ট কোমল নাহটা। তাঁর দাবি, সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহে ৪০ কোটির ব্যবসা করেছে বলে দাবি করা হলেও, তা আসলে ব্লক বুকিংয়ের কারসাজি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পিভিআর আইনক্স ছিল ছবিটির প্রধান ডিস্ট্রিবিউটর, এবং তারাই নাকি এই ব্লক বুকিং-এর পিছনে মূল ভূমিকা নিয়েছিল।
কারা করছে ব্লক বুকিং?
ট্রেড অ্যানালিস্ট অমোদ মেহরার মতে, “নায়কেরাই এই ব্লক বুকিংয়ের পরিকল্পনায় রয়েছেন—সরাসরি হোক বা আড়াল থেকে।” তিনি আরও বলেন, “বেশিরভাগ সময় বড় মাপের টিকিট বুক করে আবার বাতিল করা হয়। এতে লোকসান তেমন হয় না, কিন্তু ‘হিট’ সিনেমার ইমেজ তৈরি হয়ে যায়।”
ভুয়ো সাফল্য কেন?
নাহটা বলছেন, “সিনেমা হিট বললে তারকারা বিজ্ঞাপনের চুক্তিতে কোটির পর কোটি টাকা দাবি করতে পারেন।” মেহরা যোগ করেন, “নায়কদের মূল লক্ষ্য নিজেদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। সিনেমা চলে বা না চলে, তাঁদের রেট কিন্তু ওঠে সেই ইমেজ দেখিয়েই।”
বাংলা ইন্ডাস্ট্রিও মেতেছে এই খেলায়?
না একদমই নয়। এসএসআর সিনেমাজ-এর সিইও শতদীপ সাহার কথায়, “বাংলা সিনেমাতেও ১০–১৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে কোটি টাকার ব্লক বুকিং হয়েছে। সিনেমা না চললেও হলে আয় নিশ্চিত হয়। তাই হল মালিকদেরও আপত্তি থাকে না।” বাংলার এক জনপ্রিয় নায়কের বিরুদ্ধে তো এমনও অভিযোগ শোনা যায় যে, তিনি বহুদিন ধরেই এই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করছেন নিজের সিনেমার জন্য।
কোথা থেকে শুরু এই ট্রেন্ড?
অমোদ মেহরার মতে, “পাঠান, জওয়ান আর ব্রহ্মাস্ত্র মুক্তির সময় থেকেই এই ব্লক বুকিংয়ের প্রবণতা গড়ে উঠেছে। ছবি মুক্তির আগেই যেন ‘হিট’ তকমা জুটে যায় – এই মনোভাব থেকেই শুরু এই খেলাটা।”
সিনেমার ভবিষ্যৎ কোথায়?
ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থানে এখন দর্শক অনেকটাই সচেতন। ভালো কনটেন্ট না থাকলে সোশ্যাল মিডিয়াতেই মুখ খুলছেন দর্শকরা। তবুও, আজকের দিনে ‘সাফল্য’ বলতে শুধুই বক্স অফিস নয়, একটা ব্র্যান্ড ইমেজ – আর সেটা বজায় রাখতেই চলছে সংখ্যার এই খেলা। সিনেমা হল হোক কিংবা অ্যাপ, দর্শকের চোখ কিন্তু ফাঁকি খায় না। প্রশ্ন একটাই—এই ‘ব্লক বুকিং’-এর কৃত্রিম ইমেজ আর কতদিন টিকবে? সিনেমার আসল হিরো কি তবে এখন সত্যিই সংখ্যার কারসাজি?