জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী শেফালি জরিওয়ালা শুক্রবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন। বয়স হয়েছিল মাত্র ৪২ বছর। ‘কাঁটা লাগা’ গানে ঝড় তোলা এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে স্তব্ধ তার ভক্তমহল ও গোটা বলিউড ইন্ডাস্ট্রি।

শেফালি ও তাঁর স্বামী পরাগ ত্যাগী
শেষ আপডেট: 28 June 2025 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী শেফালি জরিওয়ালা শুক্রবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন। বয়স হয়েছিল মাত্র ৪২ বছর। ‘কাঁটা লাগা’ গানে ঝড় তোলা এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে স্তব্ধ তার ভক্তমহল ও গোটা বলিউড ইন্ডাস্ট্রি।
ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?
শেফালির মুম্বইয়ের আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী শত্রুঘ্ন জানান, রাত ১০:৩০ নাগাদ শেফালিকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার কিছুক্ষণ আগে রাত ৯টার দিকে তার স্বামী পরাগ ত্যাগী মোটরবাইকে করে বাড়িতে আসেন। শত্রুঘ্ন বলেন, ‘গেটটা আমি-ই খুলেছিলাম।’
তিনি আরও জানান, ‘মাত্র দু’দিন আগেই সন্ধ্যেবেলা শেফালি ম্যাডাম ও পরাগ স্যরের সঙ্গে তাদের পোষা কুকুরটিকে নিয়ে কম্পাউন্ডে হাঁটতে দেখেছি।’
শেফালিকে বেলভিউ মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তার দেহ কুপার হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ ও ফরেনসিক টিম। শত্রুঘ্ন বলেন, ‘রাত থেকেই পুলিশ ভিতরে রয়েছে। দু’টি মোবাইল ফরেনসিক ভ্যান এসেছিল— একটি ফিরে গেছে, একটি এখনও রয়েছে।’
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্ত ছিল যখন শেফালির এক বন্ধু মোটরসাইকেলে এসে জানান, ‘শেফালি আর নেই।’ শত্রুঘ্ন আরও বলেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছিল না। পরশু দিনও তো উনি হেসে কথা বলছিলেন। আজ উনি নেই!’
পুরনো এক সাক্ষাৎকারে নিজের শারীরিক লড়াই নিয়ে খোলামেলা শেয়ার করেছিলেন অভিনেত্রী। শেফালির এই অকাল মৃত্যুতে নেটদুনিয়ায় ফের ভাইরাল হয়েছে তার এক প্রথম সারির সংবাদপত্রকে দেওয়া এক পুরনো সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি বলেছিলেন, কীভাবে ১৫ বছর বয়সে ধরা পড়া এপিলেপ্সি (মৃগী রোগ) তাঁর জীবন ও কেরিয়ারে প্রভাব ফেলে।
‘আমার প্রথম খিঁচুনি হয়েছিল মাত্র ১৫ বছর বয়সে। তখন পড়াশোনার চাপ, মানসিক টেনশন অনেক ছিল। মানসিক অবসাদ থেকেও সিজার হতে পারে, আবার খিঁচুনির জন্যও মানসিক অবসাদ হতে পারে— এই দুটো একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে,’ বলেছিলেন শেফালি।
তিনি আরও জানান, এই রোগের জন্যই বহু কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ‘অনেকে জিজ্ঞেস করতেন আমি আরও কাজ করিনি কেন। ‘কাঁটা লাগা’ করার পর অনেক অফার ছিল, কিন্তু আমি নিতে পারিনি। কারণ জানতাম না কখন আবার সিজার হয়ে যাবে,’— এই লড়াই চলেছিল দীর্ঘ ১৫ বছর।
তবে আশার কথা, শেষ ৯ বছর ধরে তিনি খিঁচুনিমুক্ত ছিলেন। তাঁর এই সুস্থতার জন্য চিকিৎসা ও নিজের মানসিক শক্তিকে কৃতিত্ব দিয়েছিলেন।
আজ বলিউড বলছে— বিদায় ‘কাঁটা লাগা’ গার্ল, তুমিই ছিলে সাহসের মুখ। শেফালি জরিওয়ালার জীবন ছিল এক সাহসী যোদ্ধার মতো। অসুখের সঙ্গে লড়ে ফের লাইমলাইটে ফিরেছিলেন। তাঁর এই হঠাৎ বিদায়ে একরাশ প্রশ্ন, একরাশ শূন্যতা। সত্যিই, কিছু মানুষ এত তাড়াতাড়ি চলে যায়, রেখে যায় হাজারটা না বলা কথা...হয়তো শেফালির ‘কাঁটা লাগা’ শুধু গানে নয়, শ্রোতাদের মনেও গেঁথে থাকল চিরদিনের জন্য...