বলিউডকে ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। গ্ল্যামার ও তারকার ঝলকানি যতটা, ঠিক ততোটাই অন্ধকার দিকও রয়েছে এই ইন্ডাস্ট্রির। এ কথা আবার নতুন করে সামনে আনলেন প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর।

শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর
শেষ আপডেট: 19 June 2025 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডকে ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। গ্ল্যামার ও তারকার ঝলকানি যতটা, ঠিক ততোটাই অন্ধকার দিকও রয়েছে এই ইন্ডাস্ট্রির। এ কথা আবার নতুন করে সামনে আনলেন প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর। বহু বছর ধরেই বলিউডের সঙ্গে তাঁর সংযোগ রয়েছে — অনেক সেলিব্রিটি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আর্ট অফ লিভিং’ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু একবার সরাসরি বলিউডকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।
২০১৩ সালে এক বিশাল জনসমাবেশে শ্রী শ্রী বলেন, “বলিউডে দেখা যায়, টিলক পরা মানেই ভিলেন আর পেছনে ছোট চুল বাঁধা থাকলেই খলনায়ক। তারা ধর্মাচারী মানুষদের মর্যাদাকে অপমান করে, যাতে তরুণ প্রজন্ম ধর্ম থেকে দূরে সরে যায়। কারণ, ধর্মই একমাত্র জিনিস যা মাদক, মদ্যপান আর সিগারেট থেকে মানুষকে দূরে রাখে।’
তিনি অভিযোগ করেন, বলিউডের অনেকেই অতিরিক্ত পারিশ্রমিক নেন এবং নিজেদের সুবিধেমতো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে জেনারালাইজ করেন। শ্রী শ্রী বলেন, ‘ওরা সব সময় কোনও না কোনও কুকর্মে লিপ্ত। সমাজের মূল্যবোধ আর দেশের সংস্কৃতিকে আঘাত করছে। বলে বেড়ায় সব আশ্রম খারাপ, সব মন্দির টাকা লুট করে — অথচ নিজেরাই সেই কাজগুলো করে। একজন অভিনেতা একটা ভিক্স-এর বিজ্ঞাপনে হাঁচি দিলেই কোটি কোটি টাকা নিয়ে নেয়!’
তিনি আরও বলেন, ‘বলিউডের অধিকাংশ অভিনেতার জীবন দুর্দশাগ্রস্ত। বাইরের চমক থাকলেও, ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকতার ছিটেফোঁটাও নেই। তারা চায় না সমাজে ধর্ম আর মূল্যবোধ বিকশিত হোক। ওদের চরিত্র অনেকটা রাজনীতিবিদদের মতো — নিজেরাই শত্রু বানিয়ে তার বিরুদ্ধে লড়ে।’
সবশেষে, শ্রী শ্রী বলিউডকে দায়ী করেন পাঞ্জাবের মাদক সমস্যার জন্য। তাঁর কথায়, ‘মাদক আর মদের বড় বড় লবি আছে বলিউডের সঙ্গে। তারা যুবসমাজকে এইসব খারাপ অভ্যাসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এইভাবে পাঞ্জাব, একসময় যে ছিল প্রাণবন্ত আর শক্তিশালী, সে আজ মাদকাসক্তির জালে বন্দি।’
প্রসঙ্গত, শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর তাঁর নিজস্ব আশ্রম গড়ে তোলার আগে মহাঋষি মহেশ যোগীর শিষ্য ছিলেন — যিনি ট্রান্সসেনডেন্টাল মেডিটেশনের প্রবর্তক এবং যার টানে বিটলস ব্যান্ড একসময় পৌঁছে গিয়েছিল ঋষিকেশে। সংস্কৃতির ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে বলিউডের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলছেই, আর এবার সেই তালিকায় যোগ হল এক আধ্যাত্মিক গুরুর তীব্র সমালোচনা।