আসলে লিয়েন্ডার ছিলেন মহিমার থেকে অনেক বড় তারকা। সেখানে মহিমা ক্রমশ হয়ে পড়েন ফ্লপ অভিনেত্রী। এটাও কিছুটা দু'জনের সম্পর্ক ভেঙে যাবার কারণ।

গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 13 September 2025 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ের দশক জুড়ে এই অভিনেত্রীর সাম্রাজ্য। যদিও নায়িকার দৌড়ে প্রথম সারিতে তিনি বেশিদিন টিকে থাকতে পারেননি। অথচ শাহরুখ খানের বিখ্যাত ছবির হিরোইন ছিলেন তিনি। পরবর্তী কালে সহ-অভিনেত্রীর চরিত্রেই বেশি দেখা মিলত তাঁর।
তাঁর আসল নাম ছিল ঋতু। কিন্তু পরিচালকের পছন্দ ‘ম’ দিয়ে নায়িকার নাম। তাই বদলে গেল আসল নাম। নতুন নাম হল মহিমা। জীবনের প্রথম ছবিতে অভিনয় শাহরুখ খানের বিপরীতে। কেরিয়ারের শুরুতেই ব্লকবাস্টার হিট। সাড়া জাগিয়ে শুরু করেও কিন্তু পিছিয়ে গিয়েছিলেন মহিমা চৌধুরী (Mahima Chowdhury )। আজ অভিনেত্রীর জন্মদিনে (Birthday) ফিরে দেখা মহিমা চৌধুরীর জীবন যৌবনের গল্প।

১৯৭৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মহিমার জন্ম দার্জিলিংয়ে। দশম শ্রেণী অবধি পড়াশোনা কার্শিয়াং-এর ডাও হিল স্কুলে। তার পর দার্জিলিং-এর লোরেটো কলেজ। বিনোদনের দুনিয়ায় তাঁর হাতেখড়ি বিজ্ঞাপনের মডেলিং হতে এসে। আমির খান এবং ঐশ্বর্যা রাইয়ের সঙ্গে তিনিও কাজ করেছিলেন সেসময়ের বিখ্যাত পেপসি-র বিজ্ঞাপনে। টিভিতে ক্রিকেট খেলার সম্প্রচারের মাঝেমাঝে বিজ্ঞাপনে ভেসে উঠত মহিমার মুখ।
এরপর একটি মিউজিক চ্যানেলে সঞ্চালিকা হিসেবে ঋতু নামেই বেশ জনপ্রিয় হয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি নজরে পড়েন পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের। সুভাষের পছন্দ ছিল না ‘ঋতু’ নাম। তাঁর কথাতে ঋতু নতুন নাম নেন ‘মহিমা’।
শাহরুখ খানের বিপরীতে 'পরদেশ' ছবিতে নায়িকার চরিত্রে ব্যাপক সাফল্য পান তিনি। মিউজিক্যাল হিটেও আজও ক্লাসিক এই ছবি।
এরপর মহিমা বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন, ‘দাগ দ্য ফায়ার’, ‘প্যায়ার কোই খেল নেহি’, ‘দিল ক্যায়া করে’, ‘দিওয়ানে’, ‘কুরুক্ষেত্র’, ‘খিলাড়ি ৪২০’, ‘লজ্জা’, ‘ওম জয় জগদীশ’, ‘তেরে নাম’, ‘বাগবান’, ‘এলওসি কার্গিল’-এর মতো ছবিতে। কিন্তু কোনও ছবিতেই নায়িকা হিসেবে আর স্বীকৃতি পাননি। না পেয়েছেন 'পরদেশ' ছবির মতো খ্যাতি। 'ধড়কন' ছবিতে কিছুটা বলেও খ্যাতি পান। তবে সেখানেও সহ-অভিনেত্রী।
কেরিয়ারের মধ্যগগনে বিখ্যাত টেনিস খেলোয়াড় লিয়েন্ডার পেজের (Leander Paes) সঙ্গে জড়িয়ে যায় মহিমার নাম। ২০০৪ সালে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শোনা যায়। জমেও উঠেছিল প্রেম। পত্রপত্রিকায় তাঁদের প্রেম নিয়ে গুঞ্জন কম হয়নি।
কিন্তু ২০০৬ সালে সে সম্পর্ক ভেঙে যায়। মহিমার অভিযোগ ছিল, লিয়েন্ডার বহুগামী। তাঁকে লুকিয়ে সঞ্জয় দত্তের প্রাক্তন স্ত্রী রিয়া পিল্লাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন লিয়েন্ডার। মহিমা লিয়েন্ডারের এই বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নিতে পারেননি।
আসলে লিয়েন্ডার ছিলেন মহিমার থেকে অনেক বড় তারকা। সেখানে মহিমা ক্রমশ হয়ে পড়েন ফ্লপ অভিনেত্রী। এটাও কিছুটা দু'জনের সম্পর্ক ভেঙে যাবার কারণ।

কিন্তু কখনও লিয়েন্ডার মহিমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেননি প্রকাশ্যে। তিনি উড়িয়ে দেন এই সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনের কথা। মহিমা এই কারণে একবার প্রকাশ্যে বলেছিলেন 'লিয়েন্ডার পেজ ভাল খেলোয়াড় হলেও ভাল প্রেমিক একেবারেই নন। সততা আর বিশ্বাস, ছিল না তাঁর বহুগামী জীবনে।'
ভাঙা প্রেমের মতোই তলিয়ে গিয়েছিল মহিমার কেরিয়ার। নয়ের দশকে মাধুরী দীক্ষিত, করিশমা কাপুর, রবীনা ট্যান্ডন, শিল্পা শেঠীদের থেকে যোজন দূরত্বে পিছিয়ে ছিল মহিমা চৌধুরীর নাম।
২০০৬ সালে মহিমা বিয়ে করেন আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার তথা ব্যবসায়ী ববি মুখোপাধ্যায়কে। তাঁদের একমাত্র মেয়ে হয় আরিয়ানা। কিন্তু সেখানেও পোড়া কপাল মহিমার।২০১৩ সালে ভেঙে যায় মহিমার বিয়ে।
সিঙ্গেল মাদার হয়ে মেয়েকে একা হাতে মানুষ করতে হত মহিমাকে। এদিকে টাকার দরকার ছিল। কিন্তু হাতে কাজ নেই। কাজ আবার যখন এল মেয়েকে দেখার কেউ ছিল না বলে মহিমাকে কাজের অফার ছাড়তে হয়।
মহিমা চৌধুরী সেসময় বাংলা ছবি করতে কলকাতাতেও এসেছিলেন।
২০১৬ সালে অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘ডার্ক চকোলেট’ ছবিতে তিনি ঈশানী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এই চরিত্রটি তৈরি হয়েছিল শিনা বরা হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত এবং তাঁর মা ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের আদলে। এই ছবি মুখ থুবড়ে পড়ে বক্সঅফিসে।
কেরিয়ার থেকে ব্যক্তিগত জীবন, মহিমা যা ছুঁয়েছেন তাই ফ্লপ হয়ে গিয়েছে। আজ প্রায় আড়ালেই পরদেশে থাকতে ভালবাসেন মহিমা।