মহসিন বলেছেন, তিনি এখনও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী রিনা রায় এবং মুম্বইতে বসবাসকারী কন্যাকে মিস করেন।

মহসিন খান ও রিনা রায়
শেষ আপডেট: 11 September 2025 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্ক বহুকালের। বাইশ গজের তারকা ও বলিউড সুন্দরীদের প্রেম সর্বজনবিদিত। সেই টাইগার পাতৌদি-শর্মিলা ঠাকুর থেকে শুরু, যা আপাতত শেষ হয়েছে বিরাট-কোহলি হয়ে কেএল রাহুল-আথিয়া শেঠিতে। প্রেমিকদের তালিকায় শুধু ভারতীয় ক্রিকেটাররাই নন, রয়েছেন গ্যারি সোবার্সের মতো কিংবদন্তি বিদেশিরাও।
পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার মহসিন খানও (Pakistan Cricketer Mohsin Khan) একসময় ছিলেন ভারতের জামাই। তিনি ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন বলিউডের একসময়রে হার্টথ্রব রিনা রায়কে (Bollywood actress Reena Roy)।
এশিয়া কাপ চলাকালীন মহসিন খান নিজের ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি নিজের মতামত জানিয়েছেন। প্রাক্তন এই পাক ওপেনার বলেছেন, তাঁর কাছে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ কেবল একটি প্রতিযোগিতা ছিল না, বরং স্মরণীয় মুহূর্তের খনি ছিল। যখন তিনি তার কেরিয়ারের দিকে ফিরে তাকান, তখন তিনি ক্রিকেট মাঠ এবং মুম্বইয়ের ফিল্ম স্টুডিওগুলিকে মিস করেন। মহসিন বাইশ গজে তাঁর প্রজন্মের সবচেয়ে শক্তিশালী ফাস্ট বোলারদের মুখোমুখি হলেও, তিনি হিন্দি সিনেমার কিছু বড় তারকাদের সঙ্গে এক ডজন ছবিতেও কাজ করেছেন।
মহসিন বলেছেন, তিনি এখনও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী রিনা রায় এবং মুম্বইতে বসবাসকারী কন্যাকে মিস করেন। তাঁদের সম্পর্কে কথা বলার সময় এই সুদর্শন প্রাক্তন ক্রিকেটারের মুখ রীতিমতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। শুধু তাই নয়, তিনি নানা পাটেকর এবং অনুপম খেরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন।
মহসিন বলেন, “আমাদের সময়ে, যখন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হতো, তখন আক্রমণাত্মক আচরণ ছিল, কিন্তু কোনও খারাপ আচরণ ছিল না।” তিনি হাসিমুখে অতীত স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৯ সালের ভারত সফর কেবল তাঁর জন্য ক্রিকেটে নতুন দরজা খুলে দেয়নি, বরং তাকে মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গেও সংযুক্ত করেছিল। মহসিন বলেন, “লোকেরা বলতেন, ২০ দিন অপেক্ষা করো, আমরা তোমার দৃশ্যগুলি সম্পূর্ণ করব, কিন্তু সেই সময় আমার মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে ক্রিকেটের উপর ছিল।”
যদি ক্রিকেট মহসিনের প্রথম প্রেম হয়, তাহলে সিনেমা অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁর দ্বিতীয় প্রেমে পরিণত হয়। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি করাচির চেয়ে মুম্বইয়ে বেশি সময় কাটাতেন। সেই সময়ে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিনা রায়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার রিনার সঙ্গে প্রেম প্রসঙ্গে বলেন, "এই মোড়টি প্রায় আকস্মিকভাবে এসেছিল। আসলে যখন আমি বাতোয়ারা (ছবি)-এর জন্য প্রস্তাব পেয়েছিলাম, তখন আমি রিনার সঙ্গে মুম্বই হয়ে লন্ডন যাচ্ছিলাম। ধর্মজি (ধর্মেন্দ্র) খুব মিষ্টি ছিলেন এবং বিনোদ (খান্না) আমার বন্ধু ছিলেন।" নিজের অভিনয় প্রসঙ্গে মহসিন খান বলেন, "একটি দৃশ্যে গভীর আবেগগত তীব্রতার প্রয়োজন ছিল এবং (জেপি) দত্ত আমাক এটি ব্যাখ্যা করার জন্য একটি আকর্ষণীয় উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলেন, মহসিন, কল্পনা করুন আপনি একটি সেঞ্চুরি করেন, তবুও পাকিস্তান ভারতের কাছে হেরে যায়। আপনার কেমন লাগবে? তিনি এটি এভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।"
বাতোয়ারা ছবির জন্য মহসিন সেরা সহ-অভিনেতার জন্য ফিল্মফেয়ার মনোনয়ন পেয়েছিলেন, যেখানে তিনি নানা পাটেকর এবং অনুপম খেরের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। মহসিন গর্বের সঙ্গে বলেন, "নানা এবং অনুপমের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে মনোনয়ন পাওয়া আমার মতো একজনের জন্য বিশাল অর্জন ছিল। আমারা অভিনয়ে কোনও প্রশিক্ষণ ছিল না।"
তবে, তাঁর সবচেয়ে গভীর অভিজ্ঞতাটি ছিল মহেশ ভাটের সঙ্গে 'সাথী' ছবিতে, যা এখনও 'জিন্দেগি কি তালাশ মে হাম, মৌত কে কিতনে পাস আ গায়' গানের জন্য স্মরণীয়। মহসিন বলেন, "মহেশ ভাট সাহেব একজন বুদ্ধিজীবী ব্যক্তি। আপনি যদি তাঁর সঙ্গে বসেন, তাহলে আপনি জীবনের দর্শন বুঝতে শুরু করবেন। মানুষ এখনও সেই গানটি শোনে। কুমার শানু গানটি দুর্দান্তভাবে গেয়েছিলেন।"
রিনা রায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ের কথা বলার সময় মহসিন সতর্ক থাকলেও, মেয়ের কথা বলার সময় তিনি খোলাখুলিভাবে স্নেহ প্রকাশ করেন। মহসিন বলেন, "মেয়ে পড়াশোনা শেষ করেছে এবং মুম্বইয়ে তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকে। আমি ওর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সে পাকিস্তানে তার স্কুল এবং মুম্বাইয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছে।" মেয়ের কথা বলার সময় তাঁর চোখ দু’টি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।