বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে টেন্ট সিনেমা দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। প্রযোজক সুশান্ত দাসের ধারাবাহিক প্রায়ই টিআরপি তালিকার প্রথম দশে থাকে।

শেষ আপডেট: 10 April 2026 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে টেন্ট সিনেমা দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। প্রযোজক সুশান্ত দাসের ধারাবাহিক প্রায়ই টিআরপি তালিকার প্রথম দশে থাকে। এবার সেই প্রযোজকের বিরুদ্ধেই সরাসরি হেনস্থার অভিযোগ তুললেন অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ জানান তিনি, পরে ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দ্য ওয়াল-কে সুকন্যা বলেন, তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তখন তিনি কিছু বলতে পারেননি। তাঁর বাবার আপত্তির কারণেই বিষয়টি চেপে রাখা হয়। তবে এখন তিনি আর চুপ থাকতে রাজি নন। তাঁর কথায়, “এখন আমার স্বামী পাশে আছে। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।” (Sushanta Das, Sukanya Dutta Guha, Bengali TV industry controversy, sexual harassment allegation India)
সুকন্যার অভিযোগ, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর থেকেই তাঁকে চাপে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, ফেসবুকে পোস্ট করার পর তাঁর বাবাকে প্রায় ১২ বার ফোন করা হয়েছে। পোস্ট ডিলিট করার কথা বলা হয়েছে এবং তাঁর পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, মহিলা কমিশনের কাছে সমস্ত প্রমাণ জমা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, এই ঘটনার ফলে তাঁর কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই এখন আর পিছিয়ে আসার প্রশ্ন নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বাবাকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে—পোস্ট না সরালে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সুকন্যা স্পষ্ট করে বলেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাঁর সিদ্ধান্তে তাঁর বাবা হস্তক্ষেপ করেন না। পরিবারকে জড়ানো মানসিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

প্রযোজকের ‘উপকার’ করার দাবিও খারিজ করেছেন তিনি। সুকন্যার বক্তব্য, অডিশনের মাধ্যমে কাজ দেওয়া পেশাগত প্রক্রিয়া, কোনও ব্যক্তিগত দয়া নয়। এটিকে ‘উপকার’ বলা হলে তা ক্ষমতার অপব্যবহারকে ঢাকার চেষ্টা। তাঁর মতে, প্রয়োজনে সরাসরি তাঁর সঙ্গে বা তাঁর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল, তাঁর বাবাকে নয়।
শেষে তিনি বলেন, অভিযুক্ত যদি নিজেকে নির্দোষ মনে করেন, তাহলে আইনি পথে আসুন। তিনিও শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। এই অভিযোগের বিষয়ে সুশান্ত দাসের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এখন প্রশ্ন একটাই—এই অভিযোগের পর তদন্ত কোন দিকে এগোবে, আর ইন্ডাস্ট্রিতে এর প্রভাব কতটা পড়বে?