বিচ্ছেদ থেকে অসুস্থতা, জীবনের সব খুঁটিনাটি নিয়েই খোলাখুলি কথা বলেছেন সামান্থা রুথ প্রভু। কীভাবে গ্ল্যামারা দুনিয়ায় নির্ভেজাল থাকেন, ভাল থাকার রসদ পান কোথা থেকে, বললেন নিজে মুখে।

সামান্থা (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 18 October 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিনোদন দুনিয়ায় যেখানে সব কিছুই খুব ঝাঁ চকচকে আর আপেক্ষিক, সেখানে নিজেকে 'নির্ভেজাল' রাখা কঠিন। সম্প্রতি বেসরকারি এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে এমনই বললেন সামান্থা রুথ প্রভু। খোলাখুলি আলোচনা করলেন নিজের সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও অসুস্থতা নিয়ে। ভক্ত তো বটেই, সকলের উদ্দেশেই দিলেন বার্তা।
কোভিড পরবর্তী সময়ে হঠাৎ সামনে এসেছিল সামান্থার বিচ্ছেদের কথা। প্রথমে এনিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না আনলেও পরে ধীরে ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা পোস্ট দিতে থাকেন। একাধিক ইঙ্গিতপূর্ণ মেসেজ ফুটে ওঠে। সেখান থেকেই খানিকটা নিশ্চিত হওয়া যায় নাগা চৈতন্যর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। পরে অবশ্য এনিয়ে মুখ খোলেন তিনি।
সেসময় অটো ইমিউন ডিজিজ 'ম্যোসিটিস'-এ ভুগছিলেন, সবমিলিয়ে মারাত্মক খারাপ অবস্থা হয়েছিল। মানসিকভাবে তো বটেই, একইসঙ্গে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় সেরে উঠতে সময় লেগেছে। তাঁদের জীবনেও যে বিষাদ আসে, সেকথা লুকিয়ে রাখেননি অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকারে সেনিয়েই দৃঢ় মতামত রাখলেন। কীভাবে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডেও নিজেকে খাঁটি রাখা যায়, রাখা উচিত, বললেন তিনি।
নির্ভেজাল থাকতেই হবে, এমন কোনও কথা নেই, অভিনেত্রী মনে করেন কখনও কখনও অথেনটিক অর্থাৎ নির্ভেজাল থাকা যায় না। এই যায় আর যায় না চলতে থাকে প্রতিনিয়ত। বলেন, 'সব কিছু গোছানো নয়, জীবনে অনেক কিছুই এখনো গুলিয়ে আছে, কিন্তু আমি অন্তত সে বিষয়ে খোলামেলা কথা বলতে পারি। আমি নিখুঁত নই; ভুল করতে পারি, হোঁচট খেতে পারি, কিন্তু আমি চেষ্টা করছি আরও ভাল হতে।'
অভিনেত্রীর কথায়, তাঁর ‘বাস্তবতা’ নিয়ে বোঝাপড়াটা এসেছে অভিজ্ঞতা থেকেই। 'আমি নিজের জার্নির কথা বলতে পারি, অন্য কারও নয়। যারা আমার পথচলা দেখেছেন, তাঁরা জানেন. আমার ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, বিচ্ছেদ, অসুস্থতা, সবই ছিল খোলা বইয়ের মতো ছিল। এর জন্য আমাকে অনেক সময় ট্রোল হতে হয়েছে ও বিচার সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি, এই সমস্যাগুলো দুর্বলতা নয়। সমস্যা হলে সেটা মিটবে একদিন।'
সাফল্যের সংজ্ঞা নিয়েও নিজের ভাবনা শেয়ার করেন সামান্থা। এই যুগে দাঁড়িয়ে তিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিন্তু সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে উদ্দেশ্য থাকা জরুরি বলে মনে করেন। শুধু নাম বা খ্যাতির পিছনে দৌড়লে সেটা শূন্য। বলেন, 'আমি অনেক পডকাস্ট শুনেছি, এমন মেন্টরদের কথা শুনেছি যারা আমার চিন্তাধারা পাল্টে দিয়েছে। আজ এই প্রজন্মের উচিত মেন্টর বাছাই করার সময় সাবধান হওয়া, কারণ ভুল পথপ্রদর্শক পুরো জীবন ঘুরিয়ে দিতে পারে।'
জীবনে কেমন চলবে, কীভাবে তাকে চালানো যাবে এটা নির্ভর করে একজন কীভাবে বড় হচ্ছেন, তারওপর, মনে করেন অভিনেত্রী। শিকড় ভোলেন না, ভুলে যাওয়ার পক্ষপাতীও নন। শেষে উল্লেখ করেন, 'আমি খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছি। আমাদের তখন টেবিলে খাবার তুলতেও কষ্ট হতো। পরে নাম, খ্যাতি, অর্থ- সব পেয়েছি। কিন্তু সেই সবকিছুই এক সময় বিভ্রান্ত করেছিল। মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করিনি তাই এখনও টিকে আছি।'