অনু আগরওয়ালের এই সাহসী বক্তব্য বলিউডের এক সময়কার অন্ধকার দিককে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তিনি কেবল অতীতের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন তা নয়, বরং সমাজের চোখে ‘বিষয়টি কতটা খারাপ’ — সেটাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন।

অনু আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 19 May 2025 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো:‘আশিকি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনু আগরওয়াল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলিউডের বহু আলোচিত এক বিষয়কাস্টিং কাউচ ও আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে মুখ খুললেন। তাঁর বক্তব্যই এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
এক সময় নয়ের দশকে বলিউডে উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন, সেই অনু আগরওয়াল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কাস্টিং কাউচ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা এমন ভাব করছি কেন যেন কিছু হয়নি? কাস্টিং কাউচ তো সর্বত্রই রয়েছে।’ তাঁর মতে, শুধু সিনেমা নয়, ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে কর্পোরেট জগত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এ ধরণের অনৈতিক প্রস্তাব ও সম্পর্কের মিশ্রণ রয়েছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কখনও কাস্টিং কাউচের শিকার হননি। তিনি জানান, ‘আমি সবসময় পরিচালক ও প্রযোজকদের সঙ্গে পেশাগত দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করেছি।’ মহেশ ভাটসহ সকল পরিচালকের সঙ্গেই তার সম্পর্ক পেশাদার ছিল বলে তিনি জানান।
অনু বলেন, ‘এই কাস্টিং কাউচ নিয়ে এত শোরগোল কেন? পুরুষ ও নারীর মধ্যে আকর্ষণ তো চিরকালীন বিষয়, এটা মানব সভ্যতারই অঙ্গ।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি কেউ নিজের ক্ষমতা ব্যবহার না করে, সেটাই খারাপ। শুধু প্রস্তাব এলে, আর তাতে কেউ সাড়া না দিলে, তাতে দোষ কোথায়?’
বলিউডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব
সাক্ষাৎকারে অনু আরও একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘নয়ের দশকে বলিউড ছিল দাউদ ইব্রাহিমের মতো গ্যাংস্টারদের নিয়ন্ত্রণে। সব টাকা আসত আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে। তখনকার চলচ্চিত্র জগৎ ছিল একেবারেই কালো টাকার উপর নির্ভরশীল ছিল।’ তাঁর আরও অভিযোগ, আজও ‘আশিকি’ ছবির জন্য সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক পাননি। ‘শুধু ৬০ শতাংশ টাকা পেয়েছি, বাকি ৪০ শতাংশ এখনও বকেয়া।’
অনু আগরওয়াল ১৯৯৯ সালে একটি ভয়ানক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন, যার ফলে তিনি ২৯ দিন কোমায় ছিলেন। এরপর তিনি সিনেমা জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আধ্যাত্মিক পথে যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ‘অনু আগরওয়াল ফাউন্ডেশন’ পরিচালনা করেন এবং পেয়েছেন ‘আত্মনির্ভর ভারত’ পুরস্কার।
অনু আগরওয়ালের এই সাহসী বক্তব্য বলিউডের এক সময়কার অন্ধকার দিককে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তিনি কেবল অতীতের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন তা নয়, বরং সমাজের চোখে ‘বিষয়টি কতটা খারাপ’ — সেটাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন।