পরিচালকদের সঙ্গে টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের সংঘাতের আঁচ এসে পড়েছিল অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের কেরিয়ারে। কাজ থেমে গিয়েছিল, সেট থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছিল তাঁকে।

শেষ আপডেট: 5 February 2026 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিচালকদের সঙ্গে টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের সংঘাতের আঁচ এসে পড়েছিল অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের কেরিয়ারে। কাজ থেমে গিয়েছিল, সেট থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। প্রকাশ্যে কেউ না বললেও, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে সেটা কার্যত এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা হয়ে উঠেছিল। (Anirban Bhattacharya, Dev)
এই টানাপড়েনের মধ্যেই চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্ক্রিনিং কমিটির এক বৈঠক শেষে এক নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চান দেব। হাতজোড় করে অনুরোধ করেন ফেডারেশনকে, যাতে অভিনেতা আবার কাজের সুযোগ পান। শুধু অনুরোধেই থামেননি, প্রয়োজনে নিজে অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার কথাও বলেন। সেই মুহূর্ত ঘিরে টলিপাড়ায় আলোচনার ঝড় ওঠে।
এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন অনির্বাণ। এক সাক্ষাৎকারে তাঁর কথায় ছিল কৃতজ্ঞতা, কিন্তু তার সঙ্গে ছিল স্পষ্ট এক রেখা টানা অবস্থান। তিনি বলেন, দেবের প্রতি তিনি সত্যিই কৃতজ্ঞ। শুধু দেব নন—পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও তাঁর হয়ে কথা বলেছেন। অনির্বাণের কাছে এই সমর্থন কোনও রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং সহমর্মিতা ও ভালোবাসার প্রকাশ। তাঁদের কথার মধ্যে তিনি দেখেছেন অভিভাবকের মতো স্নেহ, একজন সহকর্মীর প্রতি আন্তরিক দায়িত্ববোধ।
তবু একটি জায়গায় এসে তিনি থামতে চান। অনির্বাণের বক্তব্য পরিষ্কার—ক্ষমা শব্দটা খুব হালকা নয়। তাঁর মতে, মানুষ তখনই ক্ষমা চায়, যখন সে নিজের অন্যায় বুঝতে পারে। তাই কেউ যেন তাঁর হয়ে ক্ষমা না চান, এটাই তাঁর আবেদন। সমস্যার আলোচনা হতে পারে, সেই আলোচনায় তিনি নিজে থাকতে চান। কথা বলায় তাঁর কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু ‘ক্ষমা’ এমন এক অনুভব, যা অন্যায়ের স্বীকৃতি ছাড়া আসে না।
এই প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন অনির্বাণ। জীবনে বহুবার, বহু মানুষের কাছে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন—কিন্তু প্রতিবারই তখন, যখন তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে ভুলটা তাঁরই। সেই মুহূর্তে এক সেকেন্ডও দেরি করেননি। আজও তাঁর অবস্থান বদলায়নি। যদি কেউ তাঁকে বুঝিয়ে দেন তাঁর অন্যায়টা কোথায়, তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না। কিন্তু সেই অন্যায় আগে স্পষ্ট হওয়া দরকার।
এই সাক্ষাৎকারেই উঠে আসে আরও এক আবেগঘন প্রসঙ্গ—দেব-শুভশ্রীর ‘দেশু’ জুটি। ব্যক্তিগত ভাবে এই জুটিকে ঘিরে তাঁর বিশেষ কোনও আবেগ নেই, তা অকপটে স্বীকার করেন অনির্বাণ। কিন্তু তিনি মনে করিয়ে দেন, ব্যক্তিগত অনুভূতি এখানে মুখ্য নয়। ‘দেশু’ টলিউডের কাছে একটা বড় অনুভব, একটা স্মৃতি। বহু বছর পর ‘ধূমকেতু’ মুক্তি পেয়েও যে উন্মাদনা তৈরি করেছিল, তা দেখে বিস্মিত হয়েছেন তিনিও। আর যদি পুজোয় আবার সেই জুটি বড় পর্দায় ফিরে আসে, এবং তার হাত ধরে বক্স অফিসে নতুন প্রাণ আসে, তাহলে একজন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির কর্মী হিসেবে তাঁর চেয়ে খুশি কেউ হবে না বলেই মনে করেন অনির্বাণ। কারণ একটি ছবি ব্যবসা করলে শুধু তার নায়ক-নায়িকা বা প্রযোজক নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রিই ঘুরে দাঁড়ায়।
অন্য দিকে, জানুয়ারির সেই বৈঠকের পর দেব নিজেও স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অনির্বাণ একজন অসাধারণ অভিনেতা। ফেডারেশনের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তিনি চান অনির্বাণ কাজ করুক—নিজের ছবিতে থাকুক বা না থাকুক। দেব জানিয়েছিলেন, ফেডারেশন যেহেতু টেকনিশিয়ানদের সর্বোচ্চ সংগঠন, তাই তিনি সেখানেও অনুরোধ করবেন, যাতে অনির্বাণকে কাজ করতে দেওয়া হয়। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও বিষয়টি দেখার আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকি বলেছিলেন, যদি ক্ষমা চাইতেই হয়, তবে তিনি নিজেই অনির্বাণের হয়ে তা চেয়ে নেবেন।