ভারতীয় থিয়েটার ও সিনেমার বর্ষীয়ান অভিনেতা-পরিচালক অমোল পালেকরকে ২০২৬ সালের মহীন্দ্রা এক্সেলেন্স ইন থিয়েটার অ্যাওয়ার্ডসে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মানে ভূষিত করা হবে।

অমোল পালেকর
শেষ আপডেট: 11 March 2026 15:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় থিয়েটার ও সিনেমা জগতের বর্ষীয়ান অভিনেতা-পরিচালক অমোল পালেকর-কে (Amol Palekar) ২০২৬ সালের মহীন্দ্রা এক্সেলেন্স ইন থিয়েটার অ্যাওয়ার্ডস-এ লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মানে (Lifetime Achievement Award META 2026) ভূষিত করা হবে। ভারতীয় থিয়েটার ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘ কয়েক দশকের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে সমকালীন গল্প বলার ধরনকে নতুনভাবে তুলে ধরেছিলেন অমোল পালেকর।
এই পুরস্কারের ২১তম সংস্করণ আয়োজন করছে মহীন্দ্রা গ্রুপ এবং প্রযোজনায় রয়েছে টিমওয়ার্ক আর্টস। আগামী ১৯ থেকে ২৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয়াদিল্লি-তে অনুষ্ঠিত হবে সপ্তাহব্যাপী এই থিয়েটার উৎসব। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উল্লেখযোগ্য নাট্যপ্রযোজনা এই উৎসবে মঞ্চস্থ হবে এবং শেষে আয়োজিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
দীর্ঘ কর্মজীবনে থিয়েটার, চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন অমোল পালেকর। মঞ্চনাটকের ক্ষেত্রে তিনি দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। প্রচলিত অডিটোরিয়ামের বাইরে পার্ক, ছাদ, ক্যান্টিন এমনকি গ্যারাজের মতো অপ্রচলিত জায়গাতেও নাট্যপ্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।
১৯৭০-এর দশকে হিন্দি সিনেমাতেও তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাধারণ মধ্যবিত্ত চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন সেই সময়ের জনপ্রিয় ‘বয়-নেক্সট-ডোর’ নায়ক। তাঁর অভিনীত একাধিক ছবি আজও দর্শকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। এর মধ্যে রয়েছে ছোটিসি বাত, চিতচোর, ভূমিকা, বাতোঁ বাতোঁ মে এবং গোলমাল।
৮১ বছর বয়সী এই অভিনেতাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল অপরাধভিত্তিক থ্রিলার সিরিজ ফারজি-তে। এই সিরিজে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন শাহিদ কাপুর, বিজয় সেতুপতি, রাশি খান্না, কে কে মেনন এবং ভুবন অরোরা। সিরিজটির নির্মাতা ছিলেন পরিচালক জুটি রাজ ও ডিকে।
২০২৬ সালের এই থিয়েটার উৎসবের জন্য সারা দেশ থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৪২২টি আবেদন জমা পড়েছে। ২০টিরও বেশি রাজ্য এবং ১০০টিরও বেশি শহর থেকে প্রায় ৬০টি ভাষা ও উপভাষায় তৈরি নাট্যপ্রযোজনা এই তালিকায় ছিল। সেখান থেকে বাছাই করে ১৩টি বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য ১০টি প্রযোজনাকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে META সচিবালয়।
নির্বাচিত নাটকগুলো কমানি অডিটোরিয়াম এবং শ্রী রাম সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস—এই দুই মঞ্চে প্রদর্শিত হবে। উৎসব চলাকালীন প্রতিদিন দুটি করে শো অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ মার্চ কমানি অডিটোরিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, যার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।
মনোনীত নাটকগুলোর বিষয়বস্তুতে রয়েছে পুরাণ, ভক্তি, পরিচয়, রাজনীতি এবং সামাজিক পরিবর্তনের মতো নানা দিক। হিন্দি, মালয়ালম, বাংলা, মারাঠি, হিন্দুস্তানি, সংস্কৃত, বুন্দেলখণ্ডি, ইংরেজি এমনকি ‘গিবারিশ’ ভাষাতেও এই নাটকগুলো মঞ্চস্থ হবে। ২০২৬ সালের বিচারকমণ্ডলীতেও রয়েছেন থিয়েটার জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব—অমল আল্লানা, অনুরাধা কপুর, রাজিত কপুর, সতীশ আলেকর এবং ইলা অরুণ।