দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার বর্ষীয়ান নির্মাতা ও সুরকার থাক্কালি শ্রীনিবাসন ৭২ বছর বয়সে প্রয়াত।

থাক্কালি শ্রীনিবাসন
শেষ আপডেট: 11 March 2026 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের বর্ষীয়ান নির্মাতা ও সঙ্গীতশিল্পী থাক্কালি শ্রীনিবাসন (Thakkali Srinivasan) আর নেই। ১০ মার্চ বেঙ্গালুরুতে স্বাস্থ্যজনিত জটিলতার কারণে ৭২ বছর বয়সে প্রয়াত হন তিনি। প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, সুরকার ও চিত্রনাট্যকার—একাধিক পরিচয়ে দীর্ঘদিন দক্ষিণী সিনেমায় কাজ করেছেন শ্রীনিবাসন। তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করেন অনুরাগী ও চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীরা।
১১ মার্চ বেঙ্গালুরুতেই সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য। শ্রীনিবাসনের মৃত্যুর খবরটি প্রথম জানান তাঁর পাবলিসিস্ট। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে প্রযোজক, পরিচালক ও সুরকার থাক্কালি শ্রীনিবাসন বেঙ্গালুরুতে স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে প্রয়াত হয়েছেন। জীবনের শেষদিকে তিনি একটি আশ্রম পরিচালনা করতেন এবং দত্তক নেওয়া সন্তানদের সঙ্গে সেখানেই বসবাস করতেন।”
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দক্ষিণী সিনেমাকে উপহার দিয়েছেন একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবি। প্রযোজক হিসেবে তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে ইভারগাল ভারুঙ্গালা থুংগাল, মানাসুকুল মাথাপ্পু, নালায়া মানবন, জেনমা নক্ষত্রম, অধিসিয়া মানবন এবং উইটনেস। পাশাপাশি তিনি অভিনেতা হিসেবেও কাজ করেছেন এবং কমল হাসান অভিনীত সূরা সংহারাম ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
প্রযোজক হিসেবেই চলচ্চিত্রজগতে পথচলা শুরু করেছিলেন শ্রীনিবাসন। তিনি প্রথম প্রযোজনা করেন ইভারগাল ভারুঙ্গালা থুংগাল। পরে ১৯৮৯ সালে তিনি প্রযোজনা করেন বিজ্ঞানভিত্তিক ছবি নালায়া মানবন। ছবিটি দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেললে পরের বছর তার সিক্যুয়েল অধিসয়া মানবন তৈরি করা হয়।
১৯৯১ সালে তিনি পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন অতিপ্রাকৃত ঘরানার ছবি জেনমা নক্ষত্রম দিয়ে। এরপর উইটনেস-এর মতো বহু তারকা অভিনীত ছবিও পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর পরিচালিত শেষ ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অশোকবনম এবং অদুথাথু, যা মুক্তি পায় ২০১১ সালে।
চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি সঙ্গীত নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। অনেক ছবির জন্য সুরও দিয়েছেন শ্রীনিবাসন। বিশেষ করে প্রেমি–শ্রীনি জুটি হিসেবে তাঁর সঙ্গীত সহযোগিতাও তামিল সিনেমায় বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।
যদিও তিনি বিশেষভাবে তেলুগু চলচ্চিত্রজগতেও পরিচিত ছিলেন, তবু তামিল সিনেমায় তাঁর অবদানও সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি মানবিক কাজের জন্যও তিনি সমাদৃত ছিলেন। জীবনের শেষদিকে একটি আশ্রম পরিচালনা করা এবং দত্তক সন্তানদের নিয়ে সেখানে বসবাস করার জন্য অনেকের কাছেই তিনি সম্মান অর্জন করেছিলেন।