'অমিতদা আমাদের কোমর থেকে বেল্ট খুলে আপনাকে প্রাণে বাঁচাব?' কিন্তু তখনও প্যান্ট উপরের দিকে টেনে চলেছেন অমিত কুমার। বসছেন দাঁড়াচ্ছেন কিন্তু প্যান্ট তবু কোমরে আটকাচ্ছে না।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 1 August 2025 16:28
তিনি মঞ্চে এলেন, গাইলেন, জয় করলেন। এক নিমেষে তিনি কলকাতার মাটিতে নামিয়ে আনলেন স্বর্ণযুগের রূপকথা। বাবাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ৭৩ বছরের তরুণ ভরাট কণ্ঠে একের পর এক গান গেয়ে মঞ্চ মাতিয়ে দিলেন। তিনি অমিত কুমার গাঙ্গুলি। কিশোর কুমার স্মরণে গতকাল নজরুল মঞ্চে পারফর্ম করলেন কিশোর পুত্র অমিত কুমার (Amit Kumar) ও কিশোর পৌত্রী মুক্তিকা গাঙ্গুলি।
কিন্তু অমিত কুমার মঞ্চে প্রবেশ করতেই ঘটল বিপত্তি। 'গায়ক'-এর জিনসের প্যান্ট খুলে যাবার উপক্রম হল। দর্শকরা রীতিমত আতঙ্কিত হলেন প্রকাশ্যে কিশোর পুত্র বেআব্রু না হয়ে যান! নজরুল মঞ্চ জুড়ে হৈচৈ শুরু হল।
গতকাল বৃহস্পতিবার নজরুল মঞ্চে 'জীবন কী হার মোর পে' শীর্ষক অনুষ্ঠানে কিশোর কুমার ও আশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একের পর এক ধামাকাদার পারফরমেন্স করলেন অমিত কুমার। কে বলবে তাঁর বয়স ৭৩ বছর! কিন্তু মঞ্চে প্রবেশের সময় ভীষণ আড়ষ্ট ছিলেন অমিত কুমার। কারণ তাঁর জিনসের প্যান্ট বারবার কোমর থেকে নেমে যাচ্ছিল। মঞ্চে গায়কের প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে স্ট্যান্ডিং ওবেশন দেয় দর্শকরা। এতদিন পর কিশোর পুত্র কলকাতাতে পারফরম্যান্স করতে আসায় হলে তিলধারণের জায়গা ছিল না। কিন্তু তারপরেই ঘটল অঘটন। যা বিপদের থেকে চলে গেল মজায়।
মেয়র পরিষদ দেবাশিস কুমার অমিত কুমারকে যখন সংবর্ধনা দিতে ওঠেন তখন থেকেই স্মারক নেবেন কী কোমর থেকে জিনসের প্যান্ট বারবার উপরে টানতে থাকেন অমিত কুমার। বেল্ট না লাগিয়ে তাঁর প্যান্ট ক্রমশ নীচে নেমে যাতে থাকে। এরকম ঘটনা কখনও চাক্ষুষ করেনি কলকাতা। নজরুল মঞ্চের হাউসফুল দর্শক ততক্ষণে বলতে শুরু করেছে 'অমিতদা আমাদের কোমর থেকে বেল্ট খুলে আপনাকে প্রাণে বাঁচাব?' কিন্তু তখনও প্যান্ট উপরের দিকে টেনে চলেছেন অমিত কুমার। বসছেন দাঁড়াচ্ছেন কিন্তু প্যান্ট তবু কোমরে আটকাচ্ছে না। যতই তোলা হোক প্যান্ট ততই নেমে যেতে থাকে। সারা হল তখন হাসছে।
শেষ অবধি বিপদ আসন্ন দেখে অমিত কুমার উদ্যোক্তাদের বলেন তাঁর জন্য একটা বেল্টের জোগাড় করে দিতে। কিছুক্ষণ পরেই বেল্ট চলে আসে তারজন্য। যেন প্রাণ ফিরে পান অমিত কুমার। সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চের আলো কমে আসে। শর্ট শার্ট তুলে কোমরে বেল্ট লাগাতে লাগাতে গ্রিনরুমের ভিতরে চলে যান অমিত কুমার। তখন সারা হলে হাসির কলরব।
তখন ফাঁকা মঞ্চে দর্শকদের সামাল দিতে থাকেন আরজে অরবিন্দ। কিছুক্ষণ পর আবার মঞ্চে ফিরে আসেন অমিত কুমার। দর্শকরা তখনও হাসতে থাকলে সবাইকে মিষ্টি করে ধমকে দেন তিনি। তারপর আর তাঁকে পায় কে একের পর এক বাবার গানে মাঝেমধ্যে নিজের হিট গানেও মন ভরিয়ে দেন তিনি। 'হাওয়ায় মেঘ সরায়ে' থেকে 'ইয়ে রাতে ইয়ে মৌসম'।
এমন প্যান্ট নিয়ে কান্ড আগে ঘটেনি কলকাতায়। কিছু দর্শক অবশ্য বলে উঠলেন সবটাই অমিত কুমারের নাট্যরূপ দর্শকদের আকর্ষণ ধরে রাখতে। কিশোর কুমারও মঞ্চে শাড়ি পরে এসে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তেমনই দর্শকদের মন ভরাতে প্যান্ট নিয়ে মজা করেছেন অমিতকুমার। তবে সবাই এটাও বললেন এমন মজা করতে এযুগে একমাত্র অমিত কুমারই পারেন। যেই তিনি ভরাট কণ্ঠে 'মেরে মেহবুব' ধরলেন একদম সঙ্গীতের মুচ্ছর্নায় ডুবে গেল দর্শক।