পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অক্ষয় কুমার।

অক্ষয় কুমার
শেষ আপডেট: 24 March 2026 19:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধের আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে পশ্চিম এশিয়া। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার পালটা জবাব দিচ্ছে ইরান, ফলে আরব দুনিয়া জুড়ে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি (Iran Israel Conflict)। এই যুদ্ধজিগিরের প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। তেলের দাম থেকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সবকিছু নিয়েই চিন্তায় পড়েছেন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। এমনই অশান্ত সময়ের প্রেক্ষাপটে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর বার্তা দিয়ে শান্তির আহ্বান জানালেন বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar)।
সমগ্র মানবজাতিকে এক পরিবার হিসেবে দেখার বার্তা দেয় ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ প্রবাদটি। মানবধর্মই যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম—এই দর্শন বেদ, উপনিষদ বা বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে বারবার উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশে দেশে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত আর ক্ষমতার লড়াইয়ে বিপন্ন হয়ে উঠছে মানবসভ্যতা। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে। আর সেই কারণেই মানুষের উদ্দেশে প্রার্থনার বার্তা দিলেন অক্ষয় কুমার।
সম্প্রতি মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘হুইল অফ ফরচুন’ নামের একটি কুইজ রিয়্যালিটি শোয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন খিলাড়ি তারকা। সেখানেই বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে অক্ষয় বলেন, পৃথিবীতে এখন অনেক দুর্ভোগ চলছে, চারদিকে যুদ্ধের আবহ। এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পরিবারের জন্য, দেশের জন্য এবং সকলের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, এই কঠিন সময়ে একে অপরের মঙ্গল কামনা করাই সবচেয়ে জরুরি।
এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে একই সুরে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ভারত সর্বদা মানবকল্যাণ ও শান্তির পক্ষে। যুদ্ধ কোনও সমস্যার সমাধান নয়, বরং আলোচনার টেবিলে বসে কূটনীতির মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সমস্ত সংঘাত প্রশমনে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের সঙ্গেই সুর মিলিয়ে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের কাছে সকলের কুশল কামনায় প্রার্থনার কথা বললেন অক্ষয় কুমার।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মঙ্গলবার ইরান যুদ্ধ ২৫ দিনে পড়েছে। এই দীর্ঘ সংঘাতে ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হলেও পালটা হামলায় আমেরিকারও ক্ষতি কম হয়নি। মার্কিন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেষ ২০ দিনের যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ছয়টি কেসি ট্যাঙ্কার ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ইজরায়েলের হাইফা তেল শোধনাগারসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক তেল ও গ্যাস ভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার পেরিয়ে গেছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও।