‘টাকার লোভে শর্টকাট নিও না’—বন্ধু রাজপাল যাদবকে সরাসরি বার্তা অক্ষয় কুমারের।

রাজপাল যাদব, অক্ষয় কুমার
শেষ আপডেট: 28 March 2026 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় (Cheque Bounce Case) গত ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লি উচ্চ আদালত থেকে বড় স্বস্তি পেয়েছেন অভিনেতা রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)। অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবারও ফিরে এসেছেন লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায়। বর্তমানে অক্ষয় কুমার–এর (Akshay Kumar) সঙ্গে আসন্ন ছবি ‘ভূত বাংলা’–র প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন রাজপাল। আর সেই প্রোমোশনের মাঝেই জেলফেরত বন্ধু ও সহ-অভিনেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন বলিউডের ‘খিলাড়ি’।
প্রচার অনুষ্ঠানে রাজপাল যাদবের কাজের প্রতি নিষ্ঠার প্রশংসা করতে গিয়ে অক্ষয় বলেন, রাজপালের মধ্যে একটা আলাদা গুণ রয়েছে। অন্য কোনও অভিনেতা যেখানে ১০০ শতাংশ দেন, সেখানে রাজপাল ১২০ থেকে ১৪০ শতাংশ উজাড় করে দেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করা সবসময়ই আনন্দের, কারণ তাঁদের খুনসুঁটি এবং ইম্প্রোভাইজেশন এতটাই স্বাভাবিক যে অনেক সময় চিত্রনাট্যে লেখা সংলাপের থেকেও সেটাই বেশি পছন্দ হয়ে যায় পরিচালক প্রিয়দর্শন–এর।
এই কথার মাঝেই উঠে আসে রাজপালের কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলার প্রসঙ্গ। তখনই প্রয়াত অভিনেতা আসরানি–র কাছ থেকে পাওয়া একটি মূল্যবান উপদেশের কথা স্মরণ করেন অক্ষয়। তিনি জানান, আসরানি তাঁকে একবার বলেছিলেন—অভিনেতা হলে অভিনেতাই থাকা উচিত, প্রযোজক হওয়ার ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। সেই একই উপদেশই তিনি রাজপালকেও দিয়েছেন। অক্ষয়ের কথায়, ছবি প্রযোজনা করার কৌশল প্রযোজকরাই সবচেয়ে ভালো বোঝেন, তাই না বুঝে শর্টকাট পথে টাকা রোজগারের চেষ্টা করা উচিত নয়। অভিনেতা হিসেবে নিজের পরিচয় ও কাজের দিকেই মন দেওয়া সবচেয়ে জরুরি।
তবে শুধু উপদেশ দিয়েই থামেননি অক্ষয়। তিনি আশাবাদী, রাজপাল এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। তাঁর মতে, রাজপাল একজন অসাধারণ অভিনেতা এবং তাঁর প্রতিভা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং কমিক টাইমিং বরাবরই দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘হেরা ফেরি’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘ভাগম ভাগ’–সহ একাধিক ছবিতে দু’জনের যুগলবন্দি দর্শকদের হাসিয়েছে এবং সেখান থেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়েছে।
রাজপালের আইনি জটিলতার সূত্রপাত অবশ্য অনেক আগেই। ২০১০ সালে ‘আতা পাতা লাপাতা’ ছবির জন্য মুরালি প্রজেক্ট নামে দিল্লির একটি সংস্থার কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ায় সেই টাকা ফেরত দিতে পারেননি অভিনেতা। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়। পরে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টে যান রাজপাল ও তাঁর স্ত্রী, ফলে সাজা স্থগিত হয়।
২০২৪ সালে ফের দোষী সাব্যস্ত হলেও আদালত তাঁর সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে এবং মামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করে। এদিকে ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৯ কোটিতে। পরে জানা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দেড় কোটি টাকা ডিমান্ড ড্রাফটে জমা দিয়েছেন অভিনেতা, তবুও বকেয়া থেকে যায় কয়েক কোটি টাকা।