প্রতিদিনের জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত, হাসি, রাগ, অভিমান—সবই সায়ক তুলে ধরতেন ক্যামেরার সামনে। কিন্তু এমন এক বিতর্ক পড়লেন যে সব থামিয়ে দিয়েছিল সেই নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ।

শেষ আপডেট: 16 February 2026 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিদিনের জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত, হাসি, রাগ, অভিমান—সবই সায়ক তুলে ধরতেন ক্যামেরার সামনে। কিন্তু এমন এক বিতর্ক পড়লেন যে সব থামিয়ে দিয়েছিল সেই নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ। গোমাংস কাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী। আর তেমনই সময়ে মধ্যেই এলো এক আধ্যাত্মিক ইঙ্গিত—শিবরাত্রির পবিত্র দিনে। (Sayak Chakraborty, Sayak Chakraborty beef controversy , Sayak complaint Olypub , Olypub waiter arrested in beef controvesry, Maha Shivratri 2027)
রবিবার, শিবরাত্রির বিকেলে হঠাৎই তাঁর সোশাল মিডিয়া প্রোফাইলে দেখা গেল একটি ছবি। ছবিতে দেবাদিদেব মহাদেবের হাত ছুঁয়ে রয়েছে এক যুবকের করতল। অনেকেই মনে করছেন, এতদিনের বিতর্কের ঝড় পেরিয়ে এবার হয়তো নিজের অবস্থান নতুন করে জানাতে চাইলেন তিনি—যেন বলতে চাইলেন, যে যাই বলুক, মহাদেব তাঁর পাশে রয়েছেন।
কমেন্ট বক্সে ভেসে উঠল অপেক্ষার কথা। কেউ লিখলেন, তাঁকে খুব মিস করছেন। কেউ আবার অনুরোধ করলেন, আগের মতো নিয়মিত ভিডিও পোস্ট করতে। তবে সবাই যে সহানুভূতিশীল, তা নয়। কটাক্ষও কম হয়নি। কেউ ব্যঙ্গ করে জানতে চেয়েছেন, “আবার অলিপাবে যাবে কবে?”—এই প্রশ্ন যেন তাঁর অতীতের সেই বিতর্ককেই আবার টেনে আনল সামনে।
কিছুদিন আগেই গোমাংস কাণ্ড ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সায়ক। এক বেয়ারার ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে করা তাঁর মন্তব্য ও হুঁশিয়ারি তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয় ওই বেয়ারাকে, আর সেই ঘটনাই যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। কার্যত ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে কলকাতা শহর। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, তাঁর বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এক নাট্যব্যক্তিত্ব ও পরিচালক।
পরবর্তীতে অবশ্য পরিস্থিতি বদলায়। সায়ক নিজেই বেয়ারার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নেন। জামিনে মুক্ত হন ওই বেয়ারা। সায়ক প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান। কিন্তু তাতে ক্ষতটা পুরোপুরি ভরাট হয়নি। বিতর্কের দাগ থেকে যায়। আর সেই সময় থেকেই যেন নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি সোশাল মিডিয়ার কোলাহল থেকে। যে মানুষ প্রতিদিন নিজের জীবনকে ক্যামেরায় বন্দি করে শেয়ার করতেন, তিনি হঠাৎই হয়ে যান সম্পূর্ণ নিশ্চুপ।
দিন চারেক আগে একটি পাতাঝরা গাছের ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি। ছবিটা ছিল নিঃশব্দ, নির্জন। আর এবার শিবরাত্রিতে মহাদেবের হাতের সেই স্পর্শ—এ যেন এক নতুন বার্তা, এক নতুন ইঙ্গিত।