এরপর বেশ কিছু বছর মা-মেয়ের একসঙ্গে কাটে। সারাদিন একসঙ্গে থাকা, অল্প কথায় বোঝাপড়া, নিঃশব্দে আগলে রাখার অভ্যাস—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল এক গভীর বন্ধন।

শেষ আপডেট: 20 January 2026 12:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মায়ের অনুপস্থিতি যে কতটা গভীর শূন্যতা তৈরি করতে পারে, তা শব্দে প্রকাশ করার নয়। আজ দু'বছর পেড়িয়ে সেই শূণ্যতাকেই যেন ঘিরে ধরে আছে অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের (Sudipa Chatterjee) জীবনে। বছর দুয়েক আগে মাকে হারানোর পর থেকে যেন তাঁর চারপাশের চেনা পৃথিবীটাই অচেনা হয়ে গিয়েছে। হাসি, গান, আনন্দ, সবকিছুর মধ্যেই আজ অনাবিল এক বিষণ্ণতার ছায়া।
বাবার মৃত্যুর পর সুদীপা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, মাকে আর একা রাখা যাবে না। তাই মাকে নিজের কাছেই নিয়ে আসেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁর স্বামী অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। সুদীপার দুই দাদার কর্মসূত্রে ঘনঘন বদলির কথা মাথায় রেখেই অগ্নিদেব তাঁদের বোঝান, দাদারা এবং তাঁদের স্ত্রী নিজেদের পেশায় ব্যস্ত, সন্তানরা স্কুলে চলে যায়, ফলে সারাদিন মা একা পড়ে থাকবেন। তার চেয়ে সুদীপার কাছেই থাকা সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বস্তির হবে। কারণ, সুদীপা তখন নিয়মিত শুটিং করতেন না, মাসে কয়েকদিন ‘রান্নাঘর’(Zee Bangla Rannaghar)-এর কাজ থাকত। বাড়িতে পোষ্য, লোকজন সবসময় থাকায় মায়ের একাকিত্বও কাটবে—এই ভাবনাতেই সেই সিদ্ধান্ত।
এরপর বেশ কিছু বছর মা-মেয়ের একসঙ্গে কাটে। সারাদিন একসঙ্গে থাকা, অল্প কথায় বোঝাপড়া, নিঃশব্দে আগলে রাখার অভ্যাস—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল এক গভীর বন্ধন। কিন্তু দু’বছর আগে মায়ের চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন সুদীপার জীবনের ছন্দ ভেঙে যায়।
তিনি নিজেই স্বীকার করেন, তার পর থেকে দিন যেন কাটে না। রাত নামলেই মন ভারী হয়ে আসে। খেতে বসলে খাবারে আর রুচি নেই। গান শোনা ভালো লাগে না। বসন্ত এলেও কুহু কোকিলের ডাক আনন্দ নয়, বরং মনকে আরও বিষণ্ণ করে তোলে।
একদিন মনখারাপ নিয়ে মায়ের ঘরে বসে ছিলেন তিনি। সেই সময় রান্নার দিদি এসে অনুরোধ করেন, অল্প করে খেয়ে নিতে। সঙ্গে বলেন, মাছটা মায়ের মতো হয়েছে কি না দেখতে। ভাত মেখে মুখে তুলতেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি সুদীপা। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সামনেই তখন দুর্গাপুজো। তখনই একে একে ধরা পড়ে বাস্তব ছবিটা, কোন বাসন নিরামিষ, কোনটা আমিষ, তা আর ঠিকমতো মনে নেই। পদ্মফুল ফুটিয়ে কোথায় রাখতে হয়, ভোগের চাল কোথায় রাখা থাকে—সবই অজানা। এমনকি মা দুর্গার গয়নাগুলো কোথায় রাখা আছে, সেটুকুও জানেন না।
এই সমস্ত ছোট ছোট বিভ্রান্তির মধ্যেই হঠাৎ করেই বড় সত্যটা উপলব্ধি করেন সুদীপা। বুঝতে পারেন, মা সারাজীবন তাঁকে নিঃশব্দে আগলে রেখেছেন। তিনি কখনও মাকে আগলে রাখতে পারেননি। নিজের সব দায়িত্ব, কষ্ট আর অবহেলা চুপচাপ সহ্য করে মা শুধু হাসিমুখেই থেকেছেন। আর হয়তো মনে মনে মেয়ের দিকেই তাকিয়ে নীরবে হাসতেন।