আলোটা যেন হঠাৎ করেই নিভে গিয়েছিল। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং নিজের ছন্দে একটু দূরে সরে থাকা—এভাবেই কাটিয়েছেন দীর্ঘ আট বছর।

শেষ আপডেট: 27 March 2026 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলোটা যেন হঠাৎ করেই নিভে গিয়েছিল। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং নিজের ছন্দে একটু দূরে সরে থাকা—এভাবেই কাটিয়েছেন দীর্ঘ আট বছর। আর সেই নীরবতার পর্দা সরিয়ে আবার বড়োপর্দায় ফিরছেন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত নির্মাতা Q। তাঁর নতুন ছবি ‘দেশলাই’ যেন শুধু একটি সিনেমা নয়, আজকের সময়কে আয়নার মতো দেখার এক সাহসী প্রয়াস।
Q মানেই বরাবরই অন্যরকম গল্প, প্রচলিত ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা ভাষা। তাঁর আগের কাজগুলো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে বারবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। আর এবার ‘দেশলাই’-এ তিনি ঢুকে পড়েছেন আমাদের চারপাশের সেই অদ্ভুত, দ্রুত বদলে যাওয়া ডিজিটাল জগতে—যেখানে খ্যাতি একদিকে হাতের মুঠোয়, আবার ঠিক ততটাই ফসকে যাওয়ার মতো।
এই গল্পের কেন্দ্রে জেওয়েল—সিজু শাহরিয়ারের অভিনয়ে এক সাধারণ মানুষ, যার স্বপ্ন খুব সাধারণ অথচ ভয়ংকর বড়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রিয়ম আর্চি, আরজে সায়ন, রদ্দুর রায় এবং নওশাবা আহমেদ—প্রতিটি চরিত্র যেন এই সময়েরই প্রতিচ্ছবি।
আজকের পৃথিবীতে যেখানে একটি স্মার্টফোন আর কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওই কাউকে ভাইরাল করে দিতে পারে, সেখানে ‘দেশলাই’ দেখায় সেই স্বপ্নের ভেতরের লড়াই। রিলস আর শর্ট ভিডিওর এই দুনিয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন মুখ উঠে আসছে—কেউ দিনমজুর, কেউ একেবারে সাধারণ মানুষ—যারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খুঁজে নিচ্ছেন নিজের পরিচয়, নিজের কণ্ঠস্বর। এই ছবিতে সেইসব মানুষের গল্পই ধরা পড়েছে, যাদের স্বপ্ন একটাই—দেখা যাওয়া, চিনে নেওয়া, আর একটু বড় হয়ে ওঠা।

কনটেন্টের এই গণতান্ত্রিক যুগে সফলতার সংজ্ঞাই বদলে যাচ্ছে—Q সেই পরিবর্তনের ভেতরের টানাপোড়েন, আকাঙ্ক্ষা আর ভাঙনের গল্পই বলছেন তাঁর নিজস্ব ভাষায়। ‘দেশলাই’ তাই কেবল একটি চরিত্রের গল্প নয়, বরং এক প্রজন্মের অদৃশ্য ক্ষুধার কথা—দৃশ্যমান হওয়ার ক্ষুধা। ‘আজকের দিনে সবকিছুই যেন কনটেন্টে পরিণত হয়েছে। অথচ যারা এই কনটেন্ট তৈরি করে, তাদের ব্যক্তিগত লড়াই বা গল্প খুব একটা সামনে আসে না। এই ছবিটা মূলত সেই মাইক্রো ইনফ্লুয়েন্সারদের নিয়েই—যারা স্বীকৃতি আর রোজগারের নতুন পথ খুঁজে নিয়েছে।’ বললেন Q। এখানেই থামেননি পরিচালক, ‘এই নতুন ডিজিটাল নির্মাতাদের যুগ আমাকে গভীরভাবে টানে। আমি দেখছি, এই পরিবর্তনের ঢেউ সমাজকেও বদলে দিচ্ছে। তাই এমন একটি গল্প বলতে চেয়েছি, যেখানে স্পষ্ট হবে—একটা ফোনের ছোট্ট স্ক্রিনই কীভাবে মানুষের স্বপ্ন দেখার সবচেয়ে বড় জানালায় পরিণত হয়েছে।’
এই ছবির টাইটেল ট্র্যাকেও থাকছে বাড়তি চমক। মিউজিক ভিডিওতে দেখা যাবে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে, যার শুটিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। গান আর ভিজ্যুয়ালের সেই মেলবন্ধন ছবির আবেগকে আরও গভীর করবে বলেই আশা।
Q তাঁর স্বভাবসিদ্ধ শৈলীতে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বের জগৎ তৈরি করেছেন—যেখানে খ্যাতি যেন খুব কাছের, অথচ ঠিক ছোঁয়ার আগেই সরে যায়। একটুখানি আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতো—যা জ্বালাতে পারে, আবার পুড়িয়ে দিতেও পারে। খুব শিগগিরই বড় পর্দায় আসছে ‘দেশলাই’।