বলিউডে আবার ম্যাজিক! সৌজন্যে আমির খান এবং রাজকুমার হিরানি। তৃতীয়বারের মতো একসঙ্গে কাজ করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা-পরিচালক জুটি, এবং এবার তাদের নতুন প্রজেক্ট একটি ব্যতিক্রমী জীবনীচিত্র—ভারতীয় সিনেমার জনক দাদাসাহেব ফালকের জীবনের উপর ভিত্তি করে।

আমির-রাজু
শেষ আপডেট: 28 June 2025 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডে আবার ম্যাজিক! সৌজন্যে আমির খান এবং রাজকুমার হিরানি। তৃতীয়বারের মতো একসঙ্গে কাজ করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা-পরিচালক জুটি, এবং এবার তাদের নতুন প্রজেক্ট একটি ব্যতিক্রমী জীবনীচিত্র—ভারতীয় সিনেমার জনক দাদাসাহেব ফালকের জীবনের উপর ভিত্তি করে।
দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘রাজা হরিশচন্দ্র’-এর নির্মাতা ফালকের কাহিনি বলিউডের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। সেই ইতিহাসকে বড়পর্দায় জীবন্ত করতে চলেছেন আমির-হিরানি, ছবিটি শুরু হবে অক্টোবর ২০২৫-এ এবং সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ২০২৬-এর বড়দিনে।
এই বায়োপিকের স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় চার বছর আগে। চিত্রনাট্য নির্মাণে ছিলেন রাজকুমার হিরানি স্বয়ং, তাঁর বহুদিনের সহচর অভিজাত যোশী এবং সঙ্গে ছিলেন হিন্দুকুশ ও অভিষ্কার ভরদ্বাজ। ফালকের পরিবার থেকেও এই উদ্যোগকে সমর্থন করা হয়েছে। তাঁর নাতি চন্দ্রশেখর পুসলকর প্রকাশ্যে বলেছেন, হিরানি ও আমিরের চেয়ে ভালো টিম এই কাজের জন্য কল্পনা করা যায় না।
এই ছবিতে যুগের প্রেক্ষাপট নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে যুক্ত হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ভিএফএক্স স্টুডিও, যারা এআই-ভিত্তিক ভিজ্যুয়াল রেফারেন্স তৈরি করছে যেন, সেই সময়কে নিখুঁতভাবে রূপ দেওয়া যায়।
আলোচনায় থাকা আরেকটি ছবি ‘সিতারে জমিন পর’-এর সাফল্যও নতুন এই বায়োপিক ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। আমির খানের প্রযোজনায় তৈরি ‘সিতারে জমিন পর’ মুক্তি পেয়েছে চলতি বছরে ২০ জুন, এবং মাত্র আট দিনের মধ্যে ৯৪ কোটির বেশি রোজগার করেছে।
ছবিটি একটি স্পোর্টস-কমেডি-ড্রামা যেখানে আমির অভিনয় করেছেন একজন প্রাক্তন বাস্কেটবল কোচের চরিত্রে। ড্রিংক অ্যান্ড ড্রাইভ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তাঁকে কমিউনিটি সার্ভিস হিসেবে একদল নিউরোডাইভার্জেন্ট শিশুকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রথমে অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাজটি শুরু করলেও, পরে সেই দায়িত্বই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো অভিজ্ঞতা। জেনেলিয়া দেশমুখ ছবিতে তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
একেবারে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এই ছবিতে। আরৌশ দত্তা, গোপী কৃষ্ণ ভার্মা, সাম্বিত দেশাই, ঋষভ জৈন, সিমরন মঙ্গেশকর সহ মোট দশজন নবাগত এই সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে পা রেখেছেন। পাশাপাশি ছবিতে দেখা গেছে ডলি আহলুয়ালিয়া, গুরপাল সিং, ব্রিজেন্দ্র কালা এবং অঙ্কিতা সহগলের মতো বর্ষীয়ান শিল্পীদেরও। ছবিটি ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে এবং সমালোচকদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উপস্থিতিতে ন্যাশনাল প্রেস স্ক্রিনিং-এ ছবিটি প্রদর্শিত হয় যেখানে নিউরোডাইভার্জেন্ট অভিনেতারাও আমন্ত্রিত ছিলেন।
এবারের দাদাসাহেব ফালকে বায়োপিক নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শুধু ইতিহাস নয়, এই ছবি সম্ভাবনা রাখে সমসাময়িক ভারতীয় সিনেমাকে নতুন এক মাত্রায় পৌঁছে দেওয়ার।
হিরানির গল্প বলার দক্ষতা, আমিরের অভিনয় এবং টিমের গবেষণাধর্মী প্রস্তুতি একত্রে এই ছবিকে বড়পর্দার এক অসাধারণ অভিজ্ঞতায় পরিণত করবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রবিশারদরা। বলিউডের ইতিহাসে এই বায়োপিক হতে পারে এক অনন্য সংযোজন—যেখানে শুধু একজন মানুষ নয়, উঠে আসবে ভারতীয় সিনেমার জন্ম, লড়াই আর বিস্মৃত অধ্যায়গুলো।