বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ নামে পরিচিত আমির খান তাঁর শৈশবের কঠিন সময়ের কথা জানালেন সম্প্রতি এক পডকাস্টে।

আমির খান
শেষ আপডেট: 3 June 2025 16:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ নামে পরিচিত আমির খান তাঁর শৈশবের কঠিন সময়ের কথা জানালেন সম্প্রতি এক পডকাস্টে। জানালেন, সিনেমার পরিবারের সদস্য হয়েও তাঁর জীবনটা মোটেই সহজ ছিল না। অভিনেতা বলেন, “বাড়িতে তখন চরম আর্থিক সঙ্কট। মানুষ এটা ভাবে যে প্রযোজকদের অনেক টাকা থাকে। আদতে বেশির ভাগ প্রযোজকই সংসার চালাতে হিমশিম খায়।”
আমিরের বাবা তাহির হুসেন নিজেও ছিলেন প্রযোজক ও পরিচালক। তাঁর একটি ছবি, 'লকেট', তৈরি হতে লেগে যায় দীর্ঘ আট বছর। সেই সময়ই শুরু হয় পরিবারের অর্থনৈতিক দুর্দশা। “অভিনেতাদের ডেট পেতেন না, ফলে ছবিটা দেড় বছরের জায়গায় আট বছর ধরে চলল। আট বছর বাড়িতে কোনও আয়ই ছিল না। ঋণ ছিল, আর তার সুদের হার ছিল ৩৬ শতাংশ,” বলেন আমির।
অভিনেতা জানান, তখন তিনি টেনিস খেলতেন, আর সেই খেলা থেকে যে পুরস্কারমূল্য পেতেন, সেটাই মায়ের হাতে তুলে দিতেন। বললেন, “জানতাম বাড়িতে টানাটানি চলছে। তাই বলতাম, আমার জুতো-কাপড় কিনতে হলে ওই টাকাতেই কিনে নিও। তখনই বুঝি, আমি ছোট বয়সেই দায়িত্ব নিতে শিখে গিয়েছিলাম।”
তাঁর প্রয়াত বাবা তাহির হুসেন ছিলেন একান্ত প্রতিশ্রুতিশীল মানুষ। “তিনি অভিনেতাদের বলে দিতেন, এই মুহূর্তে টাকা দিতে পারবেন না। ছবি রিলিজের পরেই দেবেন। দত্ত সাহেব (সুনীল দত্ত) আমাকে বলেছিলেন, বাবা যখন 'জখ্মী' (১৯৭৫) বানাচ্ছিলেন, তখন তিনিও ভেবেছিলেন হয়তো পারিশ্রমিক পাবেন না। কিন্তু ছবি হিট হওয়ার পরেই পুরো টাকাটা দিয়ে দেন বাবা। কথা রাখতে জানতেন উনি,” বলেন আমির।
তাহির হুসেন আরও একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন ছেলেকে— একটি ছবির গল্প এক লাইনে বলতে না পারলে, সেই ছবি হিট হবে না। আমির বলেন, “ছোটবেলায় ভাবতাম তিন ঘণ্টার ছবি এক লাইনে কীভাবে বলা যাবে! কিন্তু বড় হয়ে বুঝেছি, আসলেই যদি গল্পটা পরিষ্কার হয়, তা এক লাইনে বলা সম্ভব।” 'দঙ্গল' ছবির উদাহরণ দিয়ে আমির বলেন, “'মহারি ছোরি ছোরো সে কম কে হ্যায় কে?'—এই একটাই লাইন দিয়েই পুরো ছবির কথা বলা যায়।”
তাহির হুসেন প্রযোজনা করেছিলেন 'কারভান' (১৯৭১), 'অনামিকা' (১৯৭৩), ও 'হম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে' (১৯৯৩)-এর মতো সফল ছবি। ১৯৯০ সালে তিনি পরিচালনায় আসেন 'তুম মেরে হো' ছবির মাধ্যমে, যাতে অভিনয় করেছিলেন আমির নিজেই। তাহির হুসেনের মৃত্যু হয় ২০১০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।