কমল হাসান প্রযোজিত ও মণিরত্নম পরিচালিত এই ছবির প্রোমোশনে অভিনেতা তামিল-কন্নড় ভাষা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।

কমল হাসান। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 3 June 2025 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণী ও বলি-অভিনেতা কমল হাসানের আইনজীবী মঙ্গলবার কর্নাটক হাইকোর্টে জানিয়ে দিলেন মুক্তি আসন্ন থাগ লাইফের প্রদর্শন কর্নাটকে হবে না। আগামী ৫ জুন সারা ভারতে এই ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা। কমল হাসান প্রযোজিত ও মণিরত্নম পরিচালিত এই ছবির প্রোমোশনে অভিনেতা তামিল-কন্নড় ভাষা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। যা নিয়ে এদিন সকালে আদালত কমল হাসানকে দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন কিনা তা জানতে চেয়েছিল আদালত।
কর্নাটক হাইকোর্ট মঙ্গলবার সমালোচনা করে প্রখ্যাত অভিনেতা কমল হাসানকে। বলে, ‘আপনি কি ঐতিহাসিক?’ তাঁর নতুন ছবি ‘থাগ লাইফে’র মুক্তি যাতে কর্নাটকে সুষ্ঠুভাবে হয়, তার আর্জি জানিয়ে অভিনেতা সোমবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই আর্জিরই শুনানি হয় এদিন। প্রসঙ্গত, কন্নড় ভাষার জন্ম তামিল থেকে। এই কথা বলে কন্নড়ভাষীদের কাছে প্রবল বিরূপ সমালোচনার পাত্র হয়ে উঠেছেন কমল। এই অবস্থায় চলতি সপ্তাহেই মুক্তি আসন্ন ছবি কর্নাটকে চলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে প্রযোজক-নায়ক কমল হাসান পড়েছেন বিপাকে।
এদিন কর্নাটক হাইকোর্টের বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন বিরক্ত হয়ে কমল হাসানকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করছেন? আদালতের পর্যবেক্ষণ, তাঁর মন্তব্য রাজ্যের মানুষের ভাবাবেগকে আঘাত করেছে। বিচারপতি বলেন, মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। জলা (জল), নীলা (জমি) ও বাশে (ভাষা) হল মানুষের কাছে সবথেকে আবেগের জিনিস। এই দেশ বিভিন্ন রাজ্যে ভাগ হয়েছিল ভাষার ভিত্তিতে।
বিচারপতি কমল হাসানের অনড় অবস্থানের নিন্দা করেন। প্রশ্ন তোলেন, তাঁর মতো দায়িত্বপূর্ণ এক জনপ্রিয় ব্যক্তি কী করে এরকম করতে পারেন। বিচারপতি বলেন, কোনও ভাষাই অন্য ভাষা থেকে জন্মাতে পারে না। আপনি যা বলেছেন তার কী প্রমাণ আছে? আর আপনার এই মন্তব্যের ফলে কী হয়েছে, সম্প্রীতি নষ্ট হয়েছে। আর যে কারণে কর্নাটকের মানুষ শুধুমাত্র ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে আপনার কাছে।
বিচারপতি নাগপ্রসন্ন আরও বলেন, আজ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা কমল হাসানের জন্য। আপনাকে ক্ষমা চাইতে বলা হলেও তা অস্বীকার করেছেন। কন্নড়ভাষীদের ভাবাবেগে আপনি আঘাত করেছেন, কীসের ভিত্তিতে? আপনি কি ঐতিহাসিক না ভাষাতাত্ত্বিক। বিচারপতি আরও বলেন, আপনি যদি ক্ষমা না চান তাহলে কী করে চাইছেন কর্নাটকে এই ছবি মুক্তি পাক। ছেড়ে দিন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, তা অন্যের ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে। আপনি ক্ষমা চেয়ে নিন। কারণ আপনিও তো চান ছবির মুক্তিতে কর্নাটক থেকে কয়েক কোটি টাকা লাভ করতে। আর এখন আপনি এসেছেন পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে। এ তো আপনার বাণিজ্যিক স্বার্থ! একটা ক্ষমা চাইলে যা মিটে যেত। যাই হোক আপনার আর্জি খতিয়ে দেখা হবে। তবে আপনি যে একগুঁয়েমি দেখিয়েছেন সেটাও ভেবে দেখুন।