ঘটনাটি ঘিরে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কোনওরকম লিখিত অনুমতি ছাড়াই একাধিক মোটরবাইকে করে একটি দল কলেজ চত্বরে প্রবেশ করে। সেই দলে আমির খান ও অরিজিৎ সিং উপস্থিত ছিলেন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি।

শেষ আপডেট: 8 February 2026 13:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জিয়াগঞ্জে আমির খান (Aamir Khan) ও অরিজিৎ সিংয়ের (Arijit Singh) উপস্থিতি নিয়ে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা হঠাৎই রূপ নেয় নয়া বিতর্কে। দুই তারকার বন্ধুত্বের মুহূর্ত ঘিরে যেখানে উৎসবের আবহ ছিল, সেখানেই উঠে এসেছিল নিয়মভঙ্গ ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রে, জিয়াগঞ্জের রানি ধন্য কুমারী কলেজ।
ঘটনাটি ঘিরে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কোনওরকম লিখিত অনুমতি ছাড়াই একাধিক মোটরবাইকে করে একটি দল কলেজ চত্বরে প্রবেশ করে। সেই দলে আমির খান ও অরিজিৎ সিং উপস্থিত ছিলেন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি। কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, রাত প্রায় ১টা থেকে ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁরা ক্যাম্পাসের ভিতরেই ছিলেন।
কী অভিযোগ ওঠে?
অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় কলেজের ইনডোর গেমস হলে ব্যাডমিন্টন খেলা হয় এবং কিছু দৃশ্যের শুটিংও করা হয়। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে মধ্যরাতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড ঘিরেই প্রশ্ন তুলেছিলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর জিয়াগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন। নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সিসিটিভি ফুটেজ শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন তোলেন— পরিচিত মুখ হলেই কি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম উপেক্ষা করার অধিকার থাকে? তাঁর আরও অভিযোগ, স্থানীয় নাইট গার্ডকে প্রভাবিত করেই অনুমতি ছাড়াই কলেজে ঢোকা হয়েছিল এবং জায়গাটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
কেন মুছে ফেলেন সেই পোস্ট?
তবে এই প্রতিবাদের স্থায়িত্ব ছিল খুবই অল্প সময়ের। কিছুক্ষণের মধ্যেই অধ্যক্ষ নিজের পোস্ট ও ভিডিও মুছে ফেলেন। পরে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি জানান, তাঁকে বাধ্য হয়েই আগের পোস্ট ডিলিট করতে হয়েছে। কেন তাঁকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হল, সে বিষয়ে জানান, এই নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং এই পোস্ট করার পর তাঁকে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়, পরবর্তীতে বিষয়টা বিচার করে ও বিতর্ক থামাতে, তিনি পোস্ট ডিলিট করেন। এর পর থেকেই স্থানীয় স্তরে গুঞ্জন, প্রভাবশালী মহলের চাপেই কি অধ্যক্ষ পিছিয়ে এলেন?
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জনমত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। একাংশের মতে, এটি নিছকই তারকাদের ব্যক্তিগত সময় কাটানো। তবে অন্যদিকে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক অনুমতির বিষয়টি নিয়ে। রাত দেড়টায় কোনও কলেজে প্রবেশ, শুটিং বা খেলাধুলা— তা আদৌ নিয়মসঙ্গত কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে জোরালোভাবে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ঘটনায় তারকাদের উপস্থিতির থেকেও বড় বিষয় হল সরকারি পরিকাঠামোর ব্যবহার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেতা ও জনপ্রিয় গায়কের উপস্থিতিতে যদি এমন অনিয়ম ঘটে, তবে সাধারণ ক্ষেত্রে নজরদারি কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই বিতর্কে এখনও পর্যন্ত আমির খান বা অরিজিৎ সিং, কারও তরফেই কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে অধ্যক্ষের পোস্ট মুছে যাওয়ার পরও প্রশ্ন থামেনি। জিয়াগঞ্জের অলিগলি থেকে সোশাল মিডিয়ার পরিসর, সর্বত্রই এখন একটাই জিজ্ঞাসা ঘুরছে, নিয়ম কি সকলের জন্য সমান, নাকি খ্যাতির আড়ালে সবকিছুই ঢেকে যায়?