কার্স্টেন জানিয়েছেন, তিনি এবং তৎকালীন অধিনায়ক এমএস ধোনির সমর্থনেই বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন যুবরাজ সিং।

যুবরাজ সিং ও গ্যারি কার্স্টেন
শেষ আপডেট: 18 July 2025 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমিত ওভারের ক্রিকেটে প্রাক্তন অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের (Yubraj Singh) দাপট ছিল দেখার মতো। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- সব বিভাগেই এই ‘পাঞ্জাব পুত্তর’ ছিলেন ম্যাচ উইনার। দু-দু’টি বিশ্বকাপ খেতাব রয়েছে তাঁর ক্যাবিনেটে। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১১ ওডিআই বিশ্বকাপজয়ী (2011 ODI World Cup) ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন যুবি।
২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডের পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডকে এক ওভারে হাঁকিয়ে ছিলেন ছয় ছক্কা। পাশাপাশি গোটা বিশ্বকাপ জুড়েই তিনি ছিলেন দুরন্ত। সেই সঙ্গে ২০১১ ওডিআই বিশ্বকাপে হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা। তবে এবার জানা গেল, ভারতের এই অন্যতম প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের নাকি ২০১১ বিশ্বকাপে স্থান নিশ্চিত ছিল না।
১৯৮৩ সালে কপিল দেবের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো একদিনের বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। এরপর চলছিল দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে ২০১১ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে ঘরের মাঠে একদিনের বিশ্বকাপ জেতে টিম ইন্ডিয়া। সেই দলের প্রধান কোচ ছিলেন প্রাক্তন প্রোটিয়া ওপেনার গ্যারি কার্স্টেন (Gary Kirsten)। তিনি বিশ্বকাপ জেতার ১৪ বছর পর যুবরাজকে নিয়ে মুখ খুলে জানালেন, এই তারকা অলরাউন্ডারের নাম নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ছিল এবং তিনি বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ ছিল।
কার্স্টেন জানিয়েছেন, তিনি এবং তৎকালীন অধিনায়ক এমএস ধোনির সমর্থনেই বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন যুবরাজ সিং। পরবর্তীতে যা ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে উজ্জ্বল সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। ভারত ২০১১ বিশ্বকাপের খেতাব জেতে দীর্ঘ ২৮ বছরের খরার অবসান ঘটিয়ে।
মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সেবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় মেন ইন ব্লুজ। এটি দেশের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত ছিল এবং এই সাফল্যের গল্পে যুবরাজ সিং কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। যুবরাজ সিংকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়েছিল। তিনি ৩৬২ রান করার পাশাপাশি ১৫ উইকেট নিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তাঁর ফিল্ডিংও ছিল অসাধারণ।
যুবরাজের এই সাফল্যের পিছনে ছিল কঠোর পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত রূপান্তরের গল্প। Rediff.com-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারেগ্যারি কার্স্টেন যুবরাজ সিংয়ের প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং বলেন যে, তিনি সবসময় যুবরাজের ব্যাটিং দেখতে উপভোগ করতেন, যদিও মাঝে মাঝে এটি হতাশাজনক ছিল।
গ্যারি বলেছেন, “আমি সবসময় যুবরাজকে ভালবাসতাম। ও মাঝে মাঝে আমাকে অনেক কষ্ট দিত, কিন্তু আমি তাকে ভালবাসতাম। খুবই ভাল মনের মানুষ ছিল যুবি। ক্রিকেটার হিসাবেও ছিল অসাধারণ। আমি শুধু চেয়েছিলাম ও সবসময় বড় ইনিংস খেলুক, কারণ ওর ব্যাটিং খুবই মজাদার ও উপভোগ্য ছিল।”
যুবরাজ সিংকে সাহায্য করার জন্য কার্স্টেন মানসিক কন্ডিশনিং কোচ প্যাডি আপটনকেও কৃতিত্ব দেন। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন এই কোচ জানিয়েছেন, আপটন যুবরাজকে টুর্নামেন্টের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করেছিলেন।
কার্স্টেন বলেন, “যুবরাজ সিংকে টুর্নামেন্টের জন্য একটি যাত্রা পরিকল্পনা করতে হতো, এবং এর কৃতিত্ব প্যাডির। প্যাডি যুবরাজ সিংকে প্রস্তুত করার জন্য অনেক কাজ করেছিল। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য যুবরাজ কিছু বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্যাডির সহায়তায়।”
যুবরাজ সিং ভারতের জার্সিতে ৩০৪টি ওয়ানডে ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১৪টি সেঞ্চুরি এবং ৫২টি হাফ-সেঞ্চুরি-সহ ৮,৭০১ রান। সেই সঙ্গে বল হাতে নিয়েছেন ১১১টি উইকেট।
২০১১ বিশ্বকাপ চলাকালীন মাঠে অনেকবার বমি করতে দেখা গিয়েছিল যুবরাজকে। বিশ্বকাপ শেষেই তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর ফের বাইশ গজে ফিরে আসেন তিনি। আজ, যুবরাজ কেবল একজন ম্যাচ উইনার হিসাবেই নয়, বরং জীবনের যুদ্ধের পাশাপাশি খেলার মাঠেও জয়ী একজন যোদ্ধা হিসাবে পরিচিত।