বহুদিন ‘আন্ডারঅ্যাচিভার’ তকমা বয়ে বেড়ানো আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি এবার ইতিহাসের পাতায়। পুরুষ ও মহিলা—দুই মঞ্চেই চ্যাম্পিয়ন। বেঙ্গালুরুর রাস্তায় এখন তাই শুধু উৎসব। আরসিবি মানেই এখন নিশ্চিত ট্রফির ঠিকানা।

বিরাট ও স্মৃতি
শেষ আপডেট: 6 February 2026 10:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ই সালা কাপ নামদে’—এবার আর স্লোগান নয়, রেকর্ড। মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগ (WPL) ২০২৬ জিতে ইতিহাস গড়ল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru)। একই সঙ্গে পুরুষদের আইপিএল (IPL) ও মহিলাদের ডব্লিউপিএল—দুটো ট্রফিই এখন আরসিবির ক্যাবিনেটে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা লিখলেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। প্রাপক একজনই—আরসিবি মহিলা দলের অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা (Smriti Mandhana) এবং তাঁর দল।
কোহলির বার্তা: ‘আরসিবির পতাকা আরও উঁচুতে’
ফাইনালের শেষ রান হতেই কোহলির পোস্ট। সরাসরি শুভেচ্ছা স্মৃতি ও গোটা টিমকে। তিনি লেখেন, ‘আবার চ্যাম্পিয়ন। আরসিবির পতাকা উঁচুতে রাখলে তোমরা—যার জন্য প্রত্যেকেই গর্ব করতে পারে। স্মৃতি, পুরো স্কোয়াড আর ম্যানেজমেন্টকে অভিনন্দন। এই জয় পুরোপুরি তোমাদের প্রাপ্য।’
দীর্ঘ অপেক্ষার গল্পে মেয়েদের দলই প্রথম বদল এনেছিল। ২০২৪ সালে ডব্লিউপিএল জিতে ট্রফির খরা ভাঙে। পরের বছর আইপিএল জিতিয়ে ইতিহাস লেখেন রজত পাটিদার (Rajat Patidar)। এবার ২০২৬-এ এসে বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজি এক লাফে ‘ডবল চ্যাম্পিয়ন’।
বরোদার ফাইনাল: রেকর্ড রান চেজ
গতকাল বরোদার বিসিএ স্টেডিয়ামে (BCA Stadium) ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস নাটক। দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals) তোলে ২০৩/৪—ডব্লিউপিএল ফাইনালের সর্বোচ্চ স্কোর। জেমিমা রদ্রিগেজের (Jemimah Rodrigues) ৫৭ রান ম্যাচের সুর বেঁধে দেয়। কিন্তু চাপের মঞ্চে জ্বলে ওঠেন স্মৃতি মান্ধানা। ব্যাট হাতে ভরসা জোগান। ৪১ বলে ৮৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। সঙ্গে জর্জিয়া ভলের (Georgia Voll) ৭৯। দু’জনে মিলে ১৬৫ রানের জুটি গড়ে দিল্লির বোলিং আক্রমণ কার্যত ভেঙে দেন। শেষ দিকে সামান্য বিপদ দেখা দিলেও দুই বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে আরসিবি—যা ডব্লিউপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সফল রান চেজ!
‘ডবল চ্যাম্পিয়ন’ আরসিবি, স্মৃতির সোনালি মরশুম
২০২৫–২৬ মরশুমকে আরসিবির ‘গোল্ডেন ইয়ার’ বলাই যেতে পারে। লিগ পর্বে আট ম্যাচে ছ’টি জয়। সরাসরি ফাইনালে ওঠা। আর পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দলের মুখ স্মৃতি মান্ধানা। ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা, নেতৃত্বে দৃঢ়তা—সব মিলিয়ে সঙ্গত কারণেই অরেঞ্জ ক্যাপ (Orange Cap) তাঁর দখলে। বহুদিন ‘আন্ডারঅ্যাচিভার’ তকমা বয়ে বেড়ানো আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি এবার ইতিহাসের পাতায়। পুরুষ ও মহিলা—দুই মঞ্চেই চ্যাম্পিয়ন। বেঙ্গালুরুর রাস্তায় এখন তাই শুধু উৎসব। আরসিবি মানেই এখন নিশ্চিত ট্রফির ঠিকানা।