আপাত-নির্ঝঞ্ঝাট ট্রেনযাত্রার আগে মাঠে কিন্তু ভালই ঝড় তুলেছিলেন দুবে। ফাইনালে ২০তম ওভারে তিনটে চার ও দুটো ছক্কা মেরে ভারতের স্কোর আড়াইশো পার করান। গোটা টুর্নামেন্টে ১৬৯-এর স্ট্রাইক রেটে ২৩৫ রান, ১৭টি ছক্কা।

শিবম দুবে
শেষ আপডেট: 11 March 2026 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার রাতে আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ জিতল ভারত। গোটা দেশ তখনও উদযাপনে মেতে। কোথাও রাতশেষের পার্টি, কোথাও বন্ধুর বাড়িতে অনেক দিনের ফেলে রাখা গেট টুগেদার!
এতকিছুর মধ্যে বাকি টিম ফ্লাইটে চড়ে নিজেদের শহরে ফিরে এলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম সদস্য শিবম দুবে (Shivam Dube) কিন্তু ততক্ষণ অপেক্ষা করেননি। রবিবাসরীয় রাতেই চুপচাপ ট্রেনে উঠে পড়েন আমদাবাদ থেকে মুম্বই যাওয়ার জন্য। থার্ড এসিতে। বিশ্বকাপ মেডেল হাতে নিয়ে!
কেন ট্রেন, কীসের এত তাড়া?
বিষয়টা তক্ষুনি জানা যায়নি, প্রকাশ্যে এসেছে আজ। দুবে জানিয়েছেন, তাঁর এই ‘জলদি’র একটাই কারণ: ফ্লাইট পাওয়া যাচ্ছিল না। আমদাবাদ থেকে মুম্বইয়ের সমস্ত বিমান ‘বুকড’ দেখাচ্ছিল। দীর্ঘ পথ সড়কপথে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু সময় বেশি লাগত। অথচ ‘দুবেজি’র মাথায় তখন একটাই চিন্তা—চার বছরের ছেলে আয়ান আর দুই বছরের মেয়ে মেহভিশের কাছে তাড়াতাড়ি পৌঁছনো! তাই বাধ্য হয়ে ভোর পাঁচটা দশ মিনিটের ট্রেন। স্ত্রী আঞ্জুম ও এক বন্ধুকে নিয়ে তিনটে থার্ড এসি-র টিকিট কেটে নেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুবের মন্তব্য, ‘থার্ড এসিতেই টিকিট পাচ্ছিলাম, তাই বুক করে নিলাম!’
ক্যাপ, মাস্ক আর আপার বার্থ!
বিশ্বকাপ জেতার কয়েক ঘণ্টা পরে ট্রেনে উঠলে চেনা যাবে না—ভেবেছিলেন শিবম। অথচ বাস্তবে স্টেশনজুড়ে তখনও ভারতের জার্সি গায়ে সমর্থকদের ছয়লাপ। বাধ্য হয়ে পরিচয় গোপন রাখতে মাথায় দিলেন টুপি, মুখ ঢাকলেন মাস্কে, গায়ে ফুলহাতা টি-শার্ট। কিন্তু তাতেও সন্দেহ ঘুচল কই—যদি কেউ চিনে নেয়! ভরসা হল না। তাই স্ত্রীকে বললেন, ‘ট্রেন ছাড়ার পাঁচ মিনিট আগে গাড়ি থেকে নামব। সরাসরি কোচে উঠে যাব!’
যেমন ভাবা তেমন কাজ। প্ল্যানমাফিক ট্রেনে উঠে সোজা উপরের বার্থে। বেশিরভাগ সময় সেখানেই কাটালেন। রাতে ওয়াশরুমে যাওয়ার সময়ও কেউ চিনতে পারেননি। কিন্তু চিন্তা ছিল মুম্বইয়ের বোরিভলি স্টেশনে নামার। দিনের আলোয়, ভিড়ের মধ্যে চেনা যাবে নিশ্চিত। তাই আগেভাগেই থানায় ফোন করেন। পুলিশ ভেবেছিল, কাপজয়ী তারকা বিমানবন্দরে আসছেন। ট্রেনের কথা শুনে তাঁরাও অবাক। যদিও সময়ের মধ্যে স্টেশনে চলে আসে ছোটখাট বাহিনী। তারপর পুলিশি এসকর্টে নিরাপদে বেরিয়ে বাড়ি পৌঁছে যান শিবম।
টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স
আপাত-নির্ঝঞ্ঝাট ট্রেনযাত্রার আগে মাঠে কিন্তু ভালই ঝড় তুলেছিলেন দুবে। ফাইনালে ২০তম ওভারে তিনটে চার ও দুটো ছক্কা মেরে ভারতের স্কোর আড়াইশো পার করান। গোটা টুর্নামেন্টে ১৬৯-এর স্ট্রাইক রেটে ২৩৫ রান, ১৭টি ছক্কা। চারটি আলাদা পজিশনে ব্যাট করেছেন—কখনও ইনিংস গড়তে, কখনও শেষে ঝোড়ো সমাপ্তি টানতে। হার্দিক পাণ্ডিয়া থাকলেও দুবে হয়ে ওঠেন অন্যতম ম্যাচ উইনিং অপশন। ২০২৪ বিশ্বকাপের পর সমালোচনার ঝড় সামলে ২০২৬-এ ফিরে এসেছেন পরিণত মেজাজে। এবার বিশ্বকাপের মেডেল হাতে, থার্ড এসির বার্থে শুয়ে ঘরে ফেরা—এই গল্পটা বলে দিচ্ছে মানুষ শিবম দুবে আসলে ঠিক কেমন।