মহিলা ক্রিকেটের নিরিখে এই বৃদ্ধি ঐতিহাসিক। ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়া শিরোপা জেতার পর পেয়েছিল মাত্র ১১.৬৫ কোটি টাকা। অথচ তিন বছরের মধ্যে সেই অঙ্ক প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়ে দাঁড়াল প্রায় ৪০ কোটিতে।

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 1 September 2025 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেট দুনিয়ায় নজিরবিহীন ঘোষণা। ছেলেদের টপকে মেয়েদের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করল আইসিসি (ICC)। সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৩৯.৫৫ কোটি টাকা (৪.৪৮ মিলিয়ন ডলার)। যা হিসেবমতে ২০২৩ পুরুষ বিশ্বকাপের বিজয়ী টিমের পুরস্কারমূল্যকেও ছাড়িয়ে যাবে!
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে মেয়েদের ওয়ান ডে বিশ্বকাপ। যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্ট হবে পাঁচটি ভেন্যুতে—ভারতের গুয়াহাটি, ইন্দোর, নবি মুম্বই ও বিশাখাপত্তনম, আর শ্রীলঙ্কার কলম্বো। ফাইনাল ২ নভেম্বর। মোট ৮টি দল খেলবে। এই টুর্নামেন্টের মোট পুরস্কার তহবিল ধরা হয়েছে ১২২.৫ কোটি টাকা (১৩.৮৮ মিলিয়ন ডলার)। ২০২২ সালের নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে যা ছিল মাত্র ৩১ কোটি টাকা (৩.৫ মিলিয়ন ডলার), তাই এক লাফে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি (২৯৭ শতাংশ) পেয়েছে!
অর্থাৎ, ক্রিকেটে প্রথমবার মহিলাদের টুর্নামেন্টে পুরস্কার অর্থ পুরুষদের বিশ্বকাপকেও ছাপিয়ে গেল। গত বছর ভারতের মাটিতে ছেলেদের ওয়ান ডে বিশ্বকাপে মোট প্রাইজপুল ছিল ৮৮.২৬ কোটি টাকা (১০ মিলিয়ন ডলার)। এবার নারীদের ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক আরও অনেক বড়। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৩৯.৫৫ কোটি টাকা, রানার্স-আপ তুলবে ১৯.৭৭ কোটি। সেমিফাইনালে হারা দুই দল পাবে ৯.৮৯ কোটি করে। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি জয়ের জন্য থাকছে ৩০.২৯ লক্ষ টাকা। পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে থাকা দল তুলবে ৬.২ কোটি করে, সপ্তম ও অষ্টম স্থানে থাকা দল পাবে ২.৪৭ কোটি টাকা। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রত্যেক দলকেই দেওয়া হবে ২.২ কোটি টাকার অংশগ্রহণ ফি।
আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহের চোখে এই সিদ্ধান্ত ‘মহিলা ক্রিকেটের যাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক!’ তাঁর কথায়, ‘এর মধ্য দিয়ে আমরা বার্তা দিতে চাই—মহিলা ক্রিকেটাররা যদি এই খেলাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন, তাহলে তাঁদের পুরুষদের সমান মর্যাদা দেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন!’
মহিলা ক্রিকেটের নিরিখে এই বৃদ্ধি ঐতিহাসিক। ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়া শিরোপা জেতার পর পেয়েছিল মাত্র ১১.৬৫ কোটি টাকা। অথচ তিন বছরের মধ্যে সেই অঙ্ক প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়ে দাঁড়াল প্রায় ৪০ কোটিতে। স্পষ্টত, আইসিসি এ বার চাইছে শুধু মাঠের লড়াই নয়, নারী ক্রিকেটারদের আর্থিক মর্যাদাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছক। পুরস্কার অর্থে পুরুষদের ছাড়িয়ে যাওয়া তাই নিছক সংখ্যার খেলা নয়। এটা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা—যেখানে ‘উইমেনস ক্রিকেট’ কেবল অনুষঙ্গ নয়, মূল আসনের হকদার হয়ে উঠতে চলেছে।