বাংলাদেশ ‘এ' এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ভারতের কাছে হারল। ২০২৩-এর পর এবারও একই ফল। শুরুতে ধাক্কা, মাঝে ধৈর্য, শেষে নিয়ন্ত্রিত বোলিং—এই তিনের মিশেলেই তৈরি হল চ্যাম্পিয়নদের গল্প।
.jpeg.webp)
জিতল ভারত
শেষ আপডেট: 22 February 2026 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাপ ছিল। শুরুটা ভালো হয়নি। তবু শেষ হাসি হাসল সেই ভারত-ই! টের্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (Terdthai Cricket Ground) ফাইনালে বাংলাদেশ ‘এ’-কে (Bangladesh A) ৪৬ রানে হারিয়ে মেয়েদের এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস (ACC Women’s Asia Cup Rising Stars) শিরোপা ধরে রাখল টিম ইন্ডিয়া (India A Women)। অধিনায়ক রাধা যাদবের (Radha Yadav) দল আবারও প্রমাণ করল, কঠিন মুহূর্তে কীভাবে ম্যাচ ঘোরাতে হয়, সেটা তাদের ভালভাবে জানা।
শুরুতে ধাক্কা, তারপর ঘুরে দাঁড়ানো
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত দ্রুত উইকেট হারায়। স্কোরবোর্ডে আচমকা চাপ। সেই সময় এগিয়ে আসেন তেজল হাসাবনিস (Tejal Hasabnis)। মাত্র ৩৪ বলে ৫১ রান। তিনটি চার, দুটি ছক্কা। টিমের ইনিংস গুছিয়ে দেন তিনিই। হাত বাড়ান রাধাও। গড়েন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। পঞ্চম উইকেটে ৬৯ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচের মোড় ঘোরায়। যার সুবাদে শুরুতে বিপর্যয়ের পর ভারত ১৩৫ রানের লড়াইযোগ্য স্কোরে পৌঁছে যায়।
বাংলাদেশের হয়ে সফল বোলার অধিনায়ক ফাহিমা খাতুন (Fahima Khatun)। তিনি চার উইকেট নেন। তাঁর দুরন্ত স্পেল ভারতকে বড় স্কোর তোলা থেকে আটকে রাখে। তবে অন্য প্রান্ত থেকে নিয়মিত চাপে ফেলতে পারেননি বাকি কোনও বোলার।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ভাঙন
১৩৫ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই কোণঠাসা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকে। প্রায় সবাই বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ। শুধু শামিমা সুলতানা (Shamima Sultana) খানিক লড়াই চালান। কিন্তু জুটি না গড়ে ওঠায় রাশ বাংলাদেশের হাত থেকে বেরিয়ে যায়! আজ ভারতীয় বোলাররা লাইন-লেন্থে শৃঙ্খলা দেখান। ফলে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের রান তোলা কঠিন হয়ে ওঠে।
রাওয়াতের আগুনে স্পেল
বল হাতে ভারতের সেরা পারফর্মার প্রেমা রাওয়াত (Prema Rawat)। ৩ উইকেট ছিনিয়ে নেন মাত্র ২১ রান খরচ করে। যা সার্বিকভাবে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরতে দেননি। পাশাপাশি সোনিয়া মেন্দিয়া (Sonia Mendhiya) ও তনুজা কানওয়ার (Tanuja Kanwer) দুটি করে উইকেট শিকার বুঝিয়ে দেয় বোলিং আক্রমণে ভারসাম্য কতটা জোরালো! তা ছাড়া আজ রাধা যাদবের অধিনায়কত্বও আলাদা করে নজর কেড়েছে। সঠিক সময়ে বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ড সেটিং—সবই কাজ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ‘এ’ এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ভারতের কাছে হারল। ২০২৩-এর পর এবারও একই ফল। শুরুতে ধাক্কা, মাঝে ধৈর্য, শেষে নিয়ন্ত্রিত বোলিং—এই তিনের মিশেলেই তৈরি হল চ্যাম্পিয়নদের গল্প।