রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে, মহসিন নকভির হাতে অন্য একটি ট্রফি ওঠা মানেই স্মরণ করিয়ে দেওয়া—আসল ট্রফিটা এখনও দুবাইয়ের অফিসে, বিজয়ীদের কাছে নয়।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 24 November 2025 11:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোহায় রাইসিং এশিয়া কাপের মঞ্চে হাসিমুখে পাকিস্তান ‘এ’ দলের হাতে ট্রফি তুলে দিলেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) প্রধান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)। এমন ছবি-ভিডিও সাধারণত গর্বের মুহূর্তই মনে করায়। কিন্তু ভারতীয় ভক্তদের কাছে এই দৃশ্য আবারও সেই পুরনো প্রশ্নটা সামনে টেনে আনল—শুভমানদের জেতা আসল এশিয়া কাপের ট্রফি কোথায়? আদৌ বিসিসিআইয়ের দপ্তরে স্মারক এসেছে? নাকি নিজের অফিসেই রেখে দিয়েছেন মহসিন? অথবা রয়েছে দুবাইয়ে? চলতি বছর এশিয়া কাপ জিতেও ভারত ট্রফি ছুঁতে পারেনি—এই মানতে না পারা বাস্তবতা আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঢেউ তুলল।
দুবাইতে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ জিতেছিল ভারত। টানটান ফাইনালে তিলক বর্মার (Tilak Varma) ৬৯* রানের সুবাদে ১৪৭ রান তাড়া করে শিরোপা ছিনিয়ে নেয় টিম ইন্ডিয়া। ম্যাচ খতম। যদিও স্বাভাবিক কায়দায় ট্রফি প্রদান হয়নি। কারণ ভারতীয় দল সরাসরি জানিয়ে দেয়—তারা নকভির হাত থেকে ট্রফি নেবে না। মহসিন তো শুধু এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান নন, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। ফলে চূড়ান্ত উত্তেজক সিরিজ, চালু থাকা ‘নো-হ্যান্ডশেক’ প্রোটোকলকে বাড়তি মাত্রা যোগ করে ভারতের বয়কট-শো!
আসলে টিম ইন্ডিয়া চেয়েছিল ট্রফি তুলে দিন নিরপেক্ষ এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের কোনও আধিকারিক। এসিসি-প্রধান হিসেবে নকভি তাতে রাজি হননি। বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়, শেষ পর্যন্ত কোনও প্রেজেন্টেশনই চালু হয়নি। অতঃপর সবাইকে চমকে ট্রফি নিয়েই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন নকভি। যা আপাতত বন্দি আছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের দুবাই সদর দফতরে। দু’মাস কেটে গেলেও ভারতীয় দল ট্রফি হাতেই পায়নি। বিসিসিআই ইতিমধ্যে বিষয়টি এসিসি–কে জানিয়েছে। আইসিসি-র বৈঠকেও প্রসঙ্গ তোলা হবে।
এই পটভূমিতে রাইসিং এশিয়া কাপের ফাইনালের পর নকভিকে হাসিমুখে পাকিস্তান ‘এ’ দলের হাতে ট্রফি দিতে দেখামাত্রই নতুন তর্ক শুরু। পাকিস্তানি ভক্তরা একে ‘পোয়েটিক জাস্টিস’বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব। ভারতীয় ভক্তদের চোখে—এমন সময়ে এহেন ছবি অত্যন্ত ‘টোন-ডেফ’!
গতকাল দোহায় নাটকীয় ফাইনালে সুপার ওভারে বাংলাদেশ ‘এ’–কে হারিয়ে রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা জেতে পাকিস্তান ‘এ’। শুরুতে ২ রানে ২ উইকেট পড়ে গেলেও ইরফান খান নিয়াজির দল ১২৫ তোলে। সাদ মসুদের ৩৮, তারপর মাজ সদাকত ও আরাফাত মিনহাজের হাল ধরা ইনিংস ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
চেজে বাংলাদেশ ৫৩ রানে ৭ উইকেট খুইয়ে ভেঙে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সমতা টেনে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে যায়। সেখানে আহমেদ দানিয়াল মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। সাত রান তাড়া করে শিরোপা পায় পাকিস্তান ‘এ’। সদাকত হন সিরিজসেরা।
একদিকে পড়শি মুলুক যখন খেতাব জিতল, তখন গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান শাহিন্সের বিরুদ্ধে ৮ উইকেটের বড় হার (সদাকতের ৭৯* ও ২/১২), তারপর সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ টাই—সুপার ওভারে শূন্য রানে অলআউট হয়ে বিদায়… ভারতের পারফরম্যান্স আগাগোড়া বিশৃঙ্খল ও বিচ্ছিন্ন। স্বাভাবিক সময়ে রাইসিং এশিয়া কাপের ট্রফি হয়তো খুব আলোচনার বিষয় হত না। কিন্তু রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে, মহসিন নকভির হাতে অন্য একটি ট্রফি ওঠা মানেই স্মরণ করিয়ে দেওয়া—আসল ট্রফিটা এখনও দুবাইয়ের অফিসে, বিজয়ীদের কাছে নয়।