ফাইনাল শেষ হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু সেই ম্যাচ-পরবর্তী ‘ট্রফি নাটকে’র রেশ ফুরতে চেয়েও ফুরচ্ছে না! বিশ্বের কাছে যা ন্যক্কারজনক, এবার সেটাই যেন পাক প্রশাসনের কাছে গর্বের প্রতীক হয়ে উঠল!

মহসিন নকভি
শেষ আপডেট: 4 October 2025 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে যখন এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) ট্রফি সূর্যকুমার যাদবদের হাতে তুলে না দেওয়া নিয়ে বিস্তর ঝামেলার মধ্যে রয়েছেন, খেতাব নিজেই নিয়ে পালানোর অভিযোগে রীতিমতো বিদ্ধ, ইমপিচমেন্টের খাঁড়া নামতে চলেছে, দুনিয়াজুড়ে প্রবল বিতর্ক—সেই অবস্থায় ‘স্বদেশে পূজ্যতে রাজা’র স্টাইলে গলায় সোনার মেডেল ঝোলাতে চলেছেন পাক ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি!
ফাইনাল শেষ হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু সেই ম্যাচ-পরবর্তী ‘ট্রফি নাটকে’র রেশ ফুরতে চেয়েও ফুরচ্ছে না! বিশ্বের কাছে যা ন্যক্কারজনক, এবার সেটাই যেন পাক প্রশাসনের কাছে গর্বের প্রতীক হয়ে উঠল! যে কারণে পিসিবি (PCB) প্রধান ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) প্রেসিডেন্ট মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) এবার পাচ্ছেন দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান—‘শহিদ জুলফিকার আলি ভুট্টো এক্সেলেন্স গোল্ড মেডেল’। কারণ? ভারতীয় দলের ট্রফি নিতে অস্বীকার আর সেই সু্যোগে নকভি সাহেবের স্মারক নিয়ে মঞ্চ ছেড়ে চলে যাওয়া! একেই আপাতত পাকিস্তানে বিরাট বীরত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
সিন্ধ ও করাচি বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট গুলাম আব্বাস জামাল এই পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যখন দুই দেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া-সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল, তখন নকভির ‘নীতিগত ও সাহসী অবস্থান’ পাকিস্তানের জাতীয় মর্যাদা ‘পুনরুদ্ধার’ করেছে।
ঘটনাচক্রে, এশিয়া কাপের ফাইনালের পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতীয় খেলোয়াড়রা (Team India) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁরা নকভির হাত থেকে ট্রফি নেবেন না। দেশজুড়ে তখন ‘নো হ্যান্ডশেক’নীতি প্রবল ঢেউ তোলে। এরই প্রতিক্রিয়ায় রুষ্ট নকভি নিজে ট্রফি নিয়ে রেখে চলে যান। পরে এক্স-এ (X) পোস্ট করে লেখেন, ‘আমি কোনও ভুল করিনি। বিসিসিআইয়ের (BCCI) কাছে ক্ষমা চাইব না। ভারতীয় দল চাইলে এসিসির দফতরে এসে ট্রফি নিয়ে যেতে পারে!’
সেই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তানের রাজনীতি থেকে ক্রীড়া মহল—সব জায়গায় নকভিকে ‘জাতীয় বীর’হিসেবে দেখানো শুরু হয়েছে। এবার স্বীকৃতিও জুটল। যদিও এহেন পুরস্কারকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে, ভারতের ‘চাপের’ মুখে নতি না স্বীকার করার প্রতীক হিসেবে দেখতে চাইছেন।
সূত্রের খবর, সম্মাননা প্রদানের জন্য করাচিতে বিস্তর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি (Bilawal Bhutto Zardari)। আয়োজক কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সিন্ধ বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান খালিদ জামিল শামসি, সচিব করাচির কমিশনার গুলাম মহম্মদ খান। গুলাম আব্বাস জামালের ভাষায়, ‘এটা কেবল ক্রিকেট নয়, আত্মমর্যাদার লড়াই। চাপের কাছে নত না হওয়ার প্রতীক!’
এশিয়া কাপের কাণ্ডকারখানার পর ভারত অবশ্য বিষয়টি চেপে রাখেনি। বিসিসিআই অভিযোগ তুলেছে, নকভি সংস্থার সীমা অতিক্রম করেছেন, তাই এই নিয়ে পরবর্তী আইসিসি (ICC) বৈঠকে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানানো হবে।
সব মিলিয়ে, এক ম্যাচের মঞ্চে যে ঘটনা কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও তলানিতে নামিয়েছে, সেটাই এখন পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে ‘গৌরবের পদকে’। ভারতীয় ক্রিকেটারদের অস্বীকৃতির জবাবে নকভির এই সোনার মেডেল যেন কূটনৈতিক বিদ্রুপের চূড়ান্ত প্রতীক—যেখানে ট্রফি হাতছাড়া করেও ‘জয়’ ঘোষণা করা হচ্ছে মঞ্চের বাইরে!