অধিনায়ক শুভমান স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি পাকা নেতা না হলেও প্রস্তুত। সময় দিলে, আস্থা রাখলে টিম ইন্ডিয়াকে ঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবেন।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 5 August 2025 17:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভরকেন্দ্র সরে গেলে কিছু উত্থান হয়, কিছু পতন!
সদ্যসমাপ্ত ইংল্যান্ড সিরিজ ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে এই শিক্ষাই দিয়ে গেল। সফর শুরুর কিছুদিন আগেই রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির পাঁচ দিনের ব্যবধানে অবসর নির্বাচকদের দ্বিধায় ঠেলে দেয়। এমন একগুচ্ছ প্রশ্ন সামনে চলে আসে, যেটা অপ্রত্যাশিত এবং আশ্চর্যজনক ছিল। কে নামবে ওপেনে? চারে কে? দল বিপদে পড়লে সামনে দাঁড়িয়ে দিশা দেখাবেন কারা? দুই মহীরূহের বিদায় টিম ইন্ডিয়াকে যেন অভিভাবকহীন করে তোলে!
বোলিং বিভাগে জসপ্রীত বুমরাহ কোনও পাকাপাকি সমাধানের নিশ্চয়তা দেননি। জানিয়েছিলেন, সর্বাধিক তিনটি টেস্টে নামতে পারেন, এর বেশি নয়। যে কারণে দলনেতা হওয়ার প্রস্তাবও সসম্মানে ফেরান!
কিন্তু বোর্ডের মাথাব্যথা তখন বোলিং ইউনিট নয়, ব্যাটারদের নিয়ে। সেই সঙ্গে নেতৃত্ব বাছাই নিয়েও সংশয় ঘুরপাক খায়। শুভমান উদীয়মান, প্রতিভাবান, প্রতিশ্রুতিসম্পপ্ন হলেও ‘অভিজ্ঞ’ নন। বছর পঁচিশেই লাল বলের ক্রিকেটে দল পরিচালনার ভার তাঁর হাতে তুলে দেওয়াটা ব্যুমেরাং হবে না তো?
যেমনটা গোড়ায় বলা হয়েছে, ভরকেন্দ্র সরে গেলে একটা উচ্চাবচতা তৈরি হয়। ভারতীয় দলেও এই মুহূর্তে তেমন পরিস্থতি। অধিনায়ক শুভমান স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি পাকা নেতা না হলেও প্রস্তুত। সময় দিলে, আস্থা রাখলে টিম ইন্ডিয়াকে ঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবেন। বুমরাহকে নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও মেটেনি। ছ’নম্বরে কে, তিনেই বা কে নামবেন—জবাব মেলা বাকি।
কিন্তু এতকিছুর মধ্যে কেএল রাহুল, রবীন্দ্র জাদেজার পারফরম্যান্সে এটা সাফ: রোহিত, বিরাটের শূন্যস্থান বেশিদিন ফাঁকা থাকবে না!
১. অধিনায়ক শুভমানের উত্থান:
চাপ না নিয়ে নির্ভীক ক্রিকেট খেলেছেন শুভমান গিল। ব্যাট হাতে যেমন আত্মবিশ্বাসী, নেতৃত্ব দিতেও তেমনই সরব। সামনে দাঁড়িয়ে দলকে একসূত্রে গেঁথেছেন। ১০ ইনিংসে ৭৫৪ রান। গড় ৭৫-এর বেশি। চারটে সেঞ্চুরি। এজবাস্টনে প্রথম ইনিংসে দ্বিশতরানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ফের সেঞ্চুরি। সেনা সিরিজে এশিয়ার প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৭০০-র বেশি রান তোলেন। ভাঙেন কোহলির ৬৯২ রানের রেকর্ড। ভারতীয় দলের সার্বিক পারফরম্যান্স একটা সময় শুভমানের ছন্দে চলেছে। তিনি রান পেলে টিমের শরীরী ভাষা বদলে গিয়েছে, ব্যর্থ হলে নুয়ে পড়েছে মাথা। ‘যুবরাজ রাজা হিসেবে অভিষেকের পথে আরও এক কদম এগলেন!’—কমেন্ট্রি বক্সে বলা কথাটা অতিরঞ্জন নয়। এই নির্ভরতা ভেঙে দলের বেরিয়ে আসা জরুরি।
২. কেএল রাহুল:
শুভমান গিল যদি প্রাণকেন্দ্র হন, তাহলে কেএল রাহুল দলের পিলার। দল থেকে বাদ পড়ার কিংবা মিডল অর্ডারে নামার ভয় না থাকলে এবং উইকেটকিপারের দায়িত্ব ঘাড়ে না চাপালে তিনি ব্যাট হাতে কী জাদু দেখাতে পারেন, তার নজির পেশ করেছেন কখনও এজবাস্টনে, কখনও লিডসে। মোট ৫৩২ রান। গড় ৫৩। কিন্তু রানের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চাপের মুহূর্তে হাল ধরার দক্ষতা। যখন মনে হচ্ছে ধস নামা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা, তখনই ঢাল হয়ে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন। অনভিজ্ঞ টিম ইন্ডিয়ায় রাহুলের এহেন পরিণত ব্যাটিং গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
৩. রবীন্দ্র জাদেজা:
পাঁচটা হাফ সেঞ্চুরি, একটা সেঞ্চুরি। পাঁচশোর গণ্ডি পেরিয়েছেন। নেমেছেন লোয়ার অর্ডারে। আর হুড়মুড়িয়ে উইকেট পড়তে থাকা আটকে ম্যাচ বাঁচানো কিংবা টেস্ট জেতানো ইনিংস খেলেছেন। অর্ধেকের বেশি রান এসেছে বাউন্ডারি থেকে। গড় ৫৫-র বেশি। যা বুঝিয়ে দেয়, জাদেজা এমন ব্যাটার, যিনি ছন্দ ধরে রেখেও স্ট্রাইক রোটেট করতে জানেন।
৪. যশস্বী জয়সওয়াল:
উদ্বোধনী টেস্টে লিডসে এবং সমাপ্তি ম্যাচে ওভালে সেঞ্চুরি হাঁকান দলের তরুণ ওপেনার। এর মধ্যে বাকি ইনিংসে কখনও বড় রানের দিকে এগিয়েছেন, কখনও অহেতুক ঝুঁকি নিয়ে শট মারতে গিয়ে উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন। কিন্তু প্রথম ও শেষ ইনিংস বাদ দিয়ে মধ্যের ছ’ইনিংসে ১০১ রানের বেশি আসেনি। গোটা সিরিজে মোট ৪১১ রান তুলেছেন। দুটো সেঞ্চুরি, দুটো হাফ সেঞ্চুরি। ধারাবাহিকতা দেখাননি। কিন্তু ওভালে ফর্মে ফিরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও তিনি প্রত্যাবর্তন করতে পারেন।
৫. ঋষভ পন্থ:
দলের এক্স-ফ্যাক্টর। ৬৮-র গড়ে ৪৭৯ রান। চোটের জন্য শেষ টেস্টে নামতে পারেননি। ম্যাঞ্চেস্টারেও মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়। কিন্তু স্বভাবাসিদ্ধ আগ্রাসনের পাশপাশি ডিফেন্সে উন্নতি করে যেভাবে নতুন মোড়কে ধরা দিয়েছেন ঋষভ, তাতে আগামী দিনে দলের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে ওঠা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।