কিন্তু কেন সবার আগে বিরিয়ানিই বাদ পড়ে? ফিটনেস বাড়াতে, ওজন কমাতে এই ডিশ কীভাবে বাধা দেয়?

মহম্মদ সিরাজ
শেষ আপডেট: 5 August 2025 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহম্মদ সিরাজের (Mohammed Siraj) ভাগ্য তাঁর উপর কোনওদিনই পুরোপুরি সদয় নয়। এই দলে রয়েছেন, পরের সিরিজে বাদ পড়ছেন। তারপর ফের কড়া ট্রেনিং, কঠোর অনুশীলন।
যখনই টিম ইন্ডিয়ায় জায়গা জোটেনি, কুঁকড়ে না গিয়ে, কাঁদুনি না গেয়ে নিজেকে প্রশ্ন করেছেন। কোথায় খামতি রয়ে গেল? ঠিক কী করলে নিজেকে আরও শাণিত করা যাবে?
২০১৯ সালে জাতীয় দলের দরজা যখন আচমকা বন্ধ হয়ে গেল, তখন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। সিরাজের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বাতলে দেন ফিরে আসার মন্ত্র। টোকটা দেন ফিটনেস নিয়ে। ডায়েট চার্টও বেঁধে দেন। যেখানে জায়গা জোটেনি বিরিয়ানির (Biryani)। হায়দরাবাদের ছেলে। ছেলেবেলা থেকেই সুস্বাদু বিরিয়ানি খাওয়াটা রুটিনের মধ্যে পড়ে। ফলে বিরাটের পরামর্শে গোড়ায় একটু অসুবিধে হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু নিজেকে মানিয়ে নেন।
তখন বয়স ২৫ বছর। এক সাক্ষাৎকারে সিরাজ বলেন, ‘আমি আর বিরিয়ানি খাই না। আগে রোজ প্লেটে পড়ত। ইদানীং এটা চিট মিলের মতো হয়ে গিয়েছে। সত্যি বলতে, যদি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চাও, তাহলে বেশ কিছু জিনিস বাদ দিতে হয়!’
এরপর বিরাট ও মহম্মদ সামির প্রসঙ্গ টেনে জুড়ে দেন, ‘আমরা সবাই কোহলি ভাইয়ের ফিটনেসের কথা জানি। কিন্তু সামি যেভাবে কামব্যাক করেছেন, সেটা সত্যি অবিশ্বাস্য! খুবই রোগা ও আগের চাইতেও ছটফটে হয়ে উঠেছে!’
যদিও শুধু সিরাজ নন। বিরিয়ানির নামের পাশে ঢ্যাঁড়া দিয়ে ওজন ঝরিয়েছেন আরেক ক্রিকেটার সরফরাজ খানও। তাও এক-দুই নয়, পাক্কা ১৭ কেজি। স্রেফ দু’মাসে। গোলগাল চেহারা উবে গিয়ে এখন তিনি নিপাট, নির্মেদ, ঝরঝরে (Sarfaraz Khan Transformation)। শুধুমাত্র কায়িক পরিশ্রমেই মেদ গলেনি। খানাপিনাতেও লাগাম টানতে হয়েছে। ছেড়েছেন ভাজাভুজি—এ তো অনেক আগেই চাউর হয়েছিল। চলতি বছর মে মাসে, সরফরাজ যখন ইন্ডিয়া এ টিমের হয়ে ইংল্যান্ড সফরে, তখন তাঁর বাবা নওশাদ খান ফাঁস করেন ছেলের কঠোর ডায়েটের (Sarfaraz Khan’s Diet) রহস্য!
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা খাবারের উপরে কড়া নিয়ন্ত্রণ এনেছি। গত এক-দেড় মাস ধরে বাড়িতে রুটি-ভাত খাওয়া বন্ধ। খাচ্ছি ব্রকোলি, গাজর, শসা, নানা রকমের সবুজ সালাড। তার সঙ্গে গ্রিল করা মাছ, চিকেন, সেদ্ধ ডিম ইত্যাদি। পানীয়ের তালিকায় আছে গ্রিন টি আর গ্রিন কফি।’
শুধু তাই নয়, সরফরাজ খাবারের লিস্টিতে চিনি, ময়দা ও সমস্ত রকমের বেকারিজাত খাবারের জায়গা নেই। নওশাদের কথায়, ‘আমরা অ্যাভোকাডো, অঙ্কুরিত ছোলা এসবও খাই। কিন্তু আসল জিনিসটা হল—রুটি, ভাত, চিনি, ময়দা আর পেস্ট্রিজ একদম বন্ধ করে দেওয়া!’ একটা সময়ে অন্যতম প্রিয় খাবার ছিল বিরিয়ানি, ফিটনেস ঠিক করতে তাকেও চিরতরে বিসর্জন দেন সরফরাজ।
কিন্তু কেন সবার আগে বিরিয়ানিই বাদ পড়ে? ফিটনেস বাড়াতে, ওজন কমাতে এই ডিশ কীভাবে বাধা দেয়?
আসলে সহজ ভাষায় বললে, বিরিয়ানি ক্যালোরির বোমা। এক প্লেট চিকেন বিরিয়ানিতেই থাকে প্রায় ৭০০–৮০০ ক্যালোরি। মাটন বা স্পেশ্যাল বিরিয়ানিতে যা বেড়ে গিয়ে হাজারের কাছাকাছি পৌঁছয়। এদিকে ওজন কমানোর মূল মন্ত্রই হল ‘খরচ হওয়া ক্যালোরির চেয়ে কম খাওয়া’। কিন্তু বিরিয়ানির এক প্লেটই দিনের ক্যালোরি বাজেট অর্ধেকের বেশি শেষ করে দেয়।
এই ডিশের মূল উপাদান সাদা চাল। যা দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। সুগার হঠাৎ বাড়া-কমার ফলে দ্রুত ক্ষিদে পায়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা ওজন কমানোর পথে বড় বাধা।
তা ছাড়া বিরিয়ানির সুগন্ধ ও স্বাদ আসে তেল, ঘি ও ভাজা পেঁয়াজ থেকে। ঘি ও তেল ক্যালোরি-বুস্টার। ভাজা পেঁয়াজ বা কিসমিস-বাদামে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট। ফলে অজান্তেই প্লেটে উঠে আসে কয়েকশো ক্যালোরি।
এতকিছুর মধ্যে বিরিয়ানিতে মাংস থাকলেও ফাইবার প্রায় নেই বললেই চলে। ফাইবার পেট ভরা রাখে, হজমে সাহায্য করে। কম থাকলে খিদে দ্রুত ফিরে আসে, ওজন কমানো কঠিন হয়।
শারীরিকভাবে সমস্যা তৈরির পাশপাশি বিরিয়ানি মানসিক ফাঁদ তৈরি করে। অনেকেই মনে করেন, বিরিয়ানি খেলে দিনভর আর বিশেষ কিছু খেতে হবে না। কিন্তু এটা মেনে চলা কার্যত অসম্ভব। যা ‘চিট মিল সিন্ড্রোমে’র সমস্যা পাকিয়ে তোলে।